kalerkantho


পড়াশোনায় ঘৃণা প্রেম টমাহকে

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পড়াশোনায় ঘৃণা প্রেম টমাহকে

মাইকেল ওলফের ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ গ্রন্থ নিয়ে কেন তোলপাড়? জানতে পড়ুন বাছাই অংশ। ভাষান্তর : গাউস রহমান পিয়াস

 

‘এ কাজ তুমি করতে পারো না ডোনাল্ড। তুমি একটি বিছানা বানিয়েছ, তাতে ব্যাননকে তুলেছ। তার কথা না শোনো, একমত না হও, ঠিক আছে;  কিন্তু তোমরা সংসার গড়েছ। এখনই তোমরা ডিভোর্সে যেতে পারো না।’ ট্রাম্পকে সাবধান করে দিলেন রজার আইলস, ব্যাননের পক্ষ নিয়ে। প্রেসিডেন্টের জামাতা কুশনারের পকেটের লোক মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক হাঁটলেন তাঁদের পথে; ট্রাম্পের প্রধান কৌঁসুলি স্টিভ ব্যানন বিদায় হলেই ভালো, হোয়াইট হাউস জঞ্জালমুক্ত হোক। কিন্তু প্রেসিডেন্টের হাত-পা বাঁধা! ব্যাননকে হোয়াইট হাউসে ঢুকিয়েছেন বব মারসার। নির্বাচনে জেতার পেছনেও মারসারস কম্পানির অবদান ছিল। ব্যাননকে বের করে দিলে সবাই মিলে পিছে লাগবে। ব্যাননকে নিয়ে যে সেদিন বৈঠক হলো, বব মারসার কয়েকবার কঠিন চোখে ট্রাম্পকে দেখেছেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেননি, এড়িয়ে গেছেন। মার্চের শেষ দিকে দুই পক্ষে সমঝোতা হলো। মারসারস কম্পানি ঝামেলা করবে না, ব্যাননও হোয়াইট হাউসে থাকবেন। এতে খুশি হওয়ার কথা না জারভানকা শিবিরের! ট্রাম্প মেয়ে ও জামাতাকে খুশি করতে বিনিময়ে কিছু দিতে চাইলেন। এমন কিছু, যা তাঁদের শক্তি বাড়াবে। ২৭ মার্চ সৃষ্টি করা হলো নতুন প্রতিষ্ঠান, দ্য অফিস অব আমেরিকান ইনোভেশন। প্রধান হলেন কুশনার। ইভানকা-কুশনার নিশ্চিত ছিলেন ট্রাম্পকে ধীরে ধীরে তাঁরা যোগ্য করে তুলতে পারবেন; তা যদি না-ও হয় অন্তত রিপাবলিকান দলের স্বার্থের ভারসাম্যটি রক্ষা করবেন। প্রেসিডেন্টও মেয়ে ও জামাতার কথার দাম দিতেন খুব।

ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালনকারী কেটি ওয়ালশের মতে, এই লড়াইয়ে ব্যানন নিজেকে ভাবতেন ডার্থ ভ্যাডার, যার অন্ধকার জগতে বাস করতেন ট্রাম্প। ব্যাননেরই নকশা ধরে ট্রাম্প পাস করলেন নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৩৭৮৩। এক স্বাক্ষরেই যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে এলো জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ আন্দোলন থেকে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র।

৩ এপ্রিল কুশনারকে দেখা গেল উড়ছেন ইরাকের আকাশে। হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইরাক সরকারকে সমর্থন জানাতেই কুশনারের এই ইরাক সফর। তবে অনেক টিভি পর্দার একটিতে কুশনারের হেলিকপ্টারে করে বাগদাদের ওপর দিয়ে উড়ালযাত্রার দৃশ্য দেখতে দেখতে ব্যাননের মনে পড়ল একটি দৃশ্য—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে করে ইরাকে উড়ে বেড়াচ্ছেন গর্দভ ও আনাড়ি জর্জ ডাব্লিউ বুশ। যেন নিজেকে শোনাতেই ব্যানন বলে উঠলেন—মিশন অ্যাকমপ্লিশড! অভিযান সফল! এরপর দাঁত কিড়মিড় করতে করতে ব্যানন দেখলেন, ট্রাম্পিজম-ব্যাননিজম থেকে সরে গিয়ে হোয়াইট হাউসের কাঠামোগুলো উল্টো দিকে ঘুরছে। মুখ্য কৌঁসুলি ব্যানন তখনও বিশ্বাস করছিলেন প্রশাসনকে তাঁর কাছে আসতেই হবে। কারণ তখনো মনে হচ্ছিল তাঁরই ঘাড়ে বর্তেছে জাতিকে রক্ষার দায়।

এপ্রিলের দিকে একটি ই-মেইল হোয়াইট হাউসে ভাইরাল হলো। কপি পেস্ট করে একজন আরেকজনকে পাঠাচ্ছিলেন। মেইলে কেউ একজন লিখছেন, ‘তোমরা যা ভাবছ পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি ভয়াবহ। একটি গর্দভকে ঘিরে আছে এক দল ভাঁড়। ট্রাম্প কিছুই পড়বে না, এমনকি এক পৃষ্ঠার মেমোও না। নীতিনির্ধারণী বিষয়ক কম কথার নথিগুলো পর্যন্ত না। কিছুই না। বিশ্বনেতার সঙ্গে সভায় বসেও তিনি মাঝসময়ে উঠে পড়ছেন ত্যক্ত হয়ে। তাঁর কর্মীগুলোও তেমন! কুশনার তো শিশুই, জানে না কিছু। ব্যানন একরোখা, যত না স্মার্ট, তার চেয়ে বেশি ভাব নেয়। ট্রাম্প তো মানুষের পর্যায়েই পড়ে না, একতাল উদ্ভট আচরণের সমাহার। দেশ এই প্রথম বছরেই কেউই টিকবে না, ট্রাম্প পরিবার ছাড়া। আমি এখানে আমার কাজকে ঘৃণা করছি, তার পরও হাল ছাড়ছি না। কারণ কেবল আমারই হাতে ক্লু আছে তিনি কী কী করছেন, যা দেখে দেখে আমি স্তম্ভিত, হতবাক।’

৪ এপ্রিল মঙ্গলবার। সকাল ৭টার একটু আগে ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির ৭৪তম দিনে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত খান শেইখুন শহরে রাসায়নিক অস্ত্রে হামলা চালাল। মারা যায় অসংখ্য শিশুসহ অনেকে। হোয়াইট হাউসে সবার কপালে ভাঁজ—ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? আদৌ কি প্রেসিডেন্ট প্রতিক্রিয়া দেখাবেন? কেমিক্যাল অ্যাটাকের খবরটি কি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, নাকি কিছুই বলবেন না! এত দিন প্রেসিডেন্ট ভেতরের ঝুট-ঝামেলা দেখেছেন, এই প্রথম বাইরের বড় ঘটনা তাঁকে অগ্নিপরীক্ষায় ঠেলে দিল। তাঁর উপদেষ্টারাও জানেন না, ট্রাম্প কি নিভৃতকামী, নাকি যুদ্ধংদেহী। এই দুটিতে যে পার্থক্য আছে, তা-ও বা তাঁর জানা আছে তো?

ট্রাম্পকে ঘিরে আছেন এক দল জেনারেল। তাঁর ধারণা, আর্মি অফিসারদেরই কাজ নেতৃত্ব দিয়ে পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নেওয়া। কী করা উচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে—কেউ তাঁকে বলুক, এও তাঁর পছন্দ না। পররাষ্ট্রনীতিতে নিজে অনভিজ্ঞ, এর পরও বিশেষজ্ঞদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। তথ্য-উপাত্ত, বিশদ বিবরণ, বিকল্প ধারণা, বিশ্লেষণ—কিছুরই পক্ষে না ট্রাম্প। পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করেননি কোনো দিন। প্রফেসর শব্দটি তাঁর কাছে গালিমাত্র। গর্ব করেন ক্লাসে না যাওয়া, কোনো দিনই বই না কেনা, নোট না নেওয়ার স্মৃতিচারণায়। প্রিয় ছিল স্কুল পালানোর কাজটি। বেঞ্চ ছেড়ে দাঁড়াও ও বেরিয়ে পড়ো! জেনারেলদেরও খুব পছন্দ ট্রাম্পের। যার কাঁধে যত বেশি ফলের ছবি সে তত ভালো। তবে এই জেনারেলদের বক্তৃতাও তাঁর অপছন্দ। কারণ তাঁরা পাওয়ার পয়েন্ট, ডাটাসহ কী কী নিয়ে কথা বলে।

সিরিয়ার রাসায়নিক হামলার সময় ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার। তবে মাত্র ছয় সপ্তাহ হয়েছে এসেছেন। ফ্লিনকে বরখাস্ত করার পর মার-এ-লাগোতে দুই দিন ধরে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ট্রাম্প নতুনের খোঁজে। ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমির সুপারিনটেনডেন্ট রবার্ট কাসলেন সাক্ষাৎকার দিলেন। কথাগুলো ছিল—ইয়েস, স্যার। নো, স্যার। এটাই ঠিক, স্যার। সত্যি চীনের কিছু সমস্যা আছে, স্যার। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘একেই আমার চাই। সেই চেহারাটা তার আছে।’ কিন্তু কাসলেনকে অতি বিনয়ী মনে করলেন কুশনার। তিনি এবার হাজির করলেন ম্যাকমাস্টারকে। উর্দি পরা ম্যাকমাস্টার বিশ্বকৌশল নিয়ে লম্বা বক্তৃতা দিলেন এবং যথারীতি ট্রাম্পের মনোযোগ ছুটে গেল। ম্যাকমাস্টার বিদায় হওয়ার পরপরই বলেই ফেললেন ট্রাম্প, ‘বিরক্তিকর, আমার বর্জ্য পর্যন্ত বের করে দিল।’ পরের দিনও ডাকা হলো ম্যাকমাস্টারকে, এবার পরনে ব্যাগি স্যুট। ‘তাকে তো ভালুক বিক্রেতা মনে হচ্ছে!’ বলেছিলেন ট্রাম্প। নিতে রাজি হলেও বলে দিয়েছিলন, আর কোনো সাক্ষাৎকার নয়! চাকরি পাওয়ার পরপরই ম্যাকমাস্টার হাজির টেলিভিশনের মর্নি জো অনুষ্ঠানে। দেখে বিস্মিত ট্রাম্প, ‘আরে, মিডিয়ার সঙ্গে তার তো ভালো সম্পর্ক!’ প্রেসিডেন্ট ভাবলেন, নাহ, তাঁর বাছাই মন্দ হয়নি।

৪ এপ্রিল, সকাল গড়িয়ে এসেছে। সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা নিয়ে হোয়াইট হাউসে বিস্তারিত ব্রিফিং হবে। সবাই ভাবল, একটা নৈতিক জবাব দেওয়ার মোক্ষম মওকা পাওয়া গেল এবার। এ ধরনের হামলায় বারাক ওমাবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। নিশ্চয়ই ট্রাম্প দেখিয়ে দেবেন! এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট সম্মতি দিয়েছেন ম্যাকমাস্টারের এক দাবিতে—ব্যাননকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে, তবে ঘোষণাটি আসবে আগামীকাল। বিকেল পর্যন্ত সিরিয়া ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্ত হলো না। ট্রাম্পকে দেখাচ্ছে নির্বিকার। ব্যানন তাঁর ‘আমেরিকা আগে’ নীতিতে অটল, ‘হামলা হয়েছে সিরিয়ায়, আমাদের কী! এর চেয়ে জঘন্যতম হামলা কি আগে হয়নি!’ ব্যাননের দৃষ্টিভঙ্গি শুধু নিভৃতবাদিতা নয়, প্রলয়কামীও। বিশ্বের বেশির ভাগ পুড়ে ছারখার হয় হোক, যুক্তরাষ্ট্রের বেশি কিছু করার নেই। তাঁর এই নিষ্ক্রিয়তার নীতি সাংঘর্ষিক দেখাচ্ছিল দেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে। বাইরে কিছু ঘটবে, যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, এ হয় না। হতে পারে না। সিরিয়া হামলার পরদিন ঘোষণা এলো ব্যাননকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছিল মধ্যপন্থীদের উল্লেখযোগ্য বিজয়। দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা নেতৃত্বে বড় রদবদল ঘটল, সামনে এলো তথাকথিত কিছু যুক্তিবাদী মুখ। তাদের একটাই চাওয়া এখন—প্রেসিডেন্টকে যুক্তির বৃত্তে রাখা।

ডিনা পাওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে ইভানকা চেষ্টা করে আসছিলেন বাবাকে স্বাভাবিক আচরণে আনতে। ওই দিনই বিকেলে ইভানকা ও ডিনা সিরিয়ার হামলার ভয়াবহতা দেখালেন বড় পর্দায়। দৃশ্যগুলো ছিল ভয়াবহ। শিশুদের মুখ থেকে ফেনা বেরোচ্ছে। ট্রাম্প কয়েকবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখলেন। ওই দিনই বিকেলে ট্রাম্প কোনো এক বন্ধুকে বলছিলেন, ‘ফেনা আর ফেনা। আর সবাই ছিল শুধু শিশু।’

৫ এপ্রিল বুধবার ট্রাম্পকে ব্রিফিং করা হলো। বলা হলো কী কী উপায়ে সিরিয়াকে শায়েস্তা করা যায়। আরো একবার ম্যাকমাস্টার অনেক তথ্য একসঙ্গে দিয়ে ট্রাম্পকে ক্লান্ত করে দিলেন। আর ট্রাম্পকে দেখাচ্ছিল হতাশ, কেউ তাঁকে চালিত করছে—এ অনুভূতি তাঁর ভালো লাগছিল না।

পরদিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উড়লেন ফ্লোরিডার উদ্দেশে, সেখানে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। হেনরি কিসিঞ্জারের সহায়তায় বৈঠকের আয়োজন করেছেন কুশনার। এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে মধ্য আকাশেই বসল জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক। সিদ্ধান্ত হলো, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা হবে। আল শাইরাত বিমানঘাঁটিতে হামলাটি চালাবে মিলিটারি। সেই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলেন, দ্রুত আঘাতটি হানার প্রস্তুতি নাও। সময় বলে দিলেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যাত্রা করছিলেন সাংবাদিকরাও। ট্রাম্প তাঁদের কাছে যখন ফিরলেন নীতিনির্ধারণী ওই বৈঠক সেরে—তাঁর মুখ হাসি হাসি। কী সিদ্ধান্ত হয়েছে গোপন রেখে এ নিয়ে হালকা রসিকতা করলেন ট্রাম্প। আরো এক ঘণ্টা পর বিমান মার-এ-লাগোর মাটি স্পর্শ করল।

৫টার কিছু পর এলেন চীনা প্রেসিডেন্ট সস্ত্রীক। অতিথিরা টেবিলে। প্লেটে পড়েছে সবুজ শিম, গাজরের লাল টুকরা! ঠিক ওই সময় আল শাইরাত ঘাঁটিতে পড়ল টমাহক। রাত ১০টার খানিক আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন, মিশন সফল! এ আনন্দের মুহূর্তের স্মৃতি ধরে রাখতে সবার গ্রুপ ছবি তোলা হলো। ভীষণ উত্ফুল্ল ট্রাম্প। পামগাছ ও ম্যানগ্রোভের ফাঁকে ফাঁকে বসা অতিথিদের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছেন। এক বন্ধুকে ফোন করে বললেন, ‘ওইটা না অনেক বড় ছিল!’ একই রকম খুশি পুরো ট্রাম্প বাহিনী। দুর্পাঠ্য প্রেসিডেন্টকে কিছুটা হলেও পড়া যাচ্ছে! আনম্যানেজেবল প্রেসিডেন্ট, এখন ম্যানেজেবল!

(১৩ ও ১৪ অনুচ্ছেদ থেকে)


মন্তব্য