kalerkantho


এইচআরডাব্লিউয়ের প্রতিবেদন

মানবাধিকার লঙ্ঘন করে জবাবদিহির বাইরে

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রশংসার দাবিদার

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মানবাধিকার লঙ্ঘন করে জবাবদিহির বাইরে

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, গোপনে আটক রাখার গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশ তা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সংস্থাটির অভিযোগ, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দোষীদের জবাবদিহির আওতায় না এনে উল্টো অভিযোগই অস্বীকার করেছে। এইচআরডাব্লিউয়ের ২০১৮ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আশ্রয়প্রত্যাশী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেয়নি। তবে বাংলাদেশি জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়েছে।

এ বছর ৬৪৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউ বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। প্রতিবেদনের প্রারম্ভিক প্রবন্ধে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ লিখেছেন, রাজনৈতিক নেতারা মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পক্ষে দাঁড়ালে কর্তৃত্ববাদী এজেন্ডাগুলোর লাগাম টানা সম্ভব।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রাজনৈতিক বিরোধী ও সন্দেহভাজন জঙ্গিদের লক্ষ্য করে তত্পরতা অব্যাহত রাখায় অসংখ্য বাংলাদেশি গুমের শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। তারা জবাবদিহির বাইরে আছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গত আগস্ট মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যের ছয় লাখ ৫৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে তারা দেশ ছেড়েছে। আরো আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

এইচআরডাব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বের না করে দেওয়ায় এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাদের জন্য সময়োপযোগী সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। তবে বাসযোগ্য নয়, এমন দ্বীপে তাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা বা নাগরিকত্ব ও অধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়াই তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উদ্যোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।

এইচআরডাব্লিউ বলেছে, ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচার ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি’ সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমানে বিজিবি) প্রায় ১৪০ জন সদস্যের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমসহ নাগরিক সংগঠনগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তিগুলোর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফেসবুকে সরকার বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করার অভিযোগে ‘কয়েক ডজন’ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। ২০১৭ সালে অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক আহত হন। এদের মধ্যে একজন রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর সংগ্রহের সময় হত্যার শিকার হন। এনজিওগুলো নিয়ন্ত্রণে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছা কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন মত প্রকাশে স্বাধীনতায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাল্যবিয়ে নিরোধের সরকারি নীতি থাকা সত্ত্বেও গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার এমন একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে ব্যতিক্রমী প্রেক্ষাপটে ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশুদের বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে বিয়ের ন্যূনতম বয়স কমানো হয়েছে বলে মনে করে এইচআরডাব্লিউ।

সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানবাধিকার রেকর্ডে ভালো কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ভিন্নমতাবলম্বীদের স্তব্ধ করে দেওয়ার সব চেষ্টা বন্ধ করা অপরিহার্য।


মন্তব্য