kalerkantho


সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি সবজির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি সবজির

ভরা মৌসুমেও শীতের সবজির বাজার চড়া প্রায় দেড় সপ্তাহ ধরে। তিন-চার দিন আগের তুলনায় সবজির সরবরাহ বাড়লেও সেই তুলনায় দাম কমেনি। তবে আগামী সপ্তাহে সবজির দাম কমতে শুরু করবে বলে আশার কথা শুনিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

সবজি ব্যবসায়ীদের দাবি, কুয়াশার কারণে ট্রাক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীতে সবজি সরবরাহে সংকট দেখা দেয়। তা ছাড়া অতিরিক্ত শীতে কৃষি শ্রমিকের অভাবে কৃষক ক্ষেত থেকে ফসল তুলতে পারছে না। আবার যে কয়েকটি ট্রাক আসছে সেগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে সবজির বাজার চড়া।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, যেসব সমস্যার কথা বলে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে সেখানেও ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। কারণ অলিগলির দোকানগুলোও সবজিতে ভরা। কিছু সংকট যদি হয়েও থাকে তাতে এক সপ্তাহেই দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কথা নয়।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজের পাশের বাজারে নিত্যপণ্য কিনছিলেন এহসানুল কবীর নামের এক ছাত্র। এ দোকান ও দোকান ঘুরে বারবার বেগুন, শিম, কপির দাম জিজ্ঞাসা করে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না তিনি। কারণ সব দোকানেই বেশি বেশি দাম চাওয়া হচ্ছিল। তিনি এক দোকানির কাছে জানতে চাইলে তাঁকে বলা হলো, আড়তে দাম বাড়তি; বেশি দামে কিনে আনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এহসানুল কবীর বলেন, ‘আটজনের মেসে সপ্তাহে আমাকে একবার বাজার করতে হয়। কিন্তু কয়েক দিন আগেও তো এত দাম ছিল না। কী এমন হলো যে বিভিন্ন জিনিসের দাম একেবারে দ্বিগুণ।’

একই বাজারের আরেক ক্রেতা প্রতি কেজি শিমের দাম ৭০ টাকা শুনে অনেকটা আঁতকে উঠলেন। রাগত স্বরে এত বেশি দামের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা একটু হেসেই বলেন, ‘আমরা কী করব? বেশি দামে কিনছি। তবে আপনি এক কেজি নিলে পাঁচ টাকা কম রাখব।’  

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দু-তিন রকমের শিম বিক্রি হচ্ছে, ৪৫-৭০ টাকা পর্যন্ত দামে। তিন-চার দিন আগেও বেগুন ছিল প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা। কিন্তু এখন তা বাজারভেদে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ফুলকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৩৫-৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে কেজি ৫০-৬০ টাকা, আলুর কেজি ২৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০-১০০ টাকা, পেঁপের কেজি ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, কচুর লতির কেজি ৬০-৬৫ টাকা।

এদিকে মেহেরপুরে সবজির পাইকারি বাজার বড়বাজারে কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধির মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি টমেটোর দাম বেশি হলেও হাইব্রিড টমেটোর দাম অনেক কম। প্রতি কেজি টমেটো আট টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

অথচ ঢাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেই টমেটো ঢাকার বাজারে খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে।

হাতিরপুল কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম, মূসা মিয়াসহ আরো কয়েকজনের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তাঁরা এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কারণ মেহেরপুরে পাইকারি বাজারে যে হাইব্রিড টমেটো ১৫-১৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, তা ঢাকায় খুচরা বাজারে চাওয়া হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতা বলছেন, শীতের তীব্রতা দু-তিন দিনে একটু কমায় সবজি পরিবহনের ট্রাকগুলোও বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী সপ্তাহে বাজার স্বাভাবিক হবে।

সবজির আড়তদার হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমস্যা সাময়িক, এটা বেশি দিন থাকবে না। সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে।’

এদিকে বাজারে অনেক দিন ধরেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এখনো প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দামও একই রকম। এ ছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি দরে। আর গরুর গোশত ৪৭০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি। লেয়ার মুরগির প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৬-২৮ টাকা করে। তবে চালের বাজার বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। 


মন্তব্য