kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অধিভুক্তি বাতিল চেয়ে আজও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাবি প্রতিনিধি    

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অধিভুক্তি বাতিল চেয়ে আজও বিক্ষোভ

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। তবে তারা তিন দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। এর অংশ হিসেবে আজ রবিবারও দুপুরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে।  গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এক সংহতি সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দাবি তিনটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং প্রক্টরের পদত্যাগ ও মামলা প্রত্যাহার। গতকাল তাদের সমাবেশে এসে সংহতি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষকসহ পেশাজীবীরা।

গতকাল বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, আইনজীবী হাসানাত আব্দুল কাইয়ুম, শিশু ও শিক্ষা রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক রাখাল রাহা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, সমাজকর্মী জাকিয়া শিশির প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সামিনা লুত্ফা ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

এম এম আকাশ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অধিভুক্ত বাতিল ও অধিভুক্ত কলেজগুলোর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা। প্রশাসন সেটা না করে বিশেষ দলের কর্মী বাহিনী ডেকে আন্দোলনকারীদের ওপর লেলিয়ে দিয়েছে, যা অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উচিত ছিল নিরপেক্ষ থাকা। কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের প্রক্টর। তিনি বলেন, ন্যায্য প্রশ্নে আন্দোলনে প্রশাসনের সঙ্গে বসে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে। মামলা দিয়ে সমাধান হবে না।

শিক্ষার্থী আবু রায়হান খান বলেন, ‘নিপীড়কদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৪৮ কর্মঘণ্টার আলটিমেটাম চলছে। কিন্তু তাদের শাস্তি না দিয়ে উল্টো শাস্তি চাওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারপর আমরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে বলেছিলাম; আমরাই আন্দোলনকারী, আমাদের গ্রেপ্তার করুন। কিন্তু প্রশাসন আমাদের গ্রেপ্তার করছে না। এর মানে আমাদের দাবি যৌক্তিক আর প্রশাসনের মামলা ভিত্তিহীন। আমাদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তবে মামলা প্রত্যাহার করুন। একই সঙ্গে নিপীড়নকারীদের শাস্তি দিন। ’

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চেয়ে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ে অবস্থান করার সময় গত সোমবার ছাত্রলীগের হল শাখার নেতাকর্মীরা ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও কটূক্তি করে। আন্দোলনের একজন উদ্যোক্তাকে মারধর করে পুলিশেও দেয় প্রশাসন। নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে আন্দোলন চালিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। এর একপর্যায়ে বুধবার প্রক্টর অফিসসংলগ্ন প্রবেশ পথ ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করে প্রশাসন। এরপর রাতে বিক্ষোভ মিছিলের পর থেকেই ‘আমিই অজ্ঞাতনামা আমাকে গ্রেপ্তার করুন’ প্ল্যাকাডে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয় কিছু শিক্ষার্থী। শুক্রবার রাতে মশাল মিছিলও করে তারা। গতকাল অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।


মন্তব্য