kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে সংকট নিরসনের সর্বাত্মক চেষ্টা

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে সংকট নিরসনের সর্বাত্মক চেষ্টা

ছবি : কালের কণ্ঠ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সরকারি সেবা বন্ধ হওয়ার দায় পরস্পরের ওপর চাপিয়ে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটও অব্যাহত আছে। তবে আজ সোমবার প্রথম প্রহরেই একটা সমঝোতায় আসার ব্যাপারে ভীষণ প্রত্যয়ী রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল। এসবের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ। 

অর্থসংকটে থাকা মার্কিন প্রশাসনের কার্যক্রম চালু রাখতে চার সপ্তাহের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাসের যে প্রস্তাব ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা করেছিল, গত শুক্রবার মধ্যরাতের ভোটাভুটিতে সেটা আটকে দেয় ডেমোক্র্যাটরা। ‘ডেফারড অ্যাকশন অন চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডিএসিএ)’ শীর্ষক অভিবাসী কর্মসূচি নিয়ে দুই দলের মতবিরোধের জেরে এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। শিশুকালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সাত লাখ অভিবাসীকে সুরক্ষা দিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন; কিন্তু ট্রাম্প এর তীব্র বিরোধী।

ডিএসিএ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেটার প্রভাব কর্মদিবসের শুরুর দিন আজ থেকে ব্যাপকভাবে বোঝা যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িসের হিসাবে প্রায় সাড়ে আট লাখ কর্মীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হতে পারে।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্সির প্রথম বছর পূর্তির সব আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হওয়ায় ট্রাম্প টুইটারে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। গত শনিবার করা টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমার প্রেসিডেন্সির প্রথম বছর পূর্তি আর ডেমোক্র্যাটরা আমাকে সুন্দর এক উপহার দিতে চেয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আমাদের মহান সেনাবাহিনী অথবা আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে যতটা নয়, তার চেয়ে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।’

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠদের দলনেতা মিচ ম্যাককনেল মনে করেন, সরকারি সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ‘পুরোপুরি এড়ানো যেত’। কিন্তু স্বল্পকালীন বরাদ্দ আটকে দিতে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ‘অভাবিত পদক্ষেপ নিয়েছেন’, যার ফলে দেশকে এ সংকটের মুখে পড়তে হলো। ম্যাককনেল অবশ্য সাংবাদিকদের এটাও বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি, সোমবার ১টায় (রবিবার দিনগত রাত ১টা) আমরা ভোট আদায় করব। যদি অন্য কেউ সেই ক্ষণটা এগিয়ে আনতে চায়, তো ভিন্ন কথা।’ চার সপ্তাহের বরাদ্দ পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর গত শনিবার তিন সপ্তাহের বরাদ্দ পাসের প্রস্তাব করেন ম্যাককনেল। সিনেটে প্রস্তাবটি পাস করাতে ৬০ ভোটের প্রয়োজন। কিন্তু রিপাবলিকানদের হাতে আছে ৫১ ভোট।

এদিকে সিনেটে সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাটদের নেতা শুমারের দাবি, ট্রাম্পের অস্থিরতাই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘সব সময় এদিক-ওদিক করতে থাকলে তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করা অসম্ভব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুবই অস্থির। তাঁকে রাজি করানো অসম্ভব।’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য