kalerkantho


আদালতের নির্দেশ থাকলেও হয়নি ভাষা জাদুঘর

আশরাফ-উল-আলম   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আদালতের নির্দেশ থাকলেও হয়নি ভাষা জাদুঘর

হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দেওয়ার পরও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। শহীদ মিনার দখলমুক্ত করা হয়েছে। পবিত্রতা রক্ষার জন্য লোক নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ভাষা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়নি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে শুধু লেখালেখি চলছে। ভাষাশহীদ ও ভাষাসৈনিকদের পুরো তালিকা করা হয়নি। শুধু আংশিক তালিকা পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠকে বলছিলেন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

বেসরকারি এই পরিবেশবাদী সংগঠনটি শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা এবং জাদুঘর স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করলে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট একটি রায় দেন। রায়ে শহীদ মিনারের পাশে গ্রন্থাগারসহ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, জাদুঘরে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসসমৃদ্ধ তথ্যপঞ্জিকা রাখা, ভাষাসংগ্রামীদের প্রকৃত তালিকা তৈরি ও প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ ও মর্যাদা রক্ষাসহ আটটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পূর্ত মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করে রিটকারী সংগঠনটি। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই সচিব আদালতে হাজির হলে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আরেক আবেদনে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্টের সব নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই সব নির্দেশনার মাত্র আংশিক বাস্তবায়ন হয় এবং বাকি নির্দেশনা বাস্তাবায়ন করতে দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশনার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশের জায়গা দখলমুক্ত হয়েছে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাষা জাদুঘর এখনো নির্মিত হয়নি। এ মন্ত্রণালয় সে মন্ত্রণালয়ে নথি ঘুরছে। কবে নির্মাণকাজ শুরু হবে কেউ জানে না। ভাষাশহীদ তালিকা করা শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি। ভাষাসৈনিকদেরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মত হচ্ছে, মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে সংগ্রাম হয়েছে। জীবন বিলিয়ে দিয়েছে বাংলার সূর্যসন্তানরা। বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির নেই। এ ছাড়া  জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনেসকো বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেহেতু বাংলা ভাষার ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনেক সমৃদ্ধ, সেখানে এসব তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য একটি ভাষা জাদুঘরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন অনেকেই। তাঁরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আছে। থাকা উচিত ভাষা জাদুঘরও। তখন মানুষ বাংলা ভাষা নিয়ে যে সংগ্রাম, বাংলা ভাষার যে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ভাষার জন্য জীবন দানকারী শহীদদের পরিচয়, ভাষাসৈনিকদের পরিচয় জানতে পারবে।


মন্তব্য