kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

জামায়াত-হেফাজত নিয়ে টেনশনে বিএনপি

কমিটি না হওয়ায় অনৈক্য বেড়েছে দলেও

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



জামায়াত-হেফাজত নিয়ে টেনশনে বিএনপি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত ও হেফাজত নিয়ে টেনশন বাড়ছে বিএনপিতে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি না হওয়ায় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে অনেকে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এসব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয় গাজীপুর। সে বছরের জুনে নির্বাচন হয়। তখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মহানগর কমিটি ছিল না। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্বাচনের পর দল ও সহযোগী সংগঠনের মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি করা হবে। পদ পাওয়ার আশায় নেতাকর্মীরা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নানের পক্ষে দিন-রাত কাজ করে। নির্বাচনের পর কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও সিনিয়র নেতাদের অনৈক্য ও দলাদলির কারণে কোনো কমিটিই করা যায়নি। বরং বেড়েছে তিক্ততা। জেলা বিএনপির কমিটির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। জেলা ছাত্রদল, যুবদলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের কমিটি নেই ১৮ বছর। বারবার ঘোষণা দিয়েও কমিটি না করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। আসন্ন নির্বাচনে নেতাকর্মীরা গত নির্বাচনের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে দলে এবং বাইরেও রয়েছে নানা জল্পনা।

জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার দাবি, গত নির্বাচনে বিএনপির বিপুল ভোটে বিজয়ের পেছনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোটসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা ছিল। তারা দিন-রাত শ্রম দেওয়ায় বিজয় সহজ হয়েছিল। এবার হেফাজত সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। মহানগর উন্নয়ন ফোরামের ব্যানারে মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মো. সানাউল্লাহ মিয়ার পক্ষে মাঠে নেমেছে দলটির বিপুলসংখ্যক কর্মী। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী ঐক্যজোটও মেয়র পদে আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে বিএনপির জন্য তা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। হেফাজত কী করে সেটি নিয়েও টেনশনে আছে বিএনপি। যদিও অনেকের ধারণা, নানা কারণে সরকারের সঙ্গে মিশলেও হেফাজতের ভোট বিএনপির বাক্সেই যাবে। আবার জামায়াতও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে।

মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে ২০ দলীয় জোটে আলোচনা চলছে। আশা করছি, জোট আমাকেই সমর্থন দেবে।’

তবে জেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা দাবি করেন, গাজীপুর মহানগরে তাঁদের প্রায় ৩০ হাজার ভোট রয়েছে। সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের আলোচনা চলছে। দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচির মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের সঙ্গে থাকায় গত নির্বাচনে আমরা নির্বাচন না করে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এখন আমরা কোনো জোটেই নেই। আমরা আলাদা নির্বাচন করছি। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে এখনো আলোচনা হয়নি। আমরা আলাদাভাবেই নির্বাচন করব।’

মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো জোট বা হেফাজতের সঙ্গে নেই। চরমোনাইয়ের পীর দলীয় চেয়ারম্যান মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের নির্দেশে আমরা নির্বাচনী মাঠে আছি।’

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন কাইয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ বলেন, গাজীপুর সিটির নির্বাচন বিএনপির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাসান উদ্দিন সরকারকে মনোনয়ন দেওয়ার পর অনেকে বলেছিল, বিদায়ী মেয়র মান্নান ও তাঁর সমর্থকরা তাঁকে মেনে নেবে না। সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দলের সবাই এখন একাট্টা। কমিটি থাকলে দল আরো বেশি উজ্জীবিত থাকত। তবে কমিটির চেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিজয় এখন তাদের কাছে বড়।

জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘এ মুহূর্তে হাসান সরকারের বিজয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। নেত্রী মুক্ত না হলে কমিটি করা সম্ভব নয় বলে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সব ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমরা ১৫ মে সব অপপ্রচারের জবাব দেব।’

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা সবার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেব। আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সব কিছুই করব।’

মেয়র পদে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের শরিক ও সমমনা অন্যান্য দলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনা করছেন। সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন বলে আশা করি।’

 



মন্তব্য