kalerkantho


নিরাপত্তায় রংপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপত্তায় রংপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের উপস্থিতি নির্বিঘ্ন করতে কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। এ জন্য রংপুর ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় ইসি। আসন্ন এ দুই সিটির নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৬ এপ্রিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান বা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, ভোটের দুই দিন আগে থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ  দুই সিটিতে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে প্রথম নির্বাচন হওয়ায় বেশি হারে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে ওই আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়েই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ছক চূড়ান্ত করবে ইসি।

ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা যেতে পারে। সর্বশেষ কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা ছিল। পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্সের দল থাকবে।

এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের দল এবং বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব-পুলিশের টিম ও কয়েক প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে রাখার সুপারিশও করেছে ইসি সচিবালয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষে প্রচারণা শুরু হলেই প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী হাকিম মাঠে থাকবেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামার পর তাদের নেতৃত্বেও থাকবেন নির্বাহী হাকিম। এ সময় প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে বিচারিক হাকিমও নিয়োগ করবে ইসি।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কারণ হিসেবে একজন সুপরিচিত নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাত মণ ঘি জুটেছে তাই রাধা নেচেছে।’ ওই নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের নিবিড় তদারকিকে ‘সাত মণ ঘি’ প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। গাজীপুর ও খুলনা সিটির নির্বাচনেও ইসি একই রকম ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ দুই সিটির  নির্বাচন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

 

 


মন্তব্য