kalerkantho


আইসিডিডিআরবির গবেষণা

পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই দূষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই দূষিত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশেরও বেশি সরাসরি পানের জন্য নিরাপদ নয়। ওই দুধ বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া এবং পাঁচটি জেলার ১৫টি হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনায় মলবাহিত কলিফর্ম পাওয়া গেছে। আর সবগুলো হিমাগার থেকে সংগৃহীত নমুনায় ই. কোলাই পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ নমুনা ই. কোলাই দ্বারা উচ্চমাত্রায় দূষিত। আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি তাদের নতুন এক গবেষণায় এমন চিত্র পাওয়ার কথা গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গবেষকরা শিশুদের পুষ্টির প্রাথমিক উৎস বাণিজ্যিকভাবে পাস্তুরিত দুধে অপ্রীতিকর এই ফলাফল দেখতে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে বিক্রির জন্য পাঠানো দোকান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দুধ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এটি বিপজ্জনক হতে পারে যদি এই দুধ ‘কাঁচা’ (ফোটানো ছাড়া) অবস্থায় পান করা হয়।

দুগ্ধশিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দুধের অণুজীব বিজ্ঞানগত মান যাচাই করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দুধ উত্পাদনকারী, হিমাগার এবং স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে কাঁচা দুধের ৪৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা এবং বগুড়ার বিভিন্ন দোকান থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা দুধের ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় দেখতে পান, প্রাথমিক দুধ উত্পাদনকারী পর্যায়ে ৭২ শতাংশ ও ৫৭ শতাংশ নমুনা যথাক্রমে কলিফর্ম এবং ফিক্যাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ায় দূষিত এবং নমুনাসমূহের ১১ শতাংশ উচ্চসংখ্যক ই. কোলাইয়ে। ফিক্যাল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। দুধে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির ফলে বোঝা যায় যে, দুধ জীবাণু বা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসে দূষিত, যা উষ্ণ রক্তের প্রাণীর মলে থাকতে পারে বা দুধ দোয়ানোর সময় দুধে মিশতে পারে।

উত্পাদনকারীদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের স্থানে দেখা যায়, নমুনাসমূহ উচ্চসংখ্যক কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ায় দূষিত এবং মলে দূষিত হওয়ার হার ছিল ৯১ শতাংশ আর ৪০ শতাংশ নমুনায় উচ্চসংখ্যক ই. কোলাই ছিল।

উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় দেখতে পান, পরীক্ষিত পাস্তুরিত দুধের নমুনার প্রায় ৭৭ শতাংশ  ব্যাকটেরিয়ার উচ্চ মাত্রাবিশিষ্ট, যা বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) মানদণ্ডকে (=২.০ঢ১০৪ সিএফইউ/এমএল) ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ নমুনা যথাক্রমে কলিফর্ম এবং মলবাহিত কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ায় দূষিত ছিল।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআরবির সহযোগী বিজ্ঞানী ও ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরির প্রধান এবং এই গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজারের পাস্তুরিত কাঁচা দুধে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে এবং এসব দুধ খুব ভালোভাবে না ফুটিয়ে খাওয়া উচিত নয়।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের প্রাথমিক উত্পাদনকারী পর্যায়ে এর দূষণের সঙ্গে গরুর প্রজনন প্রক্রিয়া, গরুর দ্বারা উত্পাদিত দুধের পরিমাণ, দুধ দোয়ানোর সময়, এবং যিনি দুধ দোয়ান তার হাত ধোয়ার অভ্যাসের মতো বিভিন্ন বিষয় জড়িত। সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর দুধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের দুগ্ধশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যকরভাবে দুধ দোয়ানো, সংগ্রহ ও সরবরাহ, সংরক্ষণ এবং পাস্তুরিত করার বিষয়ে যত্নবান হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেয়ার বাংলাদেশ-এর আর্থিক সহায়তায় ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য ডেইরি ভ্যালু চেইন (এসডিভিসি)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রংপুর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার মোট ১৮টি উপজেলায় এই গবেষণা পরিচালিত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য