kalerkantho


আইনি গলদে আড়ালে মাদকের হোতারা

আশরাফ-উল-আলম   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



আইনি গলদে আড়ালে মাদকের হোতারা

রাজধানীর সবুজবাগ থানা এলাকায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে সেটি থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ভ্যানের চালক মো. শওকত আলী ও সহকারী মো. সহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এ নিয়ে সবুজবাগ থানায় করা মামলায় (নম্বর ৩৬) ওই দুজন ছাড়া অন্য কাউকে আসামি করা হয়নি। মামলার এজাহার কলামে আসামিদের অপরাধ সম্পর্কে উল্লেখ আছে, ‘১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)-এর ৯ (খ) : বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদকদ্রব্য নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধ।’

জানা গেছে, আসামি সহিদুল অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে জামিনে আছে। সহজেই অনুমান করা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক সহিদুলকে দিয়ে অন্য কেউ ভয়াবহ ওই মাদক পাচার করাচ্ছিল; কিন্তু সে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখাকেই শুধু অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সুতরাং ওই অপরাধের পেছনে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার সুযোগ নেই। ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ ধারায় আইন ভঙ্গের শাস্তি সম্পর্কে বলা আছে। ওই ধারায় মাদকদ্রব্যের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়নি। ১৯(২) ও (৩) ধারায় ক, খ ও গ শ্রেণির মাদকদ্রব্য চাষাবাদ, উত্পাদন বা প্রক্রিয়াজাত করা বা বিক্রয় করার জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেউ যদি মাদকদ্রব্য চাষাবাদ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াকরণ, ধারণ, বিক্রয়, বহন, পরিবহন, সরবরাহ, আমদানি, রপ্তানি, গুদামজাত, প্রদর্শন,

প্রয়োগ ও ব্যবহার করে তাহলে সেই ব্যক্তি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শাস্তির আওতায় আসবে। এসব ক্ষেত্রে শাস্তি দিতে হলে মাদকদ্রব্য দখলে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে আইনে। আইনে বলা হয়েছে, দখল শব্দের অর্থই হচ্ছে পরোক্ষ দখল নয়, বরং প্রকৃত দখল। মাদকদ্রব্য নিয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে পুলিশের হয়রানি করার নজির থাকায় দখল সম্পর্কে উচ্চ আদালতও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, দখল বলতে শারীরিক দখলকে বোঝাবে। এ কারণেই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত তারা মামলায় আসামি হয় না।

মূলত আইনি ব্যাখ্যার কারণেই মাদকদ্রব্যের চোরাকারবারি বা গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তারা যাদের ব্যবহার করে তারাই আসামি হয়। বিচারের আওতার বাইরে থাকে মূল কারবারিরা।

মাদক পাচার ও সেবন গোটা দেশ ও সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ এই মাদক কারবারের হোতাদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। আবার যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তারাও আইনি ফাঁক গলে জামিনে বেরিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় খালাসও পাচ্ছে। আইনজীবীরা মনে করেন, মাদকের এই ভয়াবহতা রোধ করার জন্য এসংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী করা দরকার। নতুন নতুন নামে মাদকদ্রব্য বিস্তার লাভ করছে। আইনে মাদকের সংজ্ঞায় এখন অনেক মাদকদ্রব্যের নাম নেই। বৈজ্ঞানিক নামের আওতায় বিভিন্ন মাদককে শ্রেণিবিভাগ করে বিচার করা হচ্ছে। এ কারণে মাদকের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা দরকার। আর মাদকদ্রব্য সরবরাহ, বিক্রয়, দখল—এসবরে পেছনে যারা রয়েছে তাদেরও সরাসরি শাস্তির আওতায় আনতে আইন সংশোধন করা দরকার।

আইনজীবীর মতে, আইনের একটি ধারাই মাদকের গডফাদারদের রক্ষা করছে। এই ধারাটি যুগোপযোগী করলেই গডফাদাররা আইনের আওতায় আসতে পারে। গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানা এলাকায় তামান্না নামের এক কিশোরীকে আটক করে পুলিশ তার কাছ থেকে ৫০০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করেছিল। ওই হেরোইনের দখলদার তামান্না হলেও সে একাই এই কারবারের সঙ্গে জড়িত তা বলা যাবে না। এর পেছনে অবশ্যই কেউ না কেউ ছিল। কিন্তু অন্য কারো দখল থেকে হেরোইন উদ্ধার না হওয়ায় শুধু তামান্নাকে আসামি করা হয়।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনাকারী মো. বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিরা মামলা থেকে রেহাই পেতে আইনি দুর্বলতা খুঁজে বের করবেই। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হলে ভয়ানক আসামিদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব।’ তিনি আরো বলেন, শুধু দখল নয়, নিয়ন্ত্রণকারীকেও শাস্তির আওতায় আনার জন্য আইন সংশোধন করা দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, আইনে দখল বলতে শারীরিক দখলকে বোঝায়। আর মাদকদ্রব্য দখলে রেখে তা বিক্রি, বহন, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানি, গুদামজাত, প্রদর্শন ও ব্যবহার করতে হয়। মাদকদ্রব্য কারবার বা বিক্রির মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হলে আইন সংশোধন করা জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের (বিলিয়া) গবেষণা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। আবার সময়ের প্রয়োজনে এটা ঘটছে। আইনি দুর্বলতার কারণে মাদকদ্রব্য কারবারিদের বিচারের আওতায় আনা যাচ্ছে না। গ্রেপ্তারকৃতরাও সহজে জামিন পেয়ে যায়। এসব সমাধানে আইন যুগোপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা রোধ করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ মামলায় জব্দ তালিকা ত্রুটিপূর্ণ। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় কাউকে সাক্ষী না করে এমন সব ব্যক্তিকে মামলায় সাক্ষী করা হয় যাঁরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে যান না। এ কারণে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার মাদক কারবার শুরু করে। তারা খালাসও পায়।

ইদানীং ঢাকায় বিপুলসংখ্যক ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হচ্ছে। ওই সব ঘটনায় গ্রেপ্তার করা বেশির ভাগ ব্যক্তিই বলছে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদক কারবারিরা এসব মাদকদ্রব্য ঢাকায় চালান করছে। এজাহারে তাদের নাম থাকলেও আইনি দুর্বলতায় তারা শেষ পর্যন্ত আসামি হবে না। গত ১৬ এপ্রিল দক্ষিণ কমলাপুরে একটি প্রাইভেট কার আটক করে পুলিশ উদ্ধার করে দুই লাখ ইয়াবা বড়ি। গ্রেপ্তার করা হয় মাসুদ তালুকদার ও জামিল হোসেন নামে দুজনকে। তারা জানায়, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের জয়কে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছে টেকনাফের ইয়াবা কারবারি শফি ও মনির। নিউ মার্কেট ডাকঘরের সামনের রাস্তা থেকে গত ৬ এপ্রিল আটক করা হয় মো. শফিক ও আবদুর রহিমকে। তারা জানায়, টেকনাফের মাদক কারবারি এখলাস ও মনির এক লাখ পিস ইয়াবা দিয়ে তাদের পাঠিয়েছে। ইয়াবার ওই চালানটিও তারা নিয়ে যাচ্ছিল জেনেভা ক্যাম্পে। ওই ঘটনায় নিউ মার্কেট থানা পুলিশ একটি মামলা করেছে।

পুরনো মামলা থেকে দেখা যায়, যারা মাদকদ্রব্য সরবরাহ করেছে কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেই তারা শাস্তির আওতায় আসে না। জানা গেছে, মাদক কারবারিদের সহযোগিতা করায় রাজধানীর কদমতলী থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকদ্রব্য বিক্রিতে সহযোগিতা করায় আইনের আওতায় আনার সুযোগ খুব সীমিত বলেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের নাগরিক ইব্রাহিম, রইস খান ও আলেফজান মাদক চোরাচালানের আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। ১৯৯৯ সালে বিপুল পরিমাণ হেরোইন নিয়ে তারা বাংলাদেশে এসে রাজধানীর রাজমণি ঈশা খাঁ হোটেলের একটি কক্ষে উঠেছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে ওই কক্ষ থেকে ২৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিন পাকিস্তানি স্বীকার করেছিল, আন্তর্জাতিক হেরোইন পাচারচক্রের সঙ্গে তারা জড়িত। তারা বাংলাদেশের কয়েকজনের নামও প্রকাশ করে, যাদের কাছে হেরোইনগুলো পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। রমনা থানার পুলিশ তিন পাকিস্তানিসহ বাংলাদেশের এরশাদ আহমেদ, হানিফ, দুলাল, জাহাঙ্গীর ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে ২০০০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি চার্জশিট দেয়। ইব্রাহিম মামলা চলাকালে মারা গিয়েছিল। হেরোইন দখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০০৫ সালের ৭ জুলাই রায়ে রইস খান ও আলেফজানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। কিন্তু বাংলাদেশি পাঁচ নাগরিকের বিরুদ্ধে দখল প্রমাণ না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

প্রায় ছয় কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা এক মামলার রায় দেওয়া হয় ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল। তাতে আসামি নাইজেরিয়ার নাগরিক অ্যাফোলেয়ান ওলাডিপুপু জ্যাখভসকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। হেরোইন তার নিরঙ্কুশ দখলে থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় সে খালাস পায়। এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, একটি হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক প্রমাণ করে না যে তা কোনো আসামির দখলে ছিল। খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা তিন কোটি টাকার হেরোইন চোরাচালান মামলার আসামি এমেকা এরিঞ্জ, কসমস ওগবুলি, চুকউ এমেকা স্যামুয়েল ওডিমা, একিন ক্যালিসটাস এনিকওয়েঞ্জ ওরফে কেসি, ন্যামদি কেলভিন ও সেলি ইকেন্নাকেও বেকসুর খালাস দেওয়া হয় ২০১৪ সালের ১৯ জুন। তারাও নাইজেরিয়ার নাগরিক। ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আসামিদের দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ সাক্ষীরা দিতে পারেননি। একই কারণে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকেও চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেন একই আদালত।

জানা যায়, র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত ১২ বছরে মাদকসংক্রান্ত ৬৫ হাজার ৮০০ মামলায় ঢাকায় ৯৮ হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ৯৬ হাজার জন জামিন পেয়ে যায়। বাকি আসামিরা অপেক্ষাকৃত গরিব ও শুধু মাদক বহনকারী।

জামিনে বেরিয়ে বা খালাস পেয়ে আসামিরা আবারও একই কারবারে নেমে পড়ে। ফলে মাদক পাচার বাড়তে থাকে। টেকনাফের শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত নূর মোহাম্মদ ২০১৪ সালের ২০ মার্চ র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। কোনো ইয়াবা কারবারির এমন পরিণতি সেটিই প্রথম। কয়েক দফায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে একই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল নূর মোহাম্মদ। তার দুই ভাই নুরুল হুদা ও শামসুল হুদা ইয়াবার বড় কারবারি হিসেবে তালিকাভুক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ডিবি ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, এ দুই সহোদর গত পাঁচ বছরে অন্তত ১২ বার গ্রেপ্তার হলেও জামিন পেয়ে যায় প্রতিবার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রভাবশালী অনেক মাদক কারবারি বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও আইনি ত্রুটি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবে তদন্তে দুর্বলতার কারণে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এমনকি মামলা থেকে খালাসও পায়। বারবার জামিন পাওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে তারা সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত রাখে অথবা তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধা সৃষ্টি করে। এভাবে আসামিরা শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়ে যায়। এসব কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হয়ে পড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘বন্ধুকযুদ্ধ’ বেছে নিয়েছে বলে মনে করে অনেকে।

রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকার শাহবাড়ী বস্তির বাসিন্দা মিনারা কারওয়ান বাজারে বস্তিতে থাকা অবস্থায় মাদক কারবার শুরু করেছিল। ২০ বছর ধরে সে এর সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়ে মিনারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে, প্রায় অর্ধশতবার গ্রেপ্তার হয়েছে সে। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়েছে প্রতিবারই। নিউ মার্কেট থানা সূত্রে জানা যায়, ওই থানায়ই তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। রাজধানীর রুশিয়া বেগম ওরফে মাফিয়া চুন্নি শতাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু জামিন পেয়ে আবার শুরু করে মাদক কারবার।

রাজশাহীর পুটিয়ার লিয়াকত সিকদার গত সোমবার ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা ছিল। প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক কারবারে জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। টঙ্গীর রেজাউল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা ছিল। সেও বারবার জামিনে বেরিয়ে মাদক ব্যবসা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত সোমবার সেও নিহত হয়। গত ১৯ দিনে সারা দেশে ৩৩ জন নিহত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্ধুকযুদ্ধে’। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ।


মন্তব্য