kalerkantho


প্রার্থীরা মরিয়া ভোটার ক্লান্ত দুর্ভোগে

হায়দার আলী, শরীফ আহমেদ শামীম ও মো. মাহবুবুল আলম, গাজীপুর থেকে   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



প্রার্থীরা মরিয়া ভোটার ক্লান্ত দুর্ভোগে

আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন গাজীপুর সিটি। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির আব্দুল মান্নান। পাঁচ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার আবার হচ্ছে ভোট। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি থেকে নতুন দুই প্রার্থী—নৌকা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম এবং ধানের শীষ নিয়ে হাসান উদ্দিন সরকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।  

আদালত এ নির্বাচন স্থগিত করলে সপ্তাহখানেক বিরতির পর মাসব্যাপী বিরামহীনভাবে চলেছে উভয় দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের প্রচারণা। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিদিনই চলছে নগরীর অলিগলিতে ভোট প্রার্থনা। বিএনপি চায় এই সিটিতে নিজেদের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। আর আওয়ামী লীগ চায় এবার জয় করায়ত্ত করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। আর সব কিছু ছাপিয়ে গাজীপুরবাসী চায় একজন যোগ্য নগরপিতার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি থেকে বাঁচতে। তারা এলাকার উন্নয়নসহ নাগরিক সুুযোগ-সুবিধার দ্রুত ব্যবস্থা চায়।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গতকাল রবিবার রাত ১২টা থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সব রকম প্রচার-প্রচারণা।  গতকাল সকাল থেকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরী ছেড়ে যাচ্ছে বাইরে থেকে আসা উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। নিজেদের ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো নগরপিতা পাবে গাজীপুরবাসী। তাই শহরে উৎসবের আমেজ। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছিল প্রার্থী ও সমর্থকরা। গতকাল ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার অলিগলি চষে বেড়িয়েছে তারা। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার প্রবেশ ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট চাইতে দেখা গেছে। সকালে কারখানায় শ্রমিক প্রবেশের সময় এবং বিকেলে ছুটির সময় শ্রমিকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভোট ও দোয়া চেয়েছেন তাঁরা।

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম প্রচারণার শেষ দিনে গাজীপুরের শালনা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। সেখানে তিনি বলেন, নির্বাচনে নৌকার পক্ষে একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ আর অনুন্নয়নের পথে থাকতে চায় না। তারা  উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে। শালনার পর জাহাঙ্গীর আলম যান কোনাবাড়ী। সেখান থেকে বাসন এলাকার চৌরাস্তায় একটি পথসভায় তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে এখন হাঁটাচলার মতো রাস্তাঘাট নেই। বর্তমান মেয়র কিছুই করেননি। আমি এর অবসান চাই।’ তিনি বলেন, ‘এখন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচিত হলে আমার পরিকল্পনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাব।’

অন্যদিকে প্রচারণার শেষ দিনেও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সংবাদ সম্মেলন ডেকে এবং ভোটারদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। টঙ্গী থানা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচনী মাঠে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং খুলনা স্টাইলে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও হুমকি-ধমকি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানচাল করে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে জোটের ৭৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকেও পুলিশের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে খুলনার বিতর্কিত ভোটের মেয়রসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের আজকে প্রচারণা করতে দেখা গেছে। খুলনার ওই মেয়র এখনো গাজীপুরে অবস্থানের মধ্যে গভীর রহস্য নিহিত। তাঁকে ভোটে কারচুপির প্রশিক্ষণের জন্য এখনো গাজীপুরে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খুলনার কারচুপির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুলিশ সদস্যদের ইতিমধ্যে গাজীপুরের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু শত বাধা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনে আছি এবং শেষ পর্যন্ত থাকব। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নোংরা চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরব।’

বাসনের পথসভায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ অঞ্চলেই আমি বেড়ে উঠেছি। নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। এখানকার মানুষের ভোট পাওয়া আমার অধিকার। আপনাদের জন্যই ৭০ বছরের দলটির মেয়র প্রার্থী আমি হতে পেরেছি। আপনারা নিশ্চয়ই আমার সম্মান রাখবেন।’

বাসনের সভার পর জাহাঙ্গীর আলম জয়দেবপুরে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে যান। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দোয়া চান, ভোট চান। এরপর কোনাবাড়ীতে গিয়ে সভা করেন। দুপুরে হারিকেনের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী হাসান সরকার এখন ভোট না চেয়ে অভিযোগ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি গাজীপুরে একাধিক ভোট ডাকাতির নির্বাচন করেছেন। ভোটের জন্য রক্তাক্ত করেছেন মানুষকে। আমি চাই না এখানে কোনো রক্ত ঝরুক।’ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এযাবৎ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি উদাহরণ বিএনপির প্রার্থী দিতে পারবেন না। কিন্তু তিনি আমাকে, আমার পরিবার, দল ও প্রতীককে যে ভাষায় আক্রমণ করে কথা বলেছেন, তা তাঁর মতো সিনিয়র ব্যক্তির কাছে আশা করি না।’

সংবাদ সম্মেলনের পর জাহাঙ্গীর আলম শিববাড়ী এবং আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে, টঙ্গী মিলগেট, গাছা বাজার ও বোর্ডবাজার এলাকায় পথসভায় বক্তব্য দেন। বিকেলে মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪২৫ কেন্দ্র কমিটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এলাকায় মিছিল করে।

হাসান সরকার সংবাদ সম্মেলনে ভোট কারচুপির আশঙ্কা তুলে ধরে বলেন, ‘বাইরে থেকে সিল মেরে ভেতরে ভোট বাক্সে ঢোকানো হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের পুলিশ দিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক তাদের বানানো রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাক্ষর না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের হতে দেবে না। খুলনার মতো কারচুপি যাতে ধরা না পড়ে সে জন্য ইতিমধ্যে তারা একটি সুবিন্যস্ত রেজাল্ট শিট তৈরি করে রেখেছে। তাদের দলীয় ৫০ জন কাউন্সিলরকেও চূড়ান্ত করে রেখেছে।’

হাসান সরকার ঝড়বৃষ্টি ও সব বাধা উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সব অপকৌশল জেনে গেছি। আমরা তাদের এসব অপকৌশল প্রতিহত করার চেষ্টা করব।’ তিনি মঙ্গলবার সকাল ৭টার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের সব এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীকে কেন্দ্রের পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান।

তিনি সাংবাদিকদের ভোটের সঠিক চিত্র তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘মহান আল্লাহর পরে আপনারা আমাদের ভরসা। আপনারা সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারলে এবং ন্যূনতম সুষ্ঠু ভোট হলে সম্মানজনক ভোটে বিজয়ী হব।’ তিনি বলেন, ‘দেশে ন্যক্কারজনক রাজনীতি চলছে। আমাদের একজন প্যারালাইজড নেতাকেও তুলে নেওয়া হয়েছে। ওমর ফারুক নামের ওই নেতাকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানানো হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এযাবৎ যথাযথভাবে আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আচরণবিধির কোনো তোয়াক্কা করছে না।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসান উদ্দিন সরকার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য দলের নেতাদের নির্দেশনা দেন। বিকেলে তিনি টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে সর্বশেষ প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কাশিমপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবির হোসেন নামের এক কর্মীকে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা মারধর করেছে। গাজীপুরের পাঁচটি সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে তাদের পর্দায় আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

গতকালের আরো চিত্র

সকাল সাড়ে ১০টায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নগরের ছয়দানা এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট গার্মেন্ট কমপ্লেক্সে এসে থামে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের গাড়ি। তিনি বিজিএমইর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে প্রবেশ করেন গার্মেন্টের ভেতরে। নিজ হাতে নৌকার লিফলেট বিতরণ করে ভোট ও দোয়া চান শ্রমিকদের কাছে। এক ফ্লোর থেকে যান আরেক ফ্লোরে। সেখান তিনি ছোটেন পাশের ভোগড়ার বাইপাস এলাকার চৌধুরী গ্রুপের গার্মেন্টে। আতিকুল ইসলাম ও বিজিএমইর অন্য নেতাদের নিয়ে একেক করে চৌধুরী গ্রুপের ৯টি কারখানার ফ্লোরে ফ্লোরে গিয়ে ভোট চান জাহাঙ্গীর আলম। ২টার পর তিনি নিজ বাসায় ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আবার ছোটেন শ্রমিক এলাকাগুলোতে। বিকেলে যান টঙ্গীতে। সেখানে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও মার্কেটে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন রাত ১২টার আগ পর্যন্ত।

বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার শ্রমিক নেতা সালাউদ্দিন সরকার ও শিল্পপতি সোহরাব উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন নগরীর নাওজোড় এলাকার দিগন্ত সোটোর কারখানার সামনে। প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের প্রতিষ্ঠান দিগন্ত থেকে দুপুরের খাবার বিরতির সময় দল বেঁধে বের হচ্ছিলেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের মাঝে ধানের শীষের প্রচারপত্র বিলি করে ভোট চান হাসান সরকার। এভাবে সালনার ইউটা, শ্যামলী, কোনাবাড়ী শিল্প এলাকার যুমনা নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, এনপিকেসি ইত্যাদি কারখানা এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে বিকেল পর্যন্ত ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে তিনি ছোটেন টঙ্গীতে। সেখান থেকে তিনি যান টঙ্গীতে। প্রচার সঙ্গীদের নিয়ে টঙ্গী থানাধীন ১৫টি ওয়ার্ডের অলিগলি, বাসা ও জনবহুল স্থানে ভাট প্রার্থনা করেন গভীর রাত পর্যন্ত।

নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন গতকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এ দুই প্রার্থীরই টার্গেট ছিল শ্রমিক ও টঙ্গীর ভোটার। কারণ গাজীপুর সিটি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে অন্যতম নিয়ামক হবেন তাঁরাই। ১১ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি ভোটারের মধ্যে সাড়ে তিন লাখই বহিরাগত শ্রমিক। আবার মোট ভোটারের অর্ধেকের চেয়ে এক লাখ বেশি ভোট রয়েছে টঙ্গীতে।

জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক জানান, ‘এটা নিশ্চিতই বলা যায়, শ্রমিকদের ভোট এবং টঙ্গীর ভোট যেদিকে পড়বে মেয়র তিনিই হবেন। শ্রমিক ভোটারদের ৯০ ভাগই অন্য জেলার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তারা এখানে ভোটার। শ্রমিকরা দলীয় প্রার্থীর চেয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, নিজেদের নিরাপত্তা, সর্বোপরি প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ দেখে ভোট দেয়। আবার টঙ্গী রাজধানীর একেবারে উপকণ্ঠে। তাদের মধ্যে এক ধরনের আঞ্চলিকতার টান রয়েছে। গাজীপুরের মানুষ হলেও তারা ঢাকামুখী। ভোট এলেই আঞ্চলিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ছয়দানা এলাকার এবং হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গীর বাসিন্দা। এ জন্য দুজনই শ্রমিকদের কাছে এবং টঙ্গীতে ছুটছেন।

আগের ঘটনা ও দুই দলের আশা

জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেওয়ায় শুরুতে নগরীর আওয়ামী লীগ নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের চারটি ব্লকের নেতাদের তখন নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। গোপনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষেও কেউ কেউ কাজ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা দিলে স্থানীয় নেতাদের টনক নড়ে। কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেন স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের চাপে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। মহানগরের সাংগঠনিক থানা সমন্বয় কমিটি, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যুবলীগের কমিটিসহ ছোট ছোট একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। দলের নেতারা মনে করছেন, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়নি, এবার দলের প্রতীক নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন জাহাঙ্গীর আলম। বিরোধ ভুলে দলের প্রার্থীর পেছনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। তাদের প্রচারণার জোরে তাই বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন ভোটাররা।

অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, গত নির্বাচনে বিএনপিকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে নগরবাসী। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলেও মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাগারেই আটকে রেখেছিল ক্ষমতাসীনরা। সেসব অন্যায়ের জবাব এবার ভোটের মাধ্যমে দেবে জনগণ। তাদের দাবি, নগরীর ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে, সুষ্ঠু ভোট হলে হাসান সরকার বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গাজীপুরের বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নিতে তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পুলিশ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি বিএনপির এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে দূরে রাখতে চাইছে বলে অভিযোগ তাদের।



মন্তব্য