kalerkantho


গুহা থেকে মুক্তি

এখন মায়ের বুকে ফেরার প্রতীক্ষা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



এখন মায়ের বুকে ফেরার প্রতীক্ষা

থাইল্যান্ডের গুহা থেকে মুক্ত শিশু-কিশোররা হাসপাতালে। এখন সবাই সুস্থ।

ক্ষীণ আশাকে বাস্তব রূপ দিয়ে গুহা থেকে জীবিত ফেরা ১২ থাই শিশু-কিশোর এখনো চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফলে ১৮ দিন পর ‘মৃত্যুগুহা’ থেকে ফিরে আসা সন্তানদের বুকে নিতে আরো কয়েকটা দিন হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় থাকতে হবে অভিভাবকদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা আরো সপ্তাহখানেক সময় বাচ্চাদের হাসপাতালেই রাখতে চান।

তিন দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের ‘থাম লুয়াং নাং নন’ গুহা থেকে এই ১২ খুদে ফুটবলার এবং তাদের কোচকে উদ্ধার করে আনেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০০ ডুবুরি। এদের নেতৃত্বে ছিল থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘নেভি সিল’। গতকাল এই নেভি সিলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরপাকোর্ন ইয়ুকোংকায়েউ নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘গুহার ভেতর বাচ্চাদের জীবিত থাকার আশাটা ছিল একেবারে ক্ষীণ। কিন্তু এটুকু আশা নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে।’

ভারি বৃষ্টিপাতে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই গুহায় পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৩ জুন এই ১৩ জন ভেতরে আটকা পড়ে। নানা চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে গত রবিবার তাদের উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান। অভিযানের প্রথম দুই দিন চারজন করে এবং তৃতীয় দিন বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

এই ১৩ জন দেশটির ‘ওয়াইল্ড বোর’ (স্থানীয় ভাষায় ‘মু পা’) ফুটবল একাডেমির সদস্য। তারা যে ওই গুহার মধ্যে জীবিত অবস্থায় আছে, এটা জানা যায় নিখোঁজের ৯ দিন পর। গতকাল সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ৯ দিন গুহার দেয়াল চুয়ে পড়া পানি খেয়ে অতিবাহিত করেছে তারা; এর বাইরে কিছুই খায়নি।

নেভি সিলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরপাকোর্ন ইয়ুকোংকায়েউ জানান, সন্ধান পাওয়ার পর থেকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত বাইরে থেকে তাদের এমন খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, যেগুলো খুব সহজেই হজম হয় এবং অধিক শক্তি পাওয়া যায়। 

উদ্ধার হওয়া ১৩ জনই এখন উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই প্রদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুহাটি ওই প্রদেশেই অবস্থিত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সবারই দ্রুত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটছে। টানা ১৮ দিন গুহাবন্দি থাকায় সবাই গড়ে দুই কেজি করে ওজন হারিয়েছে। আরো এক সপ্তাহ তাদের হাসপাতালে রাখা হবে। হাসপাতাল ছাড়ার পর বাড়িতে এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাদের।

দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিন উদ্ধার হওয়া চারজন এখন স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে। পরের দিন উদ্ধার হওয়া চারজনকে স্বাভাবিক খাবার দেওয়া হবে বুধবার (গতকাল) থেকে। আর সর্বশেষ গত মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা সবাই ভালো আছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক ড. তংচাই লার্তভিরাইরাতানাপং জানান, প্রথম দিন উদ্ধার হওয়ার চার শিশু-কিশোরকে দেখার জন্য তাদের স্বজনদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখতে হয়েছে তাদের। এ ছাড়া টেলিফোনে এই চারজনের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য কথাও বলেছে স্বজনরা।

কর্মকর্তারা জানান, গুহার ভেতর বাচ্চাদের মনোবল জোগাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাদের কোচ আক্কাপোল চানথাউং। তিনি বিভিন্ন ধরনের ধ্যানের মাধ্যমে তাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ২৫ বছর বয়সী চানথাউং ফুটবলে আসার আগে ১১ বছর বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ছিলেন।

কর্মকর্তারা জানান, ১৩ জনের মধ্যে শারীরিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন কোচ। কারণ গুহার ভেতরে নিজের বেশির ভাগ খাবারই শিষ্যদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার উদ্ধার অভিযানের শেষ দিনে সবার পরে গুহা থেকে বের হন থাই নেভি সিলের ডুবিরি কমান্ডার চাইয়ানানতা পিরানারোং। নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, গুহার ভেতরে একটা অংশ ছিল, যেখানে বাচ্চাদের স্ট্রেচারে করে পার করতে হয়েছে। স্ট্রেচারে করে নেওয়ার সময় অনেক বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়েছিল। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনন।

 

 



মন্তব্য