kalerkantho


সিলেট

উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ

সিলেট অফিস   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হতে না হতেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত বুধবার রাতে নগরে পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর এক কর্মীকে মারধর করে পুলিশের কাছে তুলে দেয় ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দেওয়া একদল যুবক। এ ঘটনায় রাতেই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশন শুরু করেন বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁর কর্মীকে ছেড়ে দিলে তিনি অনশন ভেঙে ওই স্থান ত্যাগ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভা করেছেন। আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নগরে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নগর সংস্থাকে একটি জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন। একই সঙ্গে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলেও তিনি জানান। তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গণসংযোগকালে নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ : জানা যায়, বুধবার রাত ১২টায় নগরের বন্দরবাজার হাসান মার্কেট এলাকায় বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পোস্টার সাঁটানোর কাজ করছিলেন লোকমান আহমদ ও কেরামত আলী নামের দুজন কর্মী। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে তিন যুবক এসে তাঁদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ তোলে। এ নিয়ে বাগিবতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে লোকমান আহমদ নামের একজনকে আটক করে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

তবে কেরামত আলী জানান, ছাত্রলীগের ওই তিনজন লোকমানকে মারধর করে পাশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গেলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। তিনি ঘটনাটি বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র আরিফুল হককে জানালে তিনি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে একটি চেয়ার নিয়ে অনশন শুরু করেন।

রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আরিফুর হক অনশন শুরু করার পর সেখানে এসে জড়ো হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, আরিফের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাহেল আহমদ খসরুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। রাত ১টার দিকে পুলিশ আরিফের ওই কর্মীকে ছেড়ে দেয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝিতে নৌকার পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশের কাছে তুলে দেয় পথচারী কয়েকজন যুবক। পুলিশ তাঁকে ফাঁড়িতে নিয়ে এলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তাঁকে ছাড়াতে আসেন। পরে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সঙ্গে আলাপ করে তাঁরাই ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করেন।’

কর্মীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি শুরু থেকে বলে আসছি যে আমার কর্মীদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। এটি তেমনই একটি ঘটনা।’

নৌকার প্রচারে ছাত্রলীগ : গতকাল সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনকে সঙ্গে নিয়ে নগরের আম্বরখানা থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরান। ছাত্রলীগের একটি দলও এই সময় গণসংযোগে অংশ নেয়।

গণসংযোগে পথচারী, ব্যবসায়ী, সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন মেয়র পদপ্রার্থী কামরান। এ সময় তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে সিলেট সিটি করপোরেশনকে একটি জনমুখী প্রতিষ্ঠান করা হবে। জনগণকে সেবা দেওয়াই হবে আমার মূল লক্ষ্য।’

নির্বাচনে কারচুপি হবে বিএনপি প্রার্থীর এমন আশঙ্কার ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বলেন, ‘এটা বিএনপির অপপ্রচারেরই অংশ।’ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর শঙ্কা : বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নগরের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন। দুপুরে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে তিনি গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনে ভোট কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের রায় যারা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের ভোটাররাই প্রতিহত করবে।’

এদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর সহধর্মিণী সামা হক চৌধুরী গতকাল সকাল থেকে নগরের দাঁড়িয়াপাড়া, জল্লারপাড়, রিকাবীবাজার, মেডিক্যাল রোড এলাকা ও সংলগ্ন পাড়া-মহল্লায় ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন।

অন্যান্য প্রার্থীর প্রচার : সিলেট সিটি নির্বাচনে নাগরিক কমিটি মনোনীত বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ মেয়র প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম গতকাল সকালে নগরের কোর্ট পয়েন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। এর আগে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন শোয়েব আহমদ। কোর্ট পয়েন্ট থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়ে জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা-আম্বরখানা হয়ে শাহী ঈদগাহ এলাকায় তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফর গতকাল নগরের টিলাগড়, গোপালটিলা, শিবগঞ্জ, হাউজিং এস্টেট, দর্শন দেউড়ি, হাতিমবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ ছাড়া তাঁর সমর্থনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করে।

সিলেট নাগরিক ফোরাম মনোনীত জামায়াতের মেয়র পদপ্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল নগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী ও আশপাশের এলাকা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং এস্টেটসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। এ ছাড়া ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী এলাকার বড়বাড়িতে উঠান বৈঠক করেন তিনি।



মন্তব্য