kalerkantho

ফেইসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ফেইসবুক অফলাইন

কোটা

কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে সামাদ গত দুই দিন টিউশনিতে যেতে পারে নাই। আজ টিউশনিতে যাওয়ার জন্য সে শাহবাগ থেকে বাসে উঠল। স্টুডেন্ট হিসেবে সামাদ বাসের সুপারভাইজারকে হাফ ভাড়া দিল। সুপারভাইজার সামাদের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটি হাসি দিয়ে বলল, ‘বাসে স্টুডেন্ট কোটার সংস্কার করা হয়েছে। এখন থেকে ফুল ভাড়া দেওয়া লাগবে।’

দেব জ্যোতি ভক্ত

গফল

আমরা জাতিটাই এমন যে খুব অল্পতেই নিজেদের সফল মনে করি। খুব ছোট ছোট বিষয়ে জয়ের স্বাদ পাই। যেমন—আমি এমন একজনকে চিনি, যিনি মশারি টানানোর পর মশা না ঢুকিয়ে মশারির ভেতরে ডুকতে পারলেই জয়ের হাসি হাসে। নিজেকে সফল মনে করে।

কামার উদ্দিন আরমান

 

আমার পোলা

ভবিষ্যতে কোনো সায়েন্স ফেয়ারে পোলা অংশগ্রহণ করলে কমু, প্রজেক্ট হিসেবে আমারে নিয়ে যা! আমি খাম্বার মতন স্টিল খাড়ায়া থাকুম! পরীক্ষক আইসা যখন জিজ্ঞেস করব, এই ডা কী?

তখন বলবি, আমার বাপ! আমি নিজে এরে বাপ বানাইছি!

রোহিত হাসান কিছলু

 

চাকরি

আমি এমন একজন মানুষকে চাকরি দিতে চাই, যার কাজ হবে নিয়োগ পাওয়ার পর আমার জন্য চাকরি খোঁজা! আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন!

সিএক্স রানা

 

চকোলেট

: বিদেশ থেকে তোর জন্য কী আনব?

: চকোলেট!

: শুধু চকোলেট? আর কিছু লাগবে না?

: বিদেশে চকোলেট ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নাকি? সারা জীবন সবাই তো খালি চকোলেটই দিল!

জে আই মোহসান

 

চেন্নাই দল

ইমরান তাহির (৩৯), হরভজন (৩৭), ওয়াটসন (৩৬), ধোনি (৩৬), ব্র্যাভো (৩৪)। চেন্নাই দলটা পাশ দিয়ে গেলে সাইকেল থেকে নেমে দাঁড়াতে হবে দেখছি। অদ্ভুত একটা গুরুজন গুরুজন ফ্লেভার আছে।

শুভদ্বীপ ঘোষ

 

ঘরোয়া

আসুন ম্যাডাম, আমাদের রেস্তোরাঁয় পাবেন একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে ঘরোয়া খাবারের স্বাদ।

: দূর মিয়া, ঘরের খাবারে বোর হয়েই তো রেস্টুরেন্টে আইলাম।

স্বর্ণলতা

 

মিষ্টি হাসি

শোনো মেয়ে, আমার কখনো ডায়াবেটিস হলে তোমার ওই মিষ্টি হাসিই দায়ী থাকবে।

আদিত্য দীপ

 

নাম

ভাগ্যিস রংপুরের নাম চেঞ্জ করে ডত্ড়হম ঢ়ড়ড়ৎ করে নাই!

নাজমুস সাকিব

 

কষ্ট

প্রতিটি ব্রেকআপে তিনজন কষ্ট পায়।

১। ছেলে ২। মেয়ে ৩। বাড়ির পাশের লোডের দোকানদার

জোবায়দা দুরবিন

স্বার্থপর

সবাই স্বার্থপর। শুধু জুতা ছিঁড়ে গেলেই মুচির খোঁজ।

সিঁদুরে হে

 

ছেঁকা

আমার স্টুডেন্টের বড় বোন একদিন আমাকে প্রশ্ন করল—আপনি এ পর্যন্ত কয়টা ছেঁকা খেয়েছেন?

তো উত্তরে আমি বললাম, অনেক। যার হিসাব নাই।

একটু অবাক হয়ে আমাকে সে আবার বলল, তো প্রথমটা কবে খাইছেন।

আমি বললাম, আমার বয়স যখন পাঁচ-ছয় বছর হবে। আমি জানতাম না যে ইস্ত্রি হিট দিলে এত গরম হয়। ছেঁকা খেয়ে আমার পুরো ৪টা আঙুলে ফোসকা পড়ে গেছে।

হিমেল হিমু

 

ভালোবাসা

ভালোবাসা হলো পিঠে ব্যথার মতো। এক্স-রেতে দেখা যায় না, কিন্তু আপনি জানেন জিনিসটা আছে।

রিয়াজ আহমেদ সজল

 

তদবির

তদবির ছাড়া কোনো কাজ হলে মানুষ অবাক হয়ে যায়, অথচ উল্টাটা হওয়ার কথা ছিল।

চঞ্চল কুমার ভৌমিক

 

কবে হবে

মিলন হবে কত দিনে

মিলন...হবে কত দিনে

আমার Water মিলনের সনে।

ওায়হান

 

আগে

আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম, আমরা

আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম;

বাচ্চা পুলাপান, হিন্দু-মুসলমান

মিলিয়া সাকিব খান আর জইল্যারে পচাইতাম।

খেলা যখন হইত, স্ট্যাটাস দিতাম

সবাই আইসা কমেন্ট করত আনন্দ পাইতাম;

শেভাগ, নভজিত সিং,

হউক যত বড় ক্রিকেট কিং

খারাপ কিছু কইলে আমরা ধুইয়া দিতাম।

বাজেট যখন হইত, জিনিসের দাম বাড়ত

মাল সাহেব সাফাই গাইত, আনন্দ পাইতাম।

কে ছিল আস্তিক,

কে বা বাম নাস্তিক

আমরা কি তাদের পাত্তা দিতাম?

হায়রে আমরা কি তা নিয়া মাথা ঘামাইতাম?

আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম, আমরা

আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম...

করি যে ভাবনা, কেওয়াজ কি থামব না

ছিল ভাবনা মজা মারতাম!

মাস হতে মাস, দলীয় স্ট্যাটাস

নির্দলীয় ফেসবুকাররা কোন পথে যাইতাম?

আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম

আমরা আগে কী সুন্দর ফেসবুকাইতাম!

অরূপ রতন চৌধুরী

 

ফেসবুক

হালের পোলাপাইনের কাছে পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার চাইতে বেশি লজ্জাজনক বিষয় হলো ফেইসবুকের ছবিতে লাইক কম পাওয়া।

সন্দীপন বসু

আজকাল মাইয়া গো ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চাইলেও দিয়া দিব, মাগার কী মাইক্ষা ফরসা হইসে কইব না।

আফরোজা আকতার

 

ফোন

মোবাইলে সেভ করা একটি নম্বর থেকে একজন ফোন দিয়েই বললেন, ‘ওই আরিফফ, এসিটা খুইল্লা রিকশায়ে উঠায়ে দে।’

আমি থতমত খেয়ে বললাম—‘ব্রাদার, আমার ফ্লোরে তো অনেকগুলো এসি দেখছি। কোনটা খুলব? আর কোন রিকশায় উঠিয়ে দেব?’

তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে উত্তর দিলেন, ‘হুমুন্দির পুত, তোরে যে এসির নিচে খাড়া করায়ে রাইখে আইসি ওই এসিটা খুল। কামের কাম তো কিছু করস না, আবার ভদ্র ল্যাঙ্গুয়েজ মারাস।’

আমি আর কথা বাড়ালাম না। ফোন রেখে দিলাম। খালি খালি গালি শুনে লাভ কি। যিনি ফোন করেছেন উনি আমার অফিসের এসিগুলোর মেইনটেন্যান্সের কাজ করেন অনেক দিন থেকে। নাম হলো আকবর। খুব মিষ্টিভাষী মানুষ। এমনকি আমার বাসায় আমার বড় মেয়ে ওকে মিষ্টি আংকল ডাকে; কারণ তিনি, ‘মামণি, আপুমণি, ছোট ম্যাডাম, এক্সকিউজ মি’ ইত্যাদি ছাড়া কথাই বলেন না।

সেই মিষ্টি আংকল আমাকে ফোন দিয়ে এ রকম করল কেন, তা আমি কিছুটা বুঝতে পারছি। ফোন রাখার পর থেকে সে অনবরত ফোন করেই যাচ্ছে। আমি ভয়ে ফোন ধরছি না। হতে পারে সে ভুল আরিফফারে ফোন করে ফেলার ভুলটা বুঝতে পেরেছে। তাই আমি আবার ফোন ধরলাম।

এসি খুলছত?

আমি বললাম, ‘খুলতাম পারতাসি না, স্ক্রু অনেক টাইট।’

আরিফ, ঈমানে, তুই আমার প্রেসার বাড়ায়ে দিতাসস। তুই যেখানে আসস সেইখানেই খাড়া। তোর কিছু খোলা লাগবে না। আমি আসতাসি।

সঙ্গে স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে আইসেন।

স্ক্রু ড্রাইভার ছাড়া কেমনে খুলতাসস?

আঙুলের নখ দিয়া।

কী দিয়া?

...আমি চুপ।

ওই, উত্তর দে, কী দিয়া?

কথা বললেই যেহেতু ধমক খাই, চুপ থাকাই ভালো। আমি শিওর, একটু পর সে হাঁপাতে হাঁপাতে আমার রুমে আসবে। ভয় একটাই, এসে যদি ‘সরি, স্যার! ভুলে আরিফরে ফোন দিয়ে ফেলেছিলাম’ না বলে বলে বসে ‘এসি খুলছত?’

আমি অবশ্য ব্যাকআপ প্ল্যান হিসেবে স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে রেডি।

আরিফ আর হোসাইন



মন্তব্য