kalerkantho

ফ্যান

এম ওমর ফারুকী

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ফ্যান

দরজা খুলতেই এক তরুণকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিয়া জিজ্ঞেস করল, ‘কী চাই?’

তরুণ বলল, ‘ইয়ে...আমি আপনার ফ্যান...’

তাকে কথা শেষ করতে দিল না রিয়া। এই মুহূর্তে নিজেকে সেলিব্রিটি মনে হচ্ছে তার। আজকাল সে-ও ফেসবুক সেলিব্রিটি। তারও ফ্যান আছে।

ছেলেটিকে সোফায় বসিয়ে পাশের রুমে গেল রিয়া। এমন স্মার্ট একটি ছেলে তার ফ্যান, সে ভাবতেই পারছে না। সে জানে, ফ্যান থাকার দারুণ সুবিধা। কয়েক দিন আগে ফেসবুক সেলিব্রিটি মতিন আলী তার অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু তার ফ্যানরা কিছুতেই মানতে রাজি নয়, তাদের সেলিব্রিটি অপরাধী। ফ্যানরা পিয়ার আলীকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। ধীরে ধীরে গণজাগরণ শুরু হয়। একসময় কর্তৃপক্ষ তাকে জামিন দিতে বাধ্য হয়।

সেই থেকে রিয়া সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যে করেই হোক, তার ফ্যান লাগবে। এমন ক্রেজি ফ্যান, যারা তার অপরাধ দেখবেই না। শত অপরাধ করলেও ফ্যানদের কারণে মুক্তি পাবে। এই ছেলেকে দিয়ে সেই ফ্যানের দল তৈরি শুরু হয়েছে ভেবে রিয়া রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল।

ট্রেতে করে পিঠা, ফল আর চা নিয়ে যুবকটির সামনে হাজির হলো রিয়া। মনে মনে ভাবল, এখনই হয়তো ছেলেটি তার সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোডাবে। কারণ সে দেখেছে, ফ্যানরা তার সেলিব্রিটির সঙ্গে সেলফি তুলে এফবিতে আপলোডায়। নিজেকে কারো ফ্যান প্রমাণ করতে চাইলে তার সঙ্গে সেলফি থাকা বাধ্যতামূলক।

ছেলেটি আমতা আমতা করে কী যেন বলতে চাইল, কিন্তু তাকে বলতে না দিয়ে রিয়া বলল, জানি আপনি আমার ফ্যান। আচ্ছা, আপনি আমার ফেসবুক ফ্যান নাকি, ইউটিউব চ্যানেলের?

ছেলেটি রিয়ার কথার আগামাথা কিছুই বুঝল না, হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। এমন সময় রিয়ার মোবাইলে রিংটোন বেজে উঠল। তার স্বামী ফোন করেছে। ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে বলল, ‘ফ্যান রিপেয়ার করার জন্য ইলেকট্রিশিয়ান পাঠিয়েছি, সে কি বাসায় গেছে?’



মন্তব্য