kalerkantho


পণ্য পরিবহন খরচ কমবে

চার বছর পর ছোট জাহাজ নির্মাণের অনুমোদন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চার বছর পর ছোট জাহাজ নির্মাণের অনুমোদন

বহির্নোঙরে পণ্য স্থানান্তর কাজে ব্যবহৃত লাইটার বা ছোট জাহাজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। চার বছর আগে এই ধরনের জাহাজ নির্মাণে কৌশলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল জাহাজ মালিক ও পরিচালকদের একটি অংশ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর এক আদেশের মাধ্যমে সেটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আমদানিকারকরা মনে করছেন, এর ফলে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা ছোট জাহাজ সংকটের অবসান হবে। আমদানি পণ্য পরিবহনে খরচ অনেক কমে আসবে। আর চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্যের দীর্ঘ জাহাজজট কিছুটা হলেও কমবে। আর জাহাজ মালিকরা বলছেন, পণ্য আমদানি করে জাহাজকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বন্ধ করতে না পারলে নতুন জাহাজ তৈরি করেও পুরোপুরি সুফল মিলবে না।

সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরে ছোট জাহাজ সংকটের কারণে আমদানি পণ্য খালাসে দেরি হচ্ছিল, আমদানিকারকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এই আদেশের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি। ’

এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে জে এ সি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিমুল মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের যে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে সেটি পুনরুদ্ধার হবে। পণ্য আনার জাহাজ ভাড়া নিতে ভোগান্তি কমবে, প্রতি পণ্যে গড়ে দুই মার্কিন ডলার করে পরিবহন খরচ কমবে।

শেষ পর্যন্ত এর সুফল পাবেন ভোক্তারা। ’

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ৫৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টন। সে হিসেবে এক বছরে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ। প্রতিবছর এই প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও বহির্নোঙরে পণ্য স্থানান্তর বা লাইটারিংয়ে বাড়েনি ছোট জাহাজ সংখ্যা। ফলে মাত্র ৯০০ ছোট জাহাজ দিয়ে বাড়তি পণ্য খালাস করতে গিয়ে নাকাল হতে হয়েছে আমদানিকারকদের। বহির্নোঙরে পণ্যবাহী জাহাজ আসার পর পণ্য স্থানান্তরে মাসের পর মাসও অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ হাজার ইউএস ডলার ডেমারেজ বা মাসুল গুনতে হয়েছে পণ্যের আমদানিকারকদের। ডলারে মাসুল পরিশোধ করতে গিয়ে এই টাকা বিদেশে চলে গেছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইভোয়াক) সভাপতি হাজি শফিক আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় বন্ধ হবে। দিনের পর দিন সাগরে পণ্য নিয়ে জাহাজ বসে থাকতে হবে না। পণ্য আমদানি যে হারে বাড়ছে তাতে অন্তত আরো ৫০০ ছোট জাহাজ দরকার। ’

জানতে চাইলে কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাজের সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি সুবিধা আদায়ে আগে থেকেই তৎপর ছিল জাহাজ মালিকদেরই স্বার্থান্বেষী একটি অংশ। নতুন জাহাজ নির্মাণের ফলে সংকট কিছুটা হলেও কমবে তবে আমদানিকারকদের জাহাজকে পণ্যের গুদাম বানানোর মানসিকতা বন্ধ করতে হবে। ’

এত দিন জাহাজ মালিক সমিতির ছাড়পত্র ছাড়া নতুন জাহাজ তৈরি বা অনুমোদনের আবেদন করা যেত না। নতুন এই আদেশের ফলে জাহাজ মালিক সমিতির ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তা নেই। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের আদেশেও বলা আছে, জাহাজ মালিকদের সিদ্ধান্তে লাইটার জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে জাহাজের প্রয়োজন অনুযায়ী।

আদেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত ফরমে নৌযান নামকরণের আবেদন করে নামকরণের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ করতে হবে। অধিদপ্তরের অনুমোদিত ডিজাইন হাউসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। প্রতি ১৫ দিনে জমা হওয়া আবেদনের তালিকা মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপিত হবে। সেখান থেক অনুমোদন হয়ে নকশা মূল্যায়ন কমিটিতে যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করা হবে। আর প্রতি ৩০ দিন অন্তর নকশা মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৪৫ দিনের মধ্যেই আবেদনের অনুমোদন নিষ্পত্তি করতে হবে। অনুমোদন না হলে তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জানাতে হবে।

আদেশে বলা আছে, ১ জুলাই ২০১৬ সালের আগে জমা পড়া যেসব আবেদন এখনো অনুমোদন করা হয়নি। সেসব আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তবে আগের রসিদ দিয়ে নতুনভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করা যাবে।


মন্তব্য