kalerkantho


দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় বছরে ক্ষতি ২১৫ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যায় বছরে ক্ষতি ২১৫ বিলিয়ন ডলার

বিশ্বের চোখ যখন হারিকেন হার্ভে এবং ইরমার দিকে তখন দক্ষিণ এশিয়ায় ৪১ মিলিয়নের বেশি মানুষ বন্যার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে। পানির স্রোতে ঘর-বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে শুরু করে পূর্বে বাংলাদেশ পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২১৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক হারে এ ক্ষতি তাদের গুনতে হবে বলে জানায় ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট। ২০১৫ সালে এ রিপোর্টটি প্রকাশ করে বন্যাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ বাস করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে।

নয়াদিল্লিতে সংকট ও নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কন্ট্রোল রিস্কের নির্বাহী পরিচালক টম হিল বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না সেই সঙ্গে বৈশ্বিক কম্পানিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যারা এ অঞ্চল থেকে তাদের কাঁচামাল ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে থাকে।

শুধু গত মাসেই ভারতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, পাকিস্তানের করাচি, নেপাল এবং ভারতের বিহার ও আসাম প্লাবিত হয়ে ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জলবায়ুবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, আবহাওয়া ক্রমেই রুক্ষ হয়ে ওঠায় আগামী বছরগুলোতে আরো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের মতে, প্রতিবছর বন্যায় এ অঞ্চলের ৯.৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এমনকি ভারত ও বাংলাদেশে যথাক্রমে ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার ও ৫.৪ বিলিয়ন ডলার জিডিপি ঝুঁকির মুখে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিইনসুরার কম্পানি মিউনিচ রে জানায়, শুধু ২০১৬ সালেই এশিয়া অঞ্চলে ৩২০টি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বীমা না থাকা লোকসান ছিল ৭৭ বিলিয়ন ডলার।

বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান স্কাইমেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যতিন সিং বলেন, যদিও খরা ও দুর্যোগে গ্রামের মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু শহরের মানুষকে বন্যাসংশ্লিষ্ট ক্ষতি বহন করতে হয়।

কন্ট্রোল রিস্কের সিনিয়র বিশ্লেষক সিদ্ধার্থ গোয়েল বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কম্পানিগুলো বন্যসংশ্লিষ্ট ক্ষতি বোঝার চেষ্টা করছে এবং সেসব ক্ষতি কমিয়ে আনারও চেষ্টা করছে। কম্পানিগুলোর জন্য যেসব ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো হচ্ছে অবকাঠামো ও যোগাযোগ ঝুঁকি, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিগত বেকআপ ইত্যাদি।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে শহরের পরিকল্পনার অভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মানুষ বস্তি বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় বাস করে। ফলে বন্যার কারণে এরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আশা করা হচ্ছে ২০৩০ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে ২৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বসবাস করবে। যদি অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো না হয় তবে জলবায়ু পরিবর্তনে এদের জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। ব্লুমবার্গ।


মন্তব্য