kalerkantho


পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের প্রতিবাদ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গত ১২ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠের শিল্প বাণিজ্য পাতায় প্রকাশিত ‘৬৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স দেশের প্রথম সারির একটি বীমা কম্পানি।

বিগত দুই দশকের বেশি সময়ে এ কম্পানি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করার পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে মূসক ও কর প্রদান করে আসছে। প্রতিবাদলিপিতে প্রতিষ্ঠানটি চারটি বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছে যা নিম্নরূপ : বাতিলকৃত এম আর এর ওপর মূসক : বাতিলকৃত মানি রিসিপ্টের বিপরীতে সেবাদাতা হিসেবে অত্র কম্পানি কোনো প্রিমিয়াম পায়নি। কারণ প্রকৃতপক্ষে এ ক্ষেত্রে কোনো সেবা প্রদান করা হয়নি। কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই যেসব মানি রিসিপ্ট বাতিল করা হয়েছে শুধু সেগুলোর মূসক পরিশোধ করা হয়নি। সেবা প্রদান করা হয়নি বিধায় এ ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির প্রশ্নই আসে না। মূল্য সংযোজন কর আইনের ধারা ৩৭-এর অধীনে আরোপযোগ্য মাসিক ২% হারে সুদ দাবি একটি দণ্ডমূলক ব্যবস্থা। দাবি প্রতিষ্ঠা করার পূর্বে সুদ আরোপ করার সুযোগ নেই।

সি এ ফার্মের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট মোতাবেক বিভিন্ন খাতে উৎসে দাবীকৃত কর্তনযোগ্য মূসক : ক) মূসক আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩ অনুযায়ী মূসকের হার ১৫% এবং অত্র কম্পানি প্রদত্ত জেনারেল ইনস্যুরেন্স কম্পানি হিসেবে সেবার বিপরীতে প্রাপ্ত সমুদয় প্রিমিয়ামের ওপর ১৫% হারে মূসক অডিটকালীন বছরগুলোয় প্রদান করা হয়েছে। অধিকন্তু এতদিবষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো দাবি উত্থাপন করেনি।

উৎসে কর্তনের বিষয়টি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, যা প্রকৃতপক্ষে কম্পানির মূসক সম্পর্কিত দায় নয়। কারণ উক্ত দাবি প্রকৃতপক্ষে যে মূসক রেজিস্টার্ড ব্যক্তির দায় তার নিকট থেকে আদায়যোগ্য। যদি উক্ত দাবি অত্র প্রতিষ্ঠানের ওপর করা হয় তবে মূসকের হার অবশ্যই ১৫% এর অতিরিক্ত হবে, যা সরাসরি ধারা ৩ এর ব্যত্যয় হবে, যা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। খ) উল্লিখিত বিষয়ে ২০১৩ সালে এলটিইউ মূসক কর্তৃক পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনে ২০১০ ও ২০১১ সালের জন্য ‘যোগানদার’ এর ওপর কমিশনার কর্তৃক জারীকৃত বিজ্ঞপ্তি ও উক্ত বিষয়ে দাবিনামার বিপরীতে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট মামলা (রিট পিটিশন নং-১৫৫৫/২০১৪) দায়ের করা আছে। উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে মূসকের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। অফিস/স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে দাবীকৃত মূসক : যেহেতু অত্র কম্পানি ভাড়াটিয়া, তাই মূসকের দায় বাড়িওয়ালার ওপর বর্তায়।

এজেন্সি কমিশন এবং কমিশন অন রি-ইনস্যুরেন্স সিডেডের ওপর মূসক : ক) মূল্য সংযোজন কর আদায়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বীমা এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত সেবাকে নির্দিষ্ট সেবার কোডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূল্য সংযোজন কর) এই খাতকে অন্যান্য বিবিধসেবা (ঝঙ৯৯.২০) এর অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া এজেন্ট কমিশনের ওপর মূসক প্রদানের বিষয়ে মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট মামলা হয়েছে (রিট পিটিশন নং-৫৫২৮/২০১৬)। মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশনে উক্ত বিষয়ে স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে। উক্ত স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন দাখিল করলে তাও খারিজ হয়। উক্ত রিট মামলার বিচারাধীন বিষয়ে পুনঃদাবি আইনত অচল এবং সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরিপন্থী। তদুপরি সরকার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সেবার যে পরিধি নির্ধারণ করেছে তাতে ‘বীমা এজেন্ট’ কে সেবাদাতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি। সুনির্দিষ্ট সেবাদাতার পরিধির অবর্তমানে মূসক কর্তনের সুযোগ নেই। তাই মূসক কর্তন না করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

খ) কমিশন অন রি-ইনস্যুরেন্স সিডেডের ওপর মূসক প্রদানের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এই খাতে কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্স।


মন্তব্য