kalerkantho


১৫% ভ্যাট দিতে হবে এনজিওদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



১৫% ভ্যাট দিতে হবে এনজিওদের

দেশি-বিদেশি যেসব বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে, তাদের এখন থেকে নিজ নিজ সংস্থার নবায়ন করার সময় ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। প্রতিটি এনজিওর নবায়ন করতে যে ফি নির্ধারণ করা আছে, তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে এনজিও ব্যুরোর কাছে।

এনজিও ব্যুরো তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেবে। নতুন করে যারা এনজিও নিবন্ধন করবে, তাদেরও ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। এনজিও ব্যুরো থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আগে দিতে হতো না এনজিওদের। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে দেশি-বিদেশি এনজিওদের। এনজিও ব্যুরোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়ার আইনটি অনেক আগের হলেও আমাদের জানা ছিল না। এনজিও প্রতিনিধিদেরও জানা ছিল না। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আমাদের এনজিওদের কাছ থেকে নবায়ন ও নিবন্ধন ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করতে চিঠি আসে। এনবিআরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছি’। এনজিও ব্যুরো বলছে, তাদের কাছে নিবন্ধিত এনজিওর সংখ্যা এখন দুই হাজার ৫৫৩টি। এর মধ্যে দেশি ও বিদেশি দুটিই আছে। বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এনজিওদের মাধ্যমে ৬৭ কোটি ডলার অনুদান এসেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ পাঁচ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা।

এর আগে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নবায়ন ও ছাড়পত্রের ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একই চিঠি দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রথম দিকে ভ্যাট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময় ছাড়পত্র ও নবায়ন ফির ওপর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নিয়ে সেটা এনবিআরকে পরিশোধ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের যুক্তি ছিল, ছাড়পত্র দেওয়া ও নবায়ন ফি কোনো ধরনের সেবার মধ্যে পড়ে না। এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের যেসব সংস্থা জনগণকে লাইসেন্স, নিবন্ধন কিংবা এ ধরনের সেবা দিয়ে থাকে, ওই সেবার বিপরীতে সংস্থাগুলো যে ফি নেয়, তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে ২০১০ সালে একটি আইন করা হয়। আইনটি কার্যকর হয়েছে ওই বছর থেকেই। কিন্তু অনেক সংস্থা ওই আইন মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরও রয়েছে। এমনকি এনজিও ব্যুরোও রয়েছে। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইন যেহেতু কার্যকর, তাই সবাইকেই ভ্যাট দিতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

এনজিও ব্যুরো থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে বকেয়া ভ্যাট দিতে হবে এনজিওদের। নিবন্ধনকৃত যেসব এনজিও নবায়নের জন্য এনজিও ব্যুরোতে আসবে, তাদের নবায়নের ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন এবং নাম পরিবর্তনের সময় ফির ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে এনজিওদের।

এনজিও ব্যুরো থেকে আরো বলা হয়েছে, গত বছর সংসদে অনুমোদন পাওয়া বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন আইন ২০১৬-এর আওতায় এনজিওর নিবন্ধন ও নবায়নের মেয়াদ ১০ বছর করা হয়েছে। যার ফলে নতুন করে সরকার এনজিওর নিবন্ধন ও নবায়নের ফি নির্ধারণ করেছে। নতুন করে দেশীয় এনজিওর নিবন্ধন নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আগে ছিল ১৫ হাজার টাকা। বিদেশি এনজিওর নিবন্ধন নবায়ন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬ হাজার ডলার। যেটি আগে ছিল ২ হাজার ডলার। এনজিওর নাম পরিবর্তন ফি বাড়িয়ে ২৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে ছিল ১৩ হাজার টাকা।


মন্তব্য