kalerkantho


জার্মানিতে শেষ হলো আনুগা প্রদর্শনী

৫০ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল প্রাণ

মাসুদ রুমী, কোলন (জার্মানি) থেকে   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



৫০ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল প্রাণ

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রপ্তানীর আদেশ দিতে প্রাণের স্টলে উপস্থিত হন। ছবি : কালের কণ্ঠ

জার্মানিতে খাদ্যপণ্য ও পানীয় প্রদর্শনীতে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৪০ কোটি টাকা) রপ্তানি আদেশ পেয়েছে বাংলাদেশের প্রাণ গ্রুপ। কোলন শহরে পাঁচ দিনের এ আয়োজন গত বুধবার শেষ হয়েছে।

আনুগা ফেয়ার নামে পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য ও পানীয় মেলা এটি। এবার ১০৭টি দেশ থেকে সাত হাজার ৪০০ বৈশ্বিক বড় বড় খাদ্যপণ্য উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা প্রদর্শনীতে হাজির হন। কোলনমেসে বা কোলনের প্রদর্শনী কেন্দ্রে দুই বছর পরপর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আনুগা প্রদর্শনীতে এবার মিলিয়ে মোট ১৪ বারের মতো অংশ নিল প্রাণ।

প্রতিষ্ঠানটির এক্সপোর্ট লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, এবারের মেলায় তারা ৩৫টি দেশ থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ পেয়েছেন। গতবারের মেলায় এর পরিমাণ ছিল সাড়ে ৩০ লাখ ডলার। এবারও নতুন বাজারের পাশাপাশি অনেক আমদানিকারকও পাওয়া গেছে।

এবারের আনুগা প্রদর্শনীতে দুটি স্টলে প্রাণের পাঁচ শতাধিক পণ্য প্রদর্শন করেছে প্রাণ গ্রুপ। ১৯৯৬ সালে রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর পর বর্তমানে বিশ্বের ১৩৫টি দেশে নিয়মিতভাবে পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশের অন্যতম খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় পর্যায়ের চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত প্রাণ পণ্য দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ভালো বিক্রয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

প্রাণের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার বেশি। আগের বছরের চেয়ে তাদের রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ ছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

কম্পানির লক্ষ্য ২০২১ সাল নাগাদ পৃথিবীর সব দেশে প্রাণের পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া। এবার আনুগাতে কনফেকশনারি, জুস, মসলাসহ ১০ ক্যাটাগরির পাঁচ শতাধিক পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে। মেলায় আসা প্রাণের কর্মকর্তারা জানান, ললিপপ এবং ওয়ান্ডার কিডস (চকোলেট ও কুকিজের সঙ্গে খেলনা থাকে) সাড়া পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। অন্তত এক-তৃতীয়াংশ গ্রাহক ওয়ান্ডার কিডসের অর্ডার করেছে।

প্রাণ এক্সপোর্টের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (রপ্তানি) এবং ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলের রপ্তানি প্রধান গোলাম রসুল কালের কণ্ঠকে বলেন, নতুন বাজার হিসেবে ইউরোপের ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া, চেক রিপাবলিক, কোস্টারিকা ও হাঙ্গেরিতে তাঁরা গ্রাহক পেয়েছেন। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, বেলজিয়াম ও হাঙ্গেরির মতো পুরনো বাজারে নতুন গ্রাহক পাওয়া গেছে।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে সেভেন ডেজ নামের সুপারমার্কেট বাংলাদেশ থেকে প্রাণের পণ্য আমদানি করে। এর স্বত্বাধিকারী প্রবাসী বাংলাদেশি কামাল ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সুপারশপে প্রাণের জুস সবচেয়ে বেশি চলে। প্রাণের পণ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি জার্মানিসহ এখানের অন্য দেশের লোকেরাও কেনেন।

প্যারিসে প্রাণের আমদানিকারক বাহার হোসেন এসেছিলেন আনুগা মেলায়। তিনি জানালেন, তাঁর ওখানে অবাঙালিদের কাছেও প্রাণের জুসের কদর রয়েছে। কনফেকশনারিও ভালো চলে। প্রাণ নতুন নতুন পণ্য আনছে। ফ্রান্সে সেগুলো বাজার পাবে বলে মনে করেন তিনি।

বাহার হোসেন আরো বলেন, প্যারিসে ছোট ছোট গ্রোসির শপ এবং কিছু চেইন স্টোরে চলে প্রাণের পণ্য। তবে এই মেলার পর ফ্রান্সের বড় বড় কিছু সুপারমার্কেট চেইনেও প্রাণের পণ্য বিক্রি করবে বলে তিনি জানান।   প্রাণের সিনিয়র ম্যানেজার, এক্সপোর্ট ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান জে কবির সাকিব বলেন, ‘মেলায় আফ্রিকার গাম্বিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, ঘানা, পয়েন্ট নইরি, সোমালিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ থেকে অর্ডার পাওয়া গেছে। প্রাণের ম্যানেজার, এক্সপোর্ট জামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, এশিয়ায় চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ক্রেতারা অর্ডার দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন, ওমান ও ইরানেরও নতুন ক্রেতা পাওয়া গেছে।


মন্তব্য