kalerkantho


সঞ্চয়পত্রের সুদ কমাতে বলল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আবুল কাশেম   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সঞ্চয়পত্রের সুদ কমাতে বলল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্রের কারণে সরকার কম সুদে ব্যাংক থেকে এখন আর ঋণ নিচ্ছে না।

উল্টো সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া ঋণের অর্থে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছে সরকার। এতে ব্যাংকে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। আবার শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেট থেকে অনেকে বিনিয়োগ তুলে এনে সঞ্চয়পত্র কিনছে। এতে এ দুটি বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশঙ্কা করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সামগ্রিক আর্থিক খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফাও কমে যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগামী ২৬ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় ‘সরকারের আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’-এর বৈঠকে সঞ্চয়পত্রের সুদহার নিয়ে আলোচনা হবে। তবে রাজনৈতিক কারণে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র সঞ্চয়পত্রের সুদহার এখন আর কমানোর পক্ষে নয় সরকার।   

কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠক উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়কে পাঠানো হয়েছে, সেখানে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজা আকতার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার অধিক পরিমাণ ঋণ পাওয়ায় ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার বদলে আগে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করছে। তবে এটি বলা প্রয়োজন যে সঞ্চয়পত্রের সুদহার অর্থবাজারে বিদ্যমান সুদহারের চেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারের দায় বেড়ে যাচ্ছে এবং সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে সুদহার হ্রাস ও বন্ড বাজারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার বদলে আগের ঋণ পরিশোধের ফলে এ খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিষ্ক্রিয়করণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের সুদহার যৌক্তিকীকরণের বিষয়টি সরকার সুবিবেচনায় নিতে পারে।

বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৫ শতাংশ উেস কর কাটার পর গ্রাহকরা মাসে ৯১২ টাকা সুদ পাচ্ছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়া হয় তিন মাস পর পর। এক লাখ টাকার বিপরীতে উেস কর কেটে প্রতি তিন মাসে দুই হাজার ৭৯৩ টাকা পায় গ্রাহক। আর তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকার বিনিয়োগে দুই হাজার ৬২২ টাকা পায় গ্রাহক। বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছর মেয়াদি। মেয়াদ শেষে ১১.২৮ শতাংশ সুদ পায় গ্রাহক। আর এক লাখ টাকা ব্যাংকে আমানত রাখলে এখন মাস শেষে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সুদ পাওয়া যায়।

ব্যাংকের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারে বড় ফারাক হওয়ার প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত জুন মাসে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর কথা বলেছিলেন। ব্যাংকের সুদের হারের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের বর্তমান ব্যবধান কমিয়ে ২ শতাংশের মধ্যে নামানোর কথা বলেন তিনি। তবে তাঁর ওই কথার তীব্র বিরোধিতা করেন সরকারের অন্য মন্ত্রীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিপুলসংখ্যক সঞ্চয়পত্রের ক্রেতাকে হতাশ না করতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তাঁরা। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা নতুন করে নির্ধারণ করে দেওয়াসহ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সুদহার না কমিয়ে বড় ক্রেতাদের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক কারণে সেই উদ্যোগও স্থবির হয়ে আছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা গতকাল বলেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদহারের কারণে সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে।


মন্তব্য