kalerkantho


ঢাকার জীবনযাত্রা বদলে দেবে ‘স্মার্ট সিটি’ ধারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার জীবনযাত্রা বদলে দেবে ‘স্মার্ট সিটি’ ধারণা

রাজধানী ঢাকার প্রায় স্থবির জীবনযাত্রা বদলে দেবে ‘স্মার্ট সিটি’ ধারণা। টেকসই নগর উন্নয়নের এ ধারণা বাস্তবায়ন করা গেলে প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যার চাপে পড়া ঢাকার বাসযোগ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হয়ে আসবে।

স্মার্ট সিটির ধারণা বাস্তবায়ন হবে একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়ায়, যা হবে পুরোপুরি তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক। এতে নতুন কোনো অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের সঙ্গে প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার ‘স্মার্ট শহরের ব্যবসায়িক ধারণা এবং স্মার্ট নগরের অবকাঠামো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ রকমই আশার কথা শুনিয়েছেন দেশি-বিদেশি তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও ফ্রেডরিখ নুউম্যান ফাউন্ডেশনের (এফএনএফ) সহযোগিতায় এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সঞ্চালনায় এতে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ, এফএনএফের এ দেশীয় প্রতিনিধি ড. নাজমুল হোসাইন বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্ব ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার নগর পরিবহনব্যবস্থা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ প্রায় সব নাগরিক সুবিধাই অপর্যাপ্ত। তাই নগর উন্নয়ন এখন নাগরিকদের প্রধান দাবি বলে মনে করেন তাঁরা।

তবে এই নগর উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ। তবে এসব সুবিধায় আধুনিক ব্যবস্থাপনাসহ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হতে হবে। সে কারণেই স্মার্ট সিটি ধারণা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এতে যানজট নিরসনে নগর পরিবহনব্যবস্থা, সড়ক, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা হবে মানসম্মত। অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা নাগরিক কোনো সেবাই বাদ যাবে না এ শহরে। শুধু ঢাকা নয়, যেকোনো পৌর এলাকাকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, স্মার্ট শহরের ধারণা এখন বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ধারণা হলেও অনেক উন্নত দেশে এখনো এ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সরবরাহ এবং ইউটিলিটি সুবিধা, এমনকি ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফারও এ শহরের ধারণায় পড়ে। তিনি আরো বলেন, ‘স্মার্ট সিটির জন্য স্মার্ট মানুষের দরকার হয়। বাংলাদেশের মানুষ সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের অংশীদারদের নিয়ে এ পথেই এগোচ্ছি। আর ট্রাফিক জ্যাম বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বর্তমানে বড় সমস্যা হলেও বাংলাদেশে এ জ্যামের জন্য সুশাসনের অভাবকে দায়ী করা হয়। অথচ বাংলাদেশ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ই-পেমেন্ট পদ্ধতি চালু রয়েছে। ’

মূল প্রবন্ধে স্মার্ট সিটির ধারণা দিয়ে বলা হয়, স্মাট সিটি প্রধানত ছয়টি স্তম্ভের ওপর নির্ভর করে। এগুলো হলো স্মার্ট গভর্ন্যান্স, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট মোবিলিটি, স্মার্ট এনভায়রনমেন্ট, স্মার্ট পিপল এবং স্মার্ট লিভিং। তবে আমাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


মন্তব্য