kalerkantho


ডাব্লিউটিওর সাবেক ডিজি প্যাসকেল লামি

অসমতা কমাতে জরুরি অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অসমতা কমাতে জরুরি অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কার

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই অসমতা বেড়ে যাওয়ায় নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল লামি বলেছেন, ধনী ও দরিদ্র্যের ব্যবধান প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সারা বিশ্বেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈষম্য ও অসমতা। এই অসমতা কমাতে অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের তাগিদ দেন প্যাসকেল লামি। তাঁর মতে, কোনো দেশের অসমতা কমাতে আন্তর্জাতিক প্রভাব খুব কমই কাজ করে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এই ব্যবধান কমানো যেতে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তব্য দেন প্যাসকেল লামি। ফ্রান্স বংশোদ্ভূত এই কর্মকর্তা ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ডাব্লিটিওর মহাপরিচালরেক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শনিবার দুই দিনের সফরে ঢাকা আসেন তিনি। ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫-এর আয়োজক দেশ হিসেবে ফ্রান্সের সমর্থন আদায়ে তিনি এই সফর করছেন। ইতিমধ্যে এই এক্সপোর আয়োজন করতে ফ্রান্স, জাপান, রাশিয়া এবং আজারবাইজান আবেদন করেছে। ১৭০ দেশের অংশগ্রহণে গঠিত ব্যুরো ইন্টারন্যাশনাল দি এক্সপোজিশনের (বিআইই) আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ পরিষদের সভায় চূড়ান্ত দেশের নাম ঘোষণা করা হবে। সিপিডি আয়োজিত ‘নলেজ শেয়ার, প্লানেট টু কেয়ার’ শিরোনামে আয়োজিত লোক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

ফ্রান্সে এই প্রদর্শনীর আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্যাসকেল লামি বলেন, ‘সর্বজনীন আয়োজনকে অবশ্যই সর্বজনীনভাবে আয়োজন করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর আগে ২০২৫ সালে এই বিশ্ব প্রদর্শনীর আয়োজন হতে যাচ্ছে। সেখানে এসডিজির অর্জনগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। শুধু বাণিজ্য নয়, বিশ্বের সামনে এখন জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলাও চ্যালেঞ্জ। আমরা চাই নলেজ শেয়ারের মাধ্যমে এই বিশ্বের যত্ন নিতে।’

সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওয়ান প্লানেট সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ অসাধারণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা প্যারিস ঘোষণায় বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত করবে কি না অধ্যাপক রেহমান সোবহানের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্যাসকেল লামি বলেন, এক ব্যক্তির ভূমিকার ওপর সব কিছু নির্ভর করবে না। প্যারিস ঘোষণা বাস্তবায়নে বিশ্বের বড় ৪০টি দেশ এগিয়ে এসেছে। তারা ইতিমধ্যে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় কাজও শুরু করেছে। তা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল জনগোষ্ঠী, বহুজাতিক অনেক প্রতিষ্ঠানও এর পক্ষে কথা বলছে। এসডিজিতেও জলবায়ুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ফলে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমিরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ফ্রান্স। তা ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের পক্ষে জোরালোভাবে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভর। এ খাতে একটি পাঁচ ডলারের শার্ট বিশ্ববাজারে ২৫ থেকে ৩০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ধরনের অসমতার বিষয়গুলো কিভাবে সমাধান হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্যাসকেল লামি বলেন, ‘আমরা আগে অনেক সময় ব্যয় করেছি শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত সুবিধা নিয়ে। এবার সময় এসেছে উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের সুরক্ষায় কাজ করার।’


মন্তব্য