kalerkantho


পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৭০% ঋণ সঞ্চয়পত্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৭০% ঋণ সঞ্চয়পত্রে

নভেম্বরে কিছুটা কমলেও অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বড় অঙ্কের ঋণ এসেছে সঞ্চয়পত্র থেকে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে ২১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা।

সর্বশেষ নভেম্বর মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে নিট ঋণ এসেছে ৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। আগের মাস অক্টোবরে এসেছিল ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, আগস্টে ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে নিট ঋণ এসেছিল ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের করা সঞ্চয় স্কিমগুলোর মাসিক বিনিয়োগ বিবরণী থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলোতে আসা মোট বিনিয়োগ থেকে মূল ও মুনাফা পরিশোধের পর নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৭২ কোটি টাকা, যা অর্থবছরের পুরো সময়ের লক্ষ্যমাত্রার ৭০.২২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছিল ২০ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরের পুরো সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। আর অর্থবছর শেষে সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে আসা নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর থেকে সঞ্চয় স্কিমগুলোর মুনাফার হার কমানোর ইঙ্গিত থাকলেও এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো নির্দেশনা না আসায় এ খাতে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল্য ও মুনাফা পরিশোধের পর যে পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকে সেটাই নিট বিনিয়োগ। তাই বিনিয়োগের ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে অত্যধিক হারে ঋণ আসায় ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণের চাপ কম।


মন্তব্য