kalerkantho


দেশে প্রথম অনুষ্ঠিত হলো ফ্যাশনলজি সামিট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশে প্রথম অনুষ্ঠিত হলো ফ্যাশনলজি সামিট

আইসিসিবিতে ফ্যাশনলজি সামিটে আগত পোশাক খাতের বিশেষজ্ঞ ও অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উদ্ভাবন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ২০২১ সালে মধ্যে বাংলাদেশ পোশাক খাতের ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে করতে পারবে। এমন মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্যাশনলজি সামিটে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পোশাক ও ফ্যাশন শিল্পে বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা।

 

গতকাল সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএই)। আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশে ফ্যাশনলজি সামিটকে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ফ্যাশনের সব স্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনমেলায় পরিণত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বস্ত্র ও ফ্যাশন শিল্পের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা হবে।

সামিটে অংশগ্রহণকারী ভারতের ডেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনালের চিফ ডিজাইন অ্যান্ড মার্কেটিং অফিসার মৌ নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ ফ্যাশনলজি সামিটের মতো এ ধরনের আয়োজন উদ্যোক্তাদের একটি সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, এর আগে বহু ফ্যাশন শো ও এক্সপো হলেও আন্তর্জাতিক কোনো ফ্যাশনলজি হয়নি। প্রযুক্তি কিভাবে পোশাক খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, ওয়েস্টেজ কমাতে পারে সেই দিকগুলো নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের ফাস্ট ফ্যাশন তৈরিতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে আয়োজকরা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্র্যান্ড, পোশাক ও বস্ত্র প্রস্তুতকারক, প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার নির্মাতা এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ফ্যাশনলজি সামিটে অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ১৭ জন ফ্যাশন ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এই সম্মেলনের চারটি সেশনে অংশ নেন। তাঁরা প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর পোশাক ও ফ্যাশন শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করেন। উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা, ক্রেতা প্রতিনিধি, বাণিজ্যিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগীসহ পোশাকশিল্পের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৪০০ প্রতিনিধি অংশ নেন এ সম্মেলনে।

বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সোয়েটার কারখানা তাদের কারখানায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের সিইও মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ফ্যাশনলজি সামিটের উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা। তিনি আরো বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পোশাক ও ফ্যাশন শিল্পে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই ছাদের নিচে আনার চেষ্টা করেছি।’

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের এমডি মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উন্নয়নের পথকে সুগম করা। আগামীর পোশাক খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্যই বাংলাদেশ ফ্যাশনলজি সামিটের আয়োজন। এদিকে সামিটে প্রথমবারের মতো ফ্যাশন টেক রানওয়ে শোর আয়োজন করা হয়। এতে নেদারল্যান্ডস, স্পেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং ভারতের ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাদের উদ্ভাবনী ফ্যাশন প্রদর্শন করেন।

 



মন্তব্য