kalerkantho


মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল

বিজিএমইএ পেল ৫০০ একর জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বিজিএমইএ পেল ৫০০ একর জমি

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পোশাকপল্লী গড়তে সরকারের কাছ থেকে ৫০০ একর জমি পেল পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় পোশাকপল্লী নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে ঝুঁকছে পোশাকশিল্পের মালিকরা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বিজিএমইএর মধ্যে ৫০০ একর জমির লিজ গ্রহণে একটি চুক্তি সই হয়। একই সময়ে জমির মূল্য হিসাবে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বেজাকে ২৫ কোটি টাকার চেক দেওয়া হয়।

সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজার) সদস্য এমদাদুল হক এবং বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, বাণিজ্যসচিব শুভাশিস বসু, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও ইএবি সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী প্রমুখ।

বিজিএমইএ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ৫০০ একর এলাকার ভূমি উন্নয়নসহ সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে। এক বছরের মধ্যে সেখান থেকে পণ্য উত্পাদন শুরু হবে বলে জানিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কাছে হওয়ায় উত্পাদিত পণ্য আনা-নেওয়া অনেক সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আশা করছি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় চার হাজার ডলার হবে। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬২০ ডলার। ১০ বছর আগেও এটা ছিল ৩ শতাংশের ১ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণের বেশি। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই হিসেবে বিদ্যুৎ বেশ ভালো রয়েছে, গ্যাসও এ বছরের শেষ নাগাদ পরিপূর্ণতা আসবে। এ নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি ২০২১, ২০৩০ এবং ২০৪১-এ উন্নত দেশ হওয়ার।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, দেশের মোট জিডিপি আড়াই শ বিলিয়ন ডলার। এর বেশির ভাগই বেসরকারি খাতের অবদান। ব্যবসায়ীরা যত সাহসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবে, দেশের অগ্রগতি ততই এগিয়ে যাবে। সরকার ব্যবসায়ীবান্ধব। আপনাদের এগিয়ে যেতে সরকার সব কিছুই করবে।

সুভাশিষ বসু বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের ৮০ শতাংশের বেশি রপ্তানি আয় করে। এ খাতে উন্নয়নে এমন একটি পল্লী জরুরি ছিল।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি না ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবে না, আর রাজনীতিবিদরা ব্যবসা করতে পারবে না। এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশের ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। কোনো ব্যবসায়ী দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। তবে হলমার্কের মতো তথাকথিত ব্যবসায়ীদের কথা আমি বলছি না। দেশের ভালো ব্যবসায়ীদের একটি লক্ষ্য দিন। আমাদের উৎসাহিত করেন। আমরা সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দেব।’ 

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘মিরসরাইয়ে এখন আমাদের ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো দেড় হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। বেজা থেকে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাইব আমার মালিক ভাইয়েরা সেখানে কত দিন পর থেকে গার্মেন্টের কাজ শুরু করতে পারবে। গার্মেন্টের কাজ শুরু হলে আমরা বলতে পারব, পোশাকপল্লী থেকে আমরা কবে উত্পাদনে যেতে পারব। ভবিষ্যতে দেশের পোশাক খাতে পাঁচ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, এ পল্লীর মাধ্যমে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।



মন্তব্য