kalerkantho


মোটা চালের দাম কমতির দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মোটা চালের দাম কমতির দিকে

দেশি ও আমদানি করা চালের সরবরাহ ভালো থাকার কারণে বাজারে এর দাম কমতে শুরু করেছে। এই অবস্থা বজায় থাকলে চলতি বোরো মৌসুমের চাল পুরোদমে বাজারে এলে দাম আরো এক দফা কমবে বলে জানিয়েছে ঢাকার পাইকারি বিক্রেতারা।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও মোটা চালের দাম ছিল ৪৪-৪৫ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকায়। এই চালই আবার কোনো ক্রেতা যদি চালের কমিশন এজেন্ট বা পাইকার বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেনে তবে সেখানে দাম পড়বে ৩৮ টাকা। ৩৮ টাকা হিসাবে ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকাল বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে মোটা চালে এক মাসের ব্যবধানে ৬.৮২ শতাংশ দাম কমেছে। তবে মোটা চালের মধ্যে একটু ভালোমানের বিআর ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৬-৪৮ টাকায়।

তবে মোটা চালের দাম কমলেও তুলনামূলকভাবে সরু ও মাঝারি মানের সরু চালের দাম সেভাবে কমেনি। মাঝারি মানের সরু চালগুলো বাজারভেদে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা আগে ছিল ৬০-৬৫ টাকা। তবে কোনো কোনো খুচরা বিক্রেতা মানভেদে ৬০-৬২ টাকায় এই চালগুলো বিক্রি করছে। এর পাশাপাশি আমদানি করা কিছু মাঝারি মানের সরু চাল ৫০-৫৫ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালোমানের সরু চালগুলো ৬৫-৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সরু চালগুলোতে এক মাসের ব্যবধানে ১.৫৪ শতাংশ দাম কমেছে।

মধ্য বাড্ডার শাহিন ট্রেডার্সের প্রপ্রাইটার ইউনুস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বর্ণা চাল ৪২ টাকায় বিক্রি করছি। তবে কেউ পরিমাণে বেশি নিলে তা ৪০ টাকায় বিক্রি করি। এর আগে ৪৫ টাকা ছিল স্বর্ণার কেজি।’

কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের আল্লাহর দান ট্রেডার্সের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচুর ভারতীয় চাল বাজারে রয়েছে। দেশি চালও আছে। এ কারণে দাম কিছুটা কমেছে। বোরো মৌসুমের চাল বাজারে এলে দাম আরো একটু কমার সম্ভাবনা আছে।’

পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে. এই মুহূর্তে দেশি ও আমদানি করা চালের কোনো প্রকার ঘাটতি নেই। পাশাপাশি সরকারের কাছে চালের ভালো মজুদ রয়েছে। ওএমএসে ৩০ টাকা এবং অতি দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কর্মসূচি চলছে। সব মিলিয়ে বাজার কিছুটা কমতির দিকে।

জানতে চাইলে বাড্ডার পাইকারি চালের ডিলার কামরুল রাইস এজেন্সির ম্যানেজার আমিনুল হক খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশি চালও আছে, আমদানি করা চালও আছে। আবার উত্তরাঞ্চলে বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ কারণে মোটা চালের দাম বেশ খানিকটা কমেছে। তবে বাজারে বোরো মৌসুমের চাল পুরোপুরি আসতে শুরু করলে দাম আরো কমবে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চলতি মাসের ২৪ তারিখের মজুদ পরিস্থিতির তথ্যানুযায়ী সরকারের কাছে বর্তমানে ৮.৩৭ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় অতিদরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে (মাসে ৩০ কেজি) চাল বিক্রি এবং সারা দেশে ওএমএসের মাধ্যমে ট্রাকে করে ৩০ টাকা কেজিদরে গত মার্চ থেকে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে।

তবে ১৫-২০ দিন ধরেই কিছুটা বাড়তি। সপ্তাহের ব্যবধানে একই রকম রয়েছে সবজির বাজার। রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি টমেটো ও পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ৪০-৫০ টাকা, কাকরোল ৭০-৮০ টাকা কেজি, বরবটি প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা, লতি প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ২৫-৪০ টাকা, ঝিঙা ৩৫-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ ৪০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখনো ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


মন্তব্য