kalerkantho


আরো ২৯ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব

আরিফুর রহমান   

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



আরো ২৯ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব

সরকারি-বেসরকারি মিলে নতুন করে আরো ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এর মধ্যে সরকারিভাবে আটটি আর বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ২১টি। প্রস্তাবিত ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের জন্য আজ বেজার ষষ্ঠ গভর্নিং বোর্ডের সভায় উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। নতুন ২৯টি অনুমোদন পেলে সব মিলিয়ে অনুমোদিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৮টি। আজকের গভর্নিং বোর্ডের সভায় চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ‘বঙ্গবন্ধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ নামকরণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং ফেনীর সোনাগাজী উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৩০ হাজার একর জমির ওপর দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ এগিয়ে চলছে।

এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে বেজা। জমি অধিগ্রহণের সময় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ শতাংশ জমি প্রদানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের কিভাবে পুনর্বাসন করা হবে, সেসংক্রান্ত আলাদা একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ গভর্নিং সভায় উঠছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জমি বন্দোবস্ত কিংবা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চবিত্ত এবং জমির মালিকরা প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হন। তবে বাস্তুহারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের আবাসন ও কর্মক্ষেত্র হারানোর বিপরীতে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হয়ে থাকে, সে অর্থ দ্বারা তাদের যথাযথ পুনর্বাসন হয় না।

বেজা এসব ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনসাধারণের পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের এলাকার নির্দিষ্ট অংশে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ শতাংশ জমি দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রত্যেক দরিদ্র পরিবারকে আগামী ৫০ বছরের ব্যাবহারিক অধিকার ভিত্তিতে জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে। বরাদ্দকৃত জমি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হলে তাদের পাকা ছাদবিশিষ্ট ঘর এবং অন্যান্য এলাকায় হলে টিনের চালাবিশিষ্ট পাকা ঘর করে দেওয়া হবে। কর্মক্ষেত্র হারানো ব্যক্তিদের বিভিন্ন ট্রেডে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থানে সহায়তা করা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া বাসা বা বাড়ি যারা বরাদ্দ পাবে, তারা ভাড়া দিতে পারবে না।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো মানুষের যখন জমি অধিগ্রহণ করা হবে, আমরা তাদের তার পাশেই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেব। সরকারের খাস জমি হলেও আমরা তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব।’

নতুন ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশে পরিকল্পিত শিল্পায়ন। দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে ঝুঁকছে। এসব প্রস্তাব আমরা গভর্নিং বোর্ডের সভায় তুলব।’

গভর্নিং বোর্ডের সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণকাজের জন্য ‘অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’ নামের আলাদা একটি তহিবলের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য তুলছে বেজা। এই তহবিলের আকার ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। বেজার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশে শিল্পসহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ‘অবকাঠামো উন্নয়ন’ তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। বেজার আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে গভর্নিং বোর্ডের সভায়। একই সঙ্গে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও কক্সবাজার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম) জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার উন্নত জমির জন্য ৩০ সেন্ট উন্নয়ন চার্জ নির্ধারণ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ গভর্নিং বোর্ডের সভায় তোলা হচ্ছে।

এদিকে আজকের গভর্নিং বোর্ডের সভায় ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) বিধিমালা, ২০১৮’-এর খসড়া অনুমোদনে জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে। এটি অনুমোদন পেলে বিনিয়োগের ছাড়পত্র, কম্পানির নিবন্ধন এবং জমি ক্রয় ও লিজ দলিল সম্পন্ন হবে মাত্র এক দিনেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত পাওয়া যাবে মোটে সাত দিনে। ট্রেডলাইসেন্স, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, শুল্ক ও ভ্যাটসংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যাবে তিন দিনে। প্রকল্প ছাড়পত্র কিংবা জমির নামজারি মিলবে ১৫ দিনে, প্রকল্পের প্রকারভেদে পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে সময় লাগবে সাত দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ দিন।

দেশের ১০০টি প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এভাবে দিন গুনে গুনে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করবে সরকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সেবা দিতে এই বিধিমালা তৈরি করেছে বেজা। এটি হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের হয়রানি, খরচ ও সময় বাঁচবে। এসব সেবা পেতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে এখনকার মতো আর ঘুরতে হবে না ব্যবসায়ীদের। ফি পরিশোধের পর অনলাইনে আবেদন করে তার প্রিন্ট কপি কেন্দ্রীয় ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে জমা দিলেই সময়মতো মিলবে সব সেবা।


মন্তব্য