kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের তৈরি পোশাক

এম সায়েম টিপু   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের তৈরি পোশাক

রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করা ছাড়াও নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের বেশ মন্দা সময় অতিক্রম করছিল। তবে কয়েক মাস ধরে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক আবারও ইতিবাচক দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বস্ত্র ও পোশাক খাতের দপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের (জানুয়ারি-এপ্রিল) প্রথম চার মাসে আয় হয়েছে ১৮৭ কোটি ডলার। এ আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২.৯ শতাংশ বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে তাঁর সরকার ট্রান্স ফ্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি বাতিল করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে এ সুবাতাস তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পোশাক খাতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ অন্যতম প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম। টিপিপি সুবিধার ফলে দেশটি প্রায় শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি করতে পারত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারাও দেশটিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগও করে ভিয়েতনামে। তবে গত বছর জানুয়ারিতে এ চুক্তি বাতিলের পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক খাতের বড় বড় ক্রেতা আবারও বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টিপিপির চুক্তি ও রানা প্লাজা ধসের দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্য রপ্তানি কিছুটা কমে এসেছিল। তবে কয়েক মাস ধরে এ বাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরতে শুরু করেছে। আর এর মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র টিপিপি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা। ফলে আমাদের পোশাক রপ্তানির বিশ্ববাজারে বড় প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসা আবারও বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তরের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ষষ্ঠ রপ্তানিকারক দেশ। প্রায় ৯০ শতাংশ তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক খাতে একক বড় রপ্তানি বাজারে পরিণত হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এ বাজার বাড়ার পেছনে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা সংগঠন অ্যালায়েন্স ও ইউরোপোর ক্রেতা জোটের সংগঠন অ্যাকর্ডের বেশ ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, এসব ক্রেতাজোট বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে সংস্কার কার্যক্রম তদারকির ফলে আমাদের কারখানা কর্মপরিবেশ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এর ফলে ইউরোপ এবং আমেরিকার ক্রেতাদের বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বড় ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ডলারের দরপতন, টাকার দাম বৃদ্দি এবং দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বতমানে বিশ্বমানের। এর ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে এক ডলারে প্রায় ৮৪ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে গত বছরও এর দাম ছিল মাত্র ৮০ টাকা। তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি পোশাক উচ্চমূল্যের পোশাকও রপ্তানি বাড়ছে। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের প্রধান বাধা উচ্চ শুল্ক। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে আমদের প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি শুল্ক দিতে হয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এ সময় সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে চীন। যা প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলার। এ সময় ভারত রপ্তনি করেছে ২৬৭ কোটি ডলার, ভিয়েতনাম প্রায় ৪০০ এবং পাকিস্তান এই বাজারে তাদের পোশাক রপ্তানি করেছে ৯২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের সঙ্গে টিপিপি চুক্তিটি হয়। টিপিপি চুক্তির আওতায় যেসব দেশ সুবিধা বিশেষ বাজার সুবিধা পেত সেই দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর,  ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্র। এ দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

 

 

 



মন্তব্য