kalerkantho


বিনিয়োগের ৩০% পিপিপির প্রকল্প নিতে হবে

আরিফুর রহমান   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বিনিয়োগের ৩০% পিপিপির প্রকল্প নিতে হবে

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে প্রতিবছর যে টাকা (বিনিয়োগ) দেওয়া হয়, এখন থেকে তার ৩০ শতাংশ দিয়ে সরকারি বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্প নিতে হবে। যেমন এক অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে যদি ১০০ টাকা বরাদ্দ থাকে, তার ৩০ শতাংশ টাকা পিপিপির আওতায় প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার পাশাপাশি এই মডেলকে জনপ্রিয় করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া নির্দেশ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। পিপিপিতে প্রকল্প নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বলা হয়েছে চিঠিতে। এডিপিতে অর্থায়ন ও প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া যেহেতু পরিকল্পনা কমিশন করে থাকে, সে জন্য পিপিপির প্রকল্পগুলোও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। এ জন্য কমিশনে পিপিপির জন্য আলাদা একটি সেল গঠনের চিন্তা-ভাবনাও শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য, পিপিপির আওতায় প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানো। পিপিপিকে কার্যকর করা এবং দ্রুত কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা।

জানতে চাইলে পিপিপি কার্যালয়ের পরিচালক (উপসচিব) আবুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পিপিপির আওতায় প্রকল্পের সংখ্যা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেটি হলো কোনো মন্ত্রণালয়ের মোট বিনিয়োগের ৩০ শতাংশ পিপিপি প্রকল্পে খরচ করতে হবে। এটি করতে পারলে পিপিপি প্রকল্পে গতি আসবে।’

এদিকে এখন থেকে দুই দেশের সরকার মিলে (জিটুজি) যৌথভাবে পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের যেকোনো দেশের সরকার কিংবা তাদের মনোনীত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। আগে এই সুযোগটি ছিল না। গত ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরসের দ্বিতীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পিপিপি আইনে আগে এই ধারাটি ছিল না। আইনটি সংশোধন করে নতুন করে ধারাটি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে। আইনের নতুন ধারায় বলা হয়েছে, ‘পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও অন্য কোনো দেশের সরকার বা মনোনীত কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক চিহ্নিত কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জিটুজি পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে।’

পিপিপি কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, জিটুজি পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান, সিঙ্গাপুর তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। সে কারণে আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশে পিপিপি মডেলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ করতে চায় জাপান। এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথম পদ্মা সেতুর কাজ একটা অবস্থানে যাওয়ার পর দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ছাড়াও জাপান পিপিপির মাধ্যমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন, মেট্রো রেল লাইন দুই, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পও বাস্তবায়নে আগ্রহ আছে জাপানের। দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এসব প্রকল্প নিয়ে আলোচনাও চলছে। এ ছাড়া পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে সিঙ্গাপুরের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। দেশটি বাংলাদেশের আবাসন, বন্দর ও পর্যটন খাতে কাজ করতে চায়।

পিপিপি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, নির্বাচনের বছর সাধারণত দেশে বিনিয়োগ কম হয়। এটা ঠিক। সরকারের শেষ সময়ে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। তবে আলোচনা তো এগিয়ে নিতে হবে। নির্বাচনে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, যাতে আলোচনাটা এগিয়ে নিতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কোনো মন্ত্রণালয়ের ৩০ শতাংশ অর্থ পিপিপির আওতায় প্রকল্প নেওয়ার চিন্তা আসে পিপিপি কর্তৃপক্ষের কার্যালয় থেকে। পিপিপি কার্যালয় যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পৌঁছাতে হলে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় শুধু দেশের ভৌত ও সেবা খাতে প্রতিবছর জিডিপির ১.৮ শতাংশ বিনিয়োগ জরুরি। সে জন্য পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। পিপিপির উদ্যোগকে সফল করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আলাদা পিপিপি সেল গঠন ও ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে প্রথমবারের মতো ২০০৯ সালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপি মডেল চালু করে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি ও বেসরকারি (পিপিপি) মিলে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন ততটা সফল হওয়া যায়নি আমলাতান্ত্রিকসহ নানা জটিলতার কারণে। নানামুখী উদ্যোগ নিলেও দেশে এখনো জনপ্রিয়তা পায়নি পিপিপি মডেল।

 



মন্তব্য