kalerkantho


সিএজি পদ শূন্যে টিআইবির উদ্বেগ

শিগগিরই নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল-সিএজি) পদে কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিগগিরই নতুন মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানিয়েছে টিআইবি। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সিএজির মতো সাংবিধানিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা মানে হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র কাঠামোতে প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য সুদৃঢ় করার জন্য সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের আওতাভুক্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সিএজি কার্যালয়কে সক্রিয় ও কার্যকর রাখতে সরকার আরো সক্রিয় হবে, আমরা এটা আশা করি। সিএজির অবর্তমানে নিরীক্ষা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে যথাযথভাবে পেশ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থবির হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।’

শিগগিরই এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে সংবিধানসম্মতভাবে নতুন সিএজি হিসেবে সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীকে নিয়োগদানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছে টিআইবি। সিএজি পদটির সাংবিধানিক মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে এ ধরনের শূন্যতা এড়ানোর লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য মনে করছে টিআইবি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এশিয়াভিত্তিক সুপ্রিম অডিট প্রতিষ্ঠান এশিয়ান অর্গানাইজেশন অব সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশন (এএসওএসএআই) এবং আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউশনের (আইএনটিওএসএআই) বিভিন্ন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য হিসেবে সিএজি সম্পৃক্ত। সিএজির অনুপস্থিতিতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সিএজি কার্যালয়ের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সিএজি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) পদটি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। গত ২৬ এপ্রিল সিএজি মাসুদ আহমেদ অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য। সিএজি হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় বাংলাদেশের মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কার্যালয়ের কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম বলতে গেলে পুরোপুরি বন্ধ। নতুন কর্মকর্তাদের বেতন, পেনশন, ওমরাহ ছুটিসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাচ্ছে না। পদটি সাংবিধানিক হওয়ায় অন্য কেউ এই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ নেই। সিএজি পদটি শূন্য থাকায় গত ১৭ মের সংসদে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি ছিল নিষ্ফল। গত ২৭ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খরচ নিয়ে বৈঠকটিও শেষ হয় সিদ্ধান্ত ছাড়া। অন্য বৈঠকগুলোও হচ্ছে শুধু নিয়ম রক্ষার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিএজি পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সিএজি পদের জন্য চারজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আবিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ উজ জামান এবং অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসব কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে সিএজি পদে অডিট ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্য ক্যাডার থেকে এখন পর্যন্ত এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সিএজি পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, এটি একান্তই সরকার প্রধানের ইচ্ছা। পদটি সাংবিধানিক হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে দেশের স্বার্থে এই পদে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত।



মন্তব্য