kalerkantho


বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৭২২ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রপ্তানি আয় না বাড়ায় বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭২২ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৩৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৭৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের করা হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় অনেক বেশি। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিও সম্প্রতি বেড়েছে। তবে সেই তুলনাই রপ্তানি আয় বাড়েনি। যে কারণে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মে মাস শেষে ইপিজেডসহ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ৩২৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই ১১ মাসে আমদানি বাড়ার হার ২৫.৫২ শতাংশ। এর বিপরীতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৭.৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭০.৯ শতাংশ। ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি বড় হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের মে মাস শেষে চলতি হিসাবে ৯৩৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ২২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। তবে উদ্বৃত্ত থাকলে নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু গত কয়েক বছর উদ্বৃত্তের ধারা অব্যাহত থাকলেও গত অর্থবছরে চলতি হিসাব ঘাটতিতে পড়ে দেশ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছর জুড়ে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। এতে বৈদেশিক দায় পরিশোধে সরকারকে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৪৮ কোটি ডলার ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

আলোচ্য সময়ে সেবা খাতে বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়, উচ্চশিক্ষার খরচ ও দেশের কর্মরত বিদেশিদের বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে এ খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে মাত্র ৪১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে ১১ মাসে সেবা খাতের বাণিজ্যে দেশে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০৮ কোটি ডলার, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল (ঘাটতি) ৩০০ কোটি ডলার।



মন্তব্য