kalerkantho


মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়

মাওলানা কাসেম শরীফ

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়

সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, উত্থান-পতন ও দরিদ্রতা-সচ্ছলতা নিয়েই জীবন। এগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের জীবনচক্র এ নিয়মের অধীন করে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

এই অমোঘ নিয়ম অনুসারে সব সময় মানুষ সচ্ছল থাকে না। মানুষ যতই বিত্ত-বৈভবের অধিকারী হয়, কখনো না কখনো অর্থকষ্টে পড়তে হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও মানুষ ছিলেন। তিনিও আল্লাহর সৃষ্টিগত এ নিয়মের অধীন ছিলেন। ফলে তাঁর জীবনে যেমন সচ্ছলতা দেখা যায়, দরিদ্রতাও দেখা যায়। কিন্তু এক শ্রেণির সিরাতবেত্তা ও ভাসা ভাসা জ্ঞানের অধিকারী বক্তার বর্ণনায় শুধু মহানবী (সা.)-এর দরিদ্রতার বিষয়টি ফুটে ওঠে। তাঁদের বর্ণনা ও আলোচনা থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) খুবই অভাবে জীবন যাপন করতেন। কিন্তু বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গোটা জীবন-ইতিহাসের দিকে তাকালে এটা অনুমান করা খুবই সহজ যে তিনি মোটেও দরিদ্র ছিলেন না। তবে মানবজীবনের অনিবার্য নিয়মের অধীনে তাঁকেও কখনো কখনো অর্থকষ্টে পড়তে হয়েছে।

 

পারিবারিক উত্তরাধিকার সম্পত্তি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অর্থনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই এ প্রশ্ন এসে যায় যে তাঁর পারিবারিক মিরাস কী ছিল? প্রাচীন ইতিহাসবিদদের মধ্যে ইবনে সাদ  তাঁর শিক্ষক ইমাম ওয়াকিদি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব উম্মে আইমান নামে এক দাসী, পাঁচটি উট ও এক পাল বকরি রেখে গেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তরাধিকার সূত্রে এগুলো পেয়েছেন।’ (ইবনে সাদ, আত-তাবকাতুল কুবরা, বৈরুত, ১৯৫৭, প্রথম সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০০)

এই সম্পত্তি ছাড়া তিনি পৈতৃক ভিটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। মহানবী (সা.)-এর প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাক লিখেছেন, ‘জনাব আবদুল্লাহ সাইয়েদা আমিনার জন্য একটি জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানেই তাঁরা দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন।’ (সিরাতে ইবনে ইসহাক, পৃষ্ঠা ৩৩)

তাই এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় যে মহানবী (সা.) তাঁর মাতা-পিতার বিভিন্ন অস্থাবর সম্পত্তিও উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন।  উসামা বিন জায়েদ বিন হারেসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মক্কায় আপনি কি আপনার ঘরে অবস্থান করবেন?’ এর জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আকিল কি আমাদের জন্য কোনো জায়গা অবশিষ্ট রেখেছে?’ (মুসলিম, কিতাবুল হজ, হাদিস : ১৩৫১)

এ হাদিস সহিহ বুখারি ও আবু দাউদেও বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘আকিল কি আমার জন্য কোনো ঘর অবশিষ্ট রেখেছে?’

এসব বর্ণনা থেকে জানা যায়, আকিল [রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচাতো ভাই] নিজের আপন ভাই-বোনের জায়গার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জায়গাও বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই জায়গায় হিজরতের আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বসবাস করতেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর মৃত্যুসংক্রান্ত আলোচনায় সিরাতবেত্তারা এ বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন যে তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে মদিনায় গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন কোরাইশি ব্যবসায়ী কাফেলার দলভুক্ত। মদিনা থেকে ফেরার পথে মদিনার সন্নিকটে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর পরামর্শে তাঁকে মদিনায় তাঁর নানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কাফেলা যথারীতি চলে যায়। তারা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবকে অবহিত করেন। খবর শুনে আবদুল মুত্তালিব তাঁর বড় ছেলেকে মদিনায় পাঠিয়েছেন। ততক্ষণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ ওফাত লাভ করেছেন। এটা কিছুতেই বলা যায় না যে এটাই ছিল মহানবী (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহর একমাত্র ব্যবসায়িক সফর। বরং এটা খুব সহজেই অনুমিত হয় যে তিনি এর আগেও ব্যবসায়িক সফরে বের হয়েছেন। আর তাঁর মৃত্যুর পর এসব অর্থবিত্ত যে রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তরাধিকার সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।

 

শৈশবে মহানবী (সা.)-এর প্রতিপালন

হাদিস ও সিরাতবিদরা এ বিষয়ে একমত যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বপ্রথম দুগ্ধপান হয়েছিল তাঁর সম্মানিত মাতা আমিনার মাধ্যমে। এরপর হালিমা সাদিয়ার কাছ থেকে দুধ পান করেন। দুধ পান শেষে আবার তিনি মাতা আমিনার তত্ত্বাবধানে চলে এসেছেন। জীবনীকাররা এ বিষয়েও একমত যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিত মাতা আমিনা তাঁর জন্মের পর ছয় বছর জীবিত ছিলেন।

পুরো ঘটনার বিবরণ এমন : জন্মের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাতা তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের কাছে পৌত্রের জন্মের সুসংবাদ দেন। তিনি খুব খুশি হন এবং সানন্দে তাঁকে কাবাগৃহে নিয়ে গিয়ে আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেন। এ সময় তিনি তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মদ। আরবের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তম দিনে তাঁর খতনা করানো হয়। প্রথমেই তাঁকে মায়ের দুধ পান করানো হয়। মায়ের পর আবু লাহাবের দাসী সাওবিয়ার দুধ পান করানো হয়। সে সময় সাওবিয়ার কোলের শিশুর নাম ছিল মাসরুহ। সাওবিয়া তাঁর আগে হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং তাঁর পরে আবু সালমা সামা ইবনে আবদুল আসাদ মাখজুমিকে দুধ পান করিয়েছিলেন। (তালকিহুল ফুহুম, পৃষ্ঠা ৪, মুখতাসারুস সিরাহ, পৃষ্ঠা ১৩)

আরবের শহুরে নাগরিকদের রীতি ছিল, তারা নিজেদের শিশুদের শহরের অসুখবিসুখ থেকে ভালো রাখার জন্য দুধ পান করানোর কাজে নিয়োজিত বেদুইন নারীদের কাছে পাঠাতেন। এতে শিশুদের দেহ মজবুত ও শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠত। এ ছাড়া এর অন্য উদ্দেশ্য ছিল—যেন দুধ পানের সময়েই তারা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শিখতে পারে। এই রীতি অনুযায়ী আবদুল মুত্তালিব ধাত্রীর খোঁজ করেন এবং তাঁর দৌহিত্রকে হালিমা বিনতে আবু জুয়াইবের হাতে দেন। ওই নারী ছিলেন বনি সাদ ইবনে বকরের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর স্বামীর নাম হারেস ইবনে আবদুল ওজজা। ডাক নাম ছিল আবু কাবশা। তিনিও ছিলেন বনি সাদ গোত্রের।

হালিমা সাদিয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ছাড়া আবু সুফিয়ান ইবনে হারেস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকেও দুধ পান করিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবও দুধ পানের জন্য বনু সাদ গোত্রের একজন নারীর কাছে ন্যস্ত হয়েছিলেন। হালিমা সাদিয়ার কাছে থাকার সময় এই নারীও একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে দুধ পান করিয়েছিলেন। (জাদুল মায়াদ, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯)

দুধ পান করানোর সময় হালিমা সাদিয়া অনেকগুলো অলৌকিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তার মধ্যে যে ঘটনা তাঁকে বেশি চিন্তিত করেছে, সেটি হলো বক্ষ বিদীর্ণের ঘটনা। দুধ ছাড়ানোর পরও রাসুলুল্লাহ (সা.) বনু সাদ গোত্রেই ছিলেন। তাঁর বয়স যখন চার অথবা পাঁচ বছর, তখন বক্ষ বিদীর্ণের ঘটনা ঘটে। বেশির ভাগ সিরাত রচয়িতা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিন বছর বয়সে এ ঘটনা ঘটেছিল। (ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৪-১৬৫ )

এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে হাদিস শরিফে। বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিবরাইল (আ.) আগমন করেছেন। এ সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) শিশুদের সঙ্গে খেলা করছিলেন। জিবরাইল (আ.) তাঁকে শুইয়ে বুক চিরে অন্তর বের করেন। তারপর অন্তর থেকে একটি অংশ বের করে বলেন, এটা তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ। এরপর অন্তর একটি পাত্রে রেখে জমজম কূপের পানি দিয়ে তা ধুয়ে নেন। পরে যথাযথ স্থানে তা স্থাপন করেন। অন্য শিশুরা ছুটে গিয়ে বিবি হালিমার কাছে বলেছে, মুহাম্মদ (সা.)-কে মেরে ফেলা হয়েছে। এ কথা শুনে পরিবারের লোকেরা ছুটে আসে। এসে দেখে, তিনি বিবর্ণমুখে বসে আসেন।’ (সহিহ মুসলিম, ইসরা অধ্যায়, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯২)

এ ঘটনার পর বিবি হালিমা ভীত হয়ে পড়েন। তিনি শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি মায়ের স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠেন। (ফিকহুস সিরাহ, পৃষ্ঠা ৫০)

এদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিত মাতা আমিনার ইচ্ছা হলো, তিনি পরলোকগত স্বামীর কবর জিয়ারত করবেন। পুত্র মুহাম্মদ, দাসী উম্মে আইমন ও শ্বশুর আবদুল মুত্তালিবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় পৌঁছেন। এক মাস সেখানে অবস্থানের পর মক্কার পথে রওনা হন। মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি আবওয়া নামক জায়গায় এসে মাতা আমিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমেই তাঁর অসুখ বেড়ে চলল। অবশেষে তিনি আবওয়ায় ওফাত লাভ করেন। (ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮)

আবদুল মুত্তালিব পৌত্র মুহাম্মদ (সা.)-কে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় পৌঁছেন। পিতৃ-মাতৃহীন পৌত্রের জন্য তাঁর মনে ছিল ভালোবাসার ব্যাকুলতা। অতীতের স্মৃতিতে তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। পিতৃ-মাতৃহীন পৌত্রকে তিনি যে পরিমাণ ভালোবাসতেন, এত ভালোবাসা তাঁর নিজ পুত্র-কন্যার জন্যও ছিল না। ইবনে হিশাম লিখেছেন, আবদুল মুত্তালিবের জন্য কাবাঘরের ছায়ায় বিছানা পেতে দেওয়া হতো। তাঁর সব সন্তান সেই বিছানার চারদিকে বসত। কিন্তু মুহাম্মদ (সা.) গেলে বিছানায়ই বসতেন। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের শিশু। তাঁর চাচা তাঁকে বিছানা থেকে সরিয়ে দিলে আবদুল মুত্তালিব বলতেন, ওকে সরিয়ে দিয়ো না। ওর মর্যাদা অনন্য। এরপর তাঁকে নিজের পাশে বসাতেন। শুধু বসানোই নয়, মুহাম্মদ (সা.)-এর কাজকর্ম তাঁকে আনন্দ দিত। (ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৬৮)

এখানে একটি বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা জরুরি যে আবদুল মুত্তালিব ছিলেন তৎকালীন আরবের অন্যতম ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি ছিলেন পবিত্র কাবাগৃহের তত্ত্বাবধায়ক। অর্থবিত্ত, প্রভাব ও খ্যাতিতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর তত্ত্বাবধান ও প্রতিপালনে রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বেড়ে উঠেছেন, তখন নিশ্চয়ই তিনি গরিবি অবস্থায় বেড়ে উঠেননি—এ কথা খুব সহজেই বোঝা যায়। তাই এতিম হলেও মহানবী (সা.)-এর শৈশবে অভাব ও দরিদ্রতা ছিল না। শৈশবে তাঁর বেড়ে ওঠার পথ ছিল ফুলশয্যাময়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স যখন আট বছর দুই মাস ১০ দিন, তখন তাঁর দাদার স্নেহের ছায়াও উঠে যায়। আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর পুত্র আবু তালিবকে অসিয়ত করে গেছেন, তিনি যেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের বিশেষভাবে যত্ন নেন। আবু তালিব ও আবদুল্লাহ ছিলেন একই মায়ের সন্তান। (তালকিহুল ফুহুম, পৃষ্ঠা ৭)

আবু তালিব তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে গভীর স্নেহ-মমতার সঙ্গে প্রতিপালন করেন। তাঁকে নিজ সন্তানের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। বরং নিজ সন্তানের চেয়ে বেশি স্নেহ করতেন। ৪০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত ভ্রাতুষ্পুত্রকে সহায়তা করেন।

আবু তালিব প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রের স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখেই মানুষের সঙ্গে শত্রুতা ও মিত্রতার বন্ধন স্থাপন করতেন। (আর রাহিকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা ৪৮)

ইবনে সাদের বর্ণনা থেকে এ বিষয়ে আরো বিশদভাবে জানা যায়। তিনি লিখেছেন, ‘আবু তালিব রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সব সময় নিজ বাহুতে আগলে রাখতেন। তিনি যেখানে যেতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।’

উল্লেখ্য যে আবু তালিব ছিলেন কোরাইশদের অন্যতম সর্দার। তাঁর সুবিস্তৃত ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। তাঁর এক বাণিজ্যিক সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও গিয়েছিলেন। এমন ব্যক্তির ঘরে কি রাসুলুল্লাহ (সা.) গরিবি অবস্থায় ছিলেন? আবু তালিব যখন ইন্তেকাল করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বয়স ছিল ৫০ বছর। এই দীর্ঘ সময় তিনি আবু তালিবের তত্ত্বাবধানেই ছিলেন। এ সময় তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করতেন, এটা স্পষ্ট।

বি. দ্র. : লেখাটি ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক : সাংবাদিক ও তাফসিরকারক

kasemsharifcu@gmail.com



মন্তব্য