kalerkantho


মুখার্জি বহুমুখী খামার

দক্ষিণাঞ্চলে সাফল্যের দৃষ্টান্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ঝালকাঠির মুখার্জি বহুমুখী খামার সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ খামার থেকে দুধ বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় তিন কোটি টাকা। মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধানে খামারটিতে ছোট-বড় ৬৫টি গাভি ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গৃহপালিত পশু। খামারে কাজ করে স্থানীয় আটটি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকায় এ খামারে উৎপাদিত দুধ সংরক্ষণ বা প্যাকেটজাত করা যাচ্ছে না। দিনেরটা দিনের মধ্যেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা গ্রামের মুখার্জি বাড়িতে মাত্র পাঁচটি গাভি নিয়ে যাত্রা শুরু হয় মুখার্জি বহুমুখী খামারের। ১৬ বছরের ব্যবধানে এ খামারে এখন ৬৫টি গাভি, ১০টি মহিষ, প্রায় ১০০ ছাগল, অসংখ্য টার্কি মুরগি, কবুতরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি পলিত হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন সকালে উৎপাদিত হচ্ছে ২০০ লিটার দুধ, যা পাইকারের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে। তবে সংরক্ষণের সুবিধা না থাকায় বিকেলে উৎপাদিত প্রায় ১০০ লিটার দুধ দিয়ে ঘি তৈরি করে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করতে হচ্ছে খামারিদের। এ ছাড়া এখান থেকে পশুপাখির বাচ্চা কিনে ব্যক্তি পর্যায়েও ছোট ছোট খামার করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে।

মুখার্জি বহুমুখী খামারের উদ্যোক্তা শংকর মুখার্জি বলেন, ‘মাত্র পাঁচটি গরু নিয়ে আমরা এ খামার শুরু করি। বর্তমানে ৬৫টি গরু রয়েছে এখানে। আমাদের খামার থেকে দৈনিক ২০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। এগুলো শহরের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। যা বিক্রি করা সম্ভব হয় না, সেই দুধ দিয়ে আমরা নিজেরাই ঘি তৈরি করে বিক্রি করি। আমরা আগামী দিনে আরো নতুন কিছু করতে চাই, যাতে প্রতিটি ঘরে আমাদের দুধ পৌঁছে যায়। আমাদের খামারে এখন দুটি গাড়ির প্রয়োজন। প্যাকেটজাত করার ব্যবস্থা করলে আরো ভালো হতো, কিন্তু অর্থের অভাবে তা হচ্ছে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, তারা যদি সামান্য সুদে আমাদের ঋণ দেয়; তাহলে দ্রুত গতিতে আমরা এগিয়ে যেতে সক্ষম হব। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঝালকাঠিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুখার্জি খামারটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক খবর রাখছি। এই খামারটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি দৃষ্টান্ত।’

 


মন্তব্য