kalerkantho

পিরোজপুরে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা

বখাটে অধরা

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বখাটে অধরা

মোহাম্মদ রায়হান খান

পিরোজপুরের ইন্দুরকাণী উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারলেও গোয়েন্দা পুলিশ আসামি ধরতে পারেনি। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্ত যুবক।

আসামি মোহাম্মদ রায়হান খান পত্তাশী ইউনিয়নের মোহাম্মদ মনসুর আলী খানের ছেলে। উদ্ধারের পর মেয়েটি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

মামলার এজাহারপত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর সকালে একটি মোবাইল ফোনের নম্বর থেকে মেয়ের মায়ের ফোনে কল আসে। অন্য প্রান্ত থেকে পুরুষ কণ্ঠ বলে, ‘আমি ... (মেয়েটির বিদ্যালয়ের নাম) শিক্ষক বলছি। আপনার মেয়েকে জরুরি ক্লাসের জন্য এখনই স্কুলে পাঠিয়ে দিন।’ মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তার মা তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পথে ওত পেতে থাকা রায়হান একটি রুমালে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে মেয়েটির মুখে চেপে ধরে। চেতনা হারালে কালো মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় নিয়ে একটি কক্ষে বন্দি করে রাখে। এরপর যৌন নির্যাতন করে। এ দিকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে না পেয়ে ৩০ ডিসেম্বর পিরোজপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার মা। নিখোঁজের তিন দিন পর একটি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে কান্না ও ভয়জড়িত কণ্ঠে মেয়েটি তার পরিবারকে জানায়, সে কোথাও বন্দি আছে। তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। সে আরো জানায়, রায়হান ভুল করে মোবাইল ফোন ফেলে যাওয়ায় সে জানাতে পেরেছে। এরপর কথা বলা অবস্থায় মেয়েটির মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এসব কথা জানিয়ে গত ৬ জানুয়ারি পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে মেয়েটির বাবা আব্দুর রশিদ আকন পিরোজপুর শিশু আদালতে গত ২ জানুয়ারি মামলা করেন। এতে রায়হান, তার বাবা মোহাম্মদ মনসুর আলী ও মোসাম্মত রেবা বেগমকে আসামি করা হয়।

আদালত মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্ত ও মেয়েটিকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশের সহায়তায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে যৌন নির্যাতনের আলামত পান। এ বিষয়ে আদালতে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর আদালত মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়েটিকে তাঁর জিম্মায় দেন। আদালত আরো নির্দেশ দেন, ‘গুরুতর প্রকৃতির অপরাধ হওয়ায় নিয়মিত মামলা করে গোয়েন্দা শাখা পিরোজপুরের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক।’

এদিকে এ মামলায় উল্লেখ করা দুটো মোবাইল ফোন নম্বর নিরীহ মানুষদের বলে কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে। গতকাল কালের কণ্ঠ অফিস থেকে প্রথম নম্বরে কল করলে এক যুবক জানান, তিনি শ্রমিক। ঢাকার পাশে কারখানায় কাজ করেন। ঘটনার দিন এক যুবক (পাঞ্জাবি পরা) এসে বিপদে পড়েছে জানিয়ে ফোনটি কথা বলার জন্য দেওয়ার অনুরোধ করে। এরপর থেকে তার নম্বরে বিভিন্ন জন কল করেছে। কিন্তু, তিনি ওই যুবককে চেনেন না। ফলে তাঁদের সহায়তা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে আমি এখন বিপদে পড়েছি।’ দ্বিতীয় মোবাইল নম্বরে কল করলে এক নারী রিসিভ করেন। তিনি জানান, তিনি অন্য একটি জেলার বাসিন্দা। তাঁর ফোন অন্য কেউ ব্যবহার করে না। তবে এক মাস আগে থেকে এক মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে তার কাছে বহুবার কল এসেছে। ওই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। মেয়েটির বোনের জামাই বলেন, ‘রায়হান ধূর্ত প্রকৃতির ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের কুড়েরপাড় হাজি খবিরের পাঁচতলা বাড়ির ভেতরে একটি মসজিদে ইমামতি করে। এর আগেও সে নানাভাবে আমার শ্যালিকাকে উত্ত্যক্ত করেছে।’

মেয়ের মা বলেন, ‘রায়হান গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি পাচ্ছি না। পরিবারের লোকজন এখনো তার হুমকিতে রয়েছে।’

এ বিষয়ের গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত হোসেন বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’


মন্তব্য