kalerkantho


শেবাচিমে যন্ত্র বিকল, ভোগান্তি

বরিশাল অফিস   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কোমরে ব্যথা পেয়ে গত বুধবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন নগরের চরআবদানীর আছমা বেগম। চিকিৎসক তাঁকে দেখার পর এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। আছমার স্বামী মাদরাসা শিক্ষক মো. হাসান পরীক্ষাগুলো কম খরচে করানোর জন্য হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে যান। সেখান থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মেশিন বিকল, তাই পরীক্ষা হবে না।

এরপর আলট্রাসনোগ্রাম করানোর জন্য গেলে নির্ধারিত কক্ষ থেকে একই উত্তর আসে। পরে হাসপাতালের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাধ্য হয়ে পরীক্ষাগুলো করাতে হয়। তবে যে পরীক্ষা তিনি হাসপাতালে ৬০০ টাকায় করাতে পারতেন তা বাইরে দুই হাজার ৬০০ টাকায় করাতে হয়েছে।

একই সমস্যায় পড়তে হয় সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের বাসিন্দা ইজি বাইকের চালক সমশের আলীর পরিবারকে। তাঁর মা সুফিয়া বেগম বলেন, তাঁর ছেলে সমশের ইজি বাইক দুর্ঘটনায় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় তলায় মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন। তিনি হাসপাতাল থেকে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেননি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটিস্ক্যান করাতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছে একাধিক রোগীর স্বজন।

প্রতিদিন এই হাসপাতালে ভর্তি থাকে দুই সহস্রাধিক এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসে দেড় সহস্রাধিক রোগী। তাদের রোগ নির্ণয়ে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয় হাসপাতালসংলগ্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বরাবর যন্ত্রাংশ সচল করার আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে রোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যন্ত্রপাতিগুলো সচল রাখার চেষ্টা ঢিমেতালে চলছে। বরং রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে সেখান থেকে কমিশন সুবিধা পাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।

শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, রেডিওলোজি বিভাগের সিটিস্ক্যান মেশিন দুটি অচল রয়েছে ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে। একই সময় থেকে অচল রয়েছে এমআরআই মেশিন দুটি। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন রয়েছে আটটি। এর মধ্যে শুধু অর্থোপেডিক বিভাগের মেশিনটি সচল রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম করানোর পাঁচটি মেশিনের সব কটি অচল রয়েছে ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে। এক বছর ধরে অচল রয়েছে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোবাল্ট ৬০ মেশিনটিও।

রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতিগুলো অচল থাকার সত্যতা স্বীকার করে রেডিওলোজি বিভাগের ইনস্ট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার (সরঞ্জাম তদারককারী) পরিতোষ সরকার বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই সব মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। তার মধ্যে যেগুলোর গ্যারান্টির মেয়াদ রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কোবাল্ট ৬০ মেশিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা আর সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

তিনি জানান, সিটিস্ক্যান ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামতের জন্য চলতি মাসে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী হাসপাতালে আসবেন। এক্স-রে বিভাগে নতুন একটি মেশিন বসানো হচ্ছে। এমআরআই মেশিন সচল করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হবে। তাই হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় নতুন মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, হাসপাতালে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগীর সিটিস্ক্যান করানো হতো। আলট্রাসনোগ্রাম হতে ১০-১৫ রোগীর।

এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করেছে, মেরামতের জন্য তাদের অবহিত করা হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ চলছে। দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি যন্ত্রপাতিগুলো তারা মেরামত করবেন। রোগীর ভোগান্তি দূর করতে বাইরে যাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যেতে না হয় সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’



মন্তব্য