kalerkantho


গৌরনদীতে স্লুইসগেট নির্মাণ

পড়ে আছে কাজ নিয়ে গেছে বিল

বরিশাল অফিস   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বরিশালের গৌরনদীর বাকাই গ্রামে প্রায় সাত বছর আগে স্লুইসগেট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এ প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বেশির ভাগ বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। তাই স্থানীয় কৃষকদের কাছে প্রকল্পটি উপকারের পরিবর্তে বিষাদে পরিণত হয়েছে। খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে স্লুইসগেট নির্মাণকাজ করায় দীর্ঘদিন ধরে পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বোরো মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকরা ভোগান্তিতে পড়েছে। এ ছাড়া গৌরনদী-কালকিনি সীমান্তবর্তী ১০ গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পাউবো ২০১০-২০১১ অর্থবছরে উপজেলার বাকাই-দক্ষিণ মাগুরা চতলাপাড় খালের বাকাই গ্রামে প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কার্যাদেশ পায় মেসার্স আমিন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড নামের খুলনার একটি ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে বরিশালের আবদুস সালাম বাদল, জামাল হোসেন ও বদরুল আলম কাজ শুরু করেন।

দেখা গেছে, স্লুইসগেটের কাঠামো নির্মাণ করে জলকপাট বসানো হয়েছে। লোহার জলকপাট বসানোর পরে দীর্ঘদিন তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় মরিচা ধরেছে। স্লুইসগেটের দুই দিকের চারপাশে ব্লক বসানো হয়নি। খালের তীরে উইং ওয়াল নির্মাণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, ঠিকাদার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ কাজ করে লাপাত্তা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, কৃষকদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে স্থানীয়রা পাউবোতে লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, বিকল্প সেচের ব্যবস্থাও করেনি পাউবো। মেসার্স আমিন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড নামের ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী আবদুস সালাম বাদল বলেন, ‘যতটুকু কাজ করেছি, ততটুকুর বিল নিয়েছি। এলাকাবাসীর অসহযোগিতার কারণে সঠিকভাবে কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি।’ স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে বাকি কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকার লোকজনের সঙ্গে ঝামেলার কারণে কাজটি দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। তবুও ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠানকে কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পর সরেজমিন পরিদর্শন সাপেক্ষে বিলের অপরাংশ পরিশোধ করা হবে।’


মন্তব্য