kalerkantho


নবম-দশম শ্রেণির পরিমার্জিত ছয়টি বই হস্তান্তর

‘এমসিকিউ তুলে দেওয়া উচিত’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নবম-দশম শ্রেণির পরিমার্জিত ছয়টি বই হস্তান্তর

নবম-দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের ছয়টি পাঠ্য বইয়ের পরিমার্জিত কপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন টিমের সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে বইগুলোর কপি হস্তান্তর করেন।

পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটির সদস্য ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদসহ টিমের অন্য সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নবম ও দশম শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্য বইগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক আকর্ষণীয় ও সহজপাঠ্য হবে। বইয়ের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নতুন পরিমার্জিত বইগুলো আগামী বছর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অন্যান্য বইয়ের মানও বাড়ানো হবে। ’

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বইগুলোর মান উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে পাঠ্যপুস্তকের মানের দৃশ্যমান অগ্রগতি হলো। এগুলোর উপস্থাপনা সুন্দর ও বইগুলো সুখপাঠ্য হবে। শিক্ষার্থীরা পড়ে নিজেরাই বুঝতে পারবে।

পাঠ্য বইয়ের মান বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য ক্ষেত্রের মান বৃদ্ধিতেও পড়বে। ’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান কমছে না, বাড়ছে। তবে আমরা যে মানে পৌঁছতে চাই, সেটা হয়তো হচ্ছে না। শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা সারা জগতের চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার ফলে বিরাট উৎসাহ সৃষ্টি করছে। ছেলে-মেয়েরা স্কুলমুখী হয়েছে। যদিও ঝরে পড়া রোধ করা এখনো আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, সরকারের এই উদ্যোগে দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং পাঠ্য বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দেশের পাঠ্য বই নির্ভুল করা আরো সহজ হবে। নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা করে থাকে। তাই এ বছর নবম ও দশম শ্রেণির ১২টি পাঠ্য বই দিয়ে সুখপাঠ্য করার লক্ষ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।  

একই অনুষ্ঠানে মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চন (এমসিকিউ) পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেকোনো উপায়ে শিক্ষককে কনভিন্স করে ওই কক্ষের সব ছাত্রছাত্রী যেন ৩০ নম্বর পায়, সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীকে বললে সে আবার পাশের জনকে বলে দিচ্ছে। এটা অর্থের বিনিময়ে হচ্ছে বলেও আমাদের কাছে রিপোর্ট আসছে। তাই এমসিকিউ বোধ হয় পুরোপুরিভাবে উঠিয়ে দেওয়া উচিত। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আমরা নিশ্চয়ই আগামীতে এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বসব। ’ এখন ৩০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৭০ নম্বরের রচনামূলক অংশ রয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব বলেন, ‘আমাদের প্রশ্নপত্র নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। কেউ কেউ এমনও বলে যে মন্ত্রী, সচিব, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস করে দিচ্ছেন। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, বোর্ডের চেয়ারম্যানেরও প্রশ্নপত্র দেখার সুযোগ থাকে না। এই ফাঁসের সঙ্গেও শিক্ষকরাই জড়িত থাকেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। তাই আগামী বছর থেকেই পরীক্ষার হলে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। ’

সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘প্রায় ছয় বছর ধরে শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। যে আইনের অভাবে আমরা অনেক কিছু করতে পারি না, সেটি মন্ত্রিসভায় তোলার জন্য মোটামুটি রেডি হয়ে গেছে। আশা করছি, শিগগির তা তোলা হবে। ’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটির সমন্বয়ক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।


মন্তব্য