kalerkantho


মসজিদ-মন্দির উন্নয়নে ৬৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেন এমপিরা

একনেকে ৫১৮১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মসজিদ-মন্দির উন্নয়নে ৬৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেন এমপিরা

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে সারা দেশে মসজিদ, মন্দিরসহ সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের ৬৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া এই টাকা দিয়ে সংসদ সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ আসনের কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা, ঈদগাহ, খেলার মাঠ উন্নয়ন ও সংস্কারে খরচ করতে পারবেন।

এমপিরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দিরের তালিকা দেওয়ার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সে তালিকা ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। গতকালের একনেক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সে হিসেবে কোনো এমপির আসনে যদি দুটি উপজেলা থাকে তিনি পাবেন দুই কোটি টাকা; কোনো এমপির আসনে চারটি উপজেলা থাকলে তিনি পাবেন চার কোটি টাকা। এবারের বন্যায় যেসব স্কুল, মসজিদ, মন্দিরসহ অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় সেসব অবকাঠামো উন্নয়ন করতে সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন।

গতকালের সভায় ‘গোপালগঞ্জে বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন’ শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১১ তলা ভবনটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের পেছনে যুুক্তি তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা শহরে ৫৫টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি দপ্তরকে নিজস্ব ভবন না থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন ভাড়া নিয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালন করতে হচ্ছে।

এই ১৬টি দপ্তরের জন্য প্রতি মাসের চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে ভাড়া বাবদ ব্যয় হচ্ছে। অন্য জেলা ও উপজেলা শহরেও একই চিত্র। এসব দপ্তরের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভবনের পরিবর্তে একই স্থানে পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ করলে দাপ্তরিক কাজের গতি দ্রুত ও সহজ হবে। গত বছর মার্চে ‘মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব জেলা সদরে মাদারীপুরের মতো সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণের নির্দেশ দেন। তারই অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলো।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, একনেক সভায় পাঁচ হাজার ১৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে চার হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে ৬৯৯ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সরকার। চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।  

গতকালের একনেক সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ভবন নির্মাণসংক্রান্ত আলাদা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি জোনে ৬০০ জন সুইপার ও ক্লিনার স্থানীয়ভাবে বসবাস করে। যদিও তাদের উন্নত আবাসস্থল নেই। তাদের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা নেই। অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় চারটি ভবনে ৫৪৯টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনের নিচতলা শিশুদের পাঠদানের উদ্দেশে স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসস্থল নির্মাণ, বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা ও শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নারায়ণগঞ্জ মহানগরের টানবাজার, ইসদাইর ও রিশিপাড়া এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি।

৯৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গতকালের সভায় বাংলাদেশের ‘২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা’ শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে ২৩টি পৌরসভার মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নত করা। একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এক হাজার ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ৯৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ৪৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলায় খুদবান্দি, সিংড়াবাড়ী ও শুভগাছা এলাকা সংরক্ষণ প্রকল্প।


মন্তব্য