kalerkantho


সরকারি চাকরি পেলেন দৃষ্টিহারা সিদ্দিকুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সরকারি চাকরি পেলেন দৃষ্টিহারা সিদ্দিকুর

রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানকে চাকরি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুরের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় ওষুধ প্রস্তুতকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানি

লিমিটেডে টেলিফোন অপারেটর পদে সিদ্দিকুর নিয়োগ পেয়েছেন। আগামী ১ অক্টোবর তিনি কর্মস্থলে যোগদান করবেন। নিয়ম অনুসারে প্রথম এক বছর অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করবেন এবং এক বছর পর তা স্থায়ী হবে। এখন মাসে বেতন পাবেন ১৩ হাজার টাকা করে এবং এক বছর পর থেকে পাবেন ২৩ হাজার টাকা করে। সঙ্গে বিধি অনুসারে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি তাঁর লেখাপড়া ও চিকিৎসা চলবে সরকারি সহায়তায়।

নিয়োগপত্র সিদ্দিকুরের হাতে তুলে দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্দিকুরের ঘটনাটি অনেক কষ্টের ও  বেদনাদায়ক। তবে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিতে পারাটা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক। ’ তিনি বলেন, চোখ রক্ষা করতে সিদ্দিকুরের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। এখনো সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। ’ সিদ্দিকুর এ সময় তাঁর চিকিৎসাসহ অন্যান্য বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এবং তাঁর পাশে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, পরীক্ষার রুটিন ও তারিখ ঘোষণাসহ কয়েকটি দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলে চোখে গুরুতর আঘাত পান তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। তাঁকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পরে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু এতেও তাঁর ডান চোখ রক্ষা করা যায়নি। বাঁ চোখও প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছে।


মন্তব্য