kalerkantho


ঢাকায় খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি

পাইকারিতে কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় খুচরা বাজারে চালের দাম কমেনি

দুই দফা বন্যা ও ব্লাস্ট রোগে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরকারি গুদামে চালের মজুদ কমে যাওয়ায় চাল ব্যবসায়ীরা অস্থির করে তুলছেন চালের বাজার। ফলে সবচেয়ে মোটা চালের কেজিও গিয়ে ঠেকেছে ৫০ টাকায়।

ভালো মানের চাল কিনতে গেলে কেজিতে খরচ পড়ছে ৭০ টাকা। এ অবস্থায় মঙ্গলবার চাল ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর আশ্বাস দেন। এরপর গতকাল বুধবার ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে চালের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা করে কমেছে। তবে পাইকারিতে কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব সেভাবে পড়েনি।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো সেভাবে চালের দাম কমেনি। প্রথমে মিলগেটে চালের দাম কমলে এর প্রভাব দ্রুতই পড়ে পাইকারি বাজারে। পাইকারি বাজার থেকে চাল খুচরা বাজারে নিয়মিত গেলেও সেখানে প্রভাব পড়তে বেশ সময় লাগে। কারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে আগের কেনা চাল রয়ে গেছে বলতে বলতেই খানিকটা সময় নেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বুধবার (গতকাল) পর্যন্ত আগের দামেই চাল বিক্রি হয়েছে।

দু-এক দিনের মধ্যে চালের দাম কেজিতে কিছুটা কমতে পারে।

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির পাইকারি বিক্রেতা নাজির জানান, বুধবার বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা করে কমেছে। দু-এক দিনের মধ্যে দাম আরো কমবে। একই কথা জানান রাজধানীর কৃষি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা মো. সামছুজ্জামান। তিনি বলেন, বুধবার সব ধরনের চালেই কেজিতে এক থেকে তিন টাকা পর্যন্ত কমেছে। শনিবার নাগাদ দাম আরো কমবে।

কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালের বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা এখন আর ব্যবসায়ীদের কথায় ভরসা রাখতে পারছে না। অনেকে এই অস্থিরতায় সামর্থ্য অনুযায়ী চাল কিনে রাখছে বলে জানা গেছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের এক খুচরা দোকানির সঙ্গে কথা বলার সময় পাশ থেকে সবজি কিনতে থাকা ক্রেতা আরিফ হোসেন বললেন, ‘বিশ্বাস নেই, যা শুরু হইছে। এখন তো মোটা চাল ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কদিন পরে দেখা যাবে আরো বেড়ে গেছে। তাই আমি দুই বস্তা কিনে রাখছি। প্রায় দুই মাস আর চাল কিনতে হবে না। ’

চাল বিক্রেতা কবির হোসেনও জানালেন, গত এক সপ্তাহে যাঁরা পাঁচ-দশ কেজি করে চাল নিতেন, তাঁদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এক বস্তা বা এরও বেশি করে চাল কিনেছেন। দাম আরো বাড়তে পারে—এই ভয়েই চাল কিনে রাখছেন অনেকে। একই কথা জানালেন শুক্রাবাদ কাঁচাবাজারের চালের খুচরা বিক্রেতা শাওন মিয়া, ‘গত কয় দিন আমার দোকান থেকে অন্তত পাঁচ-ছয়জন খুচরা ক্রেতা চালের বস্তা কিনে নিয়ে গেছেন। ’

খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলেও খুচরা বাজারে বর্ধিত মূল্যেই চাল বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের চিকন চাল ৬২ থেকে শুরু করে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ভালো মানের

নাজির বা মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা কেজিতে। আর সাধারণ মানের নাজির, মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৫ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া পাইজাম চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। আর সাধারণের মোটা চাল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনো কোনো দোকানি মোটা চালের দাম ৫২ টাকাও নিচ্ছেন।


মন্তব্য