kalerkantho


নবীনবাগের দুঃখ বেহাল সড়ক

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নবীনবাগের দুঃখ বেহাল সড়ক

খিলগাঁওয়ের নবীনবাগ সড়কের এমন দশা দীর্ঘদিন ধরে, কিন্তু দেখার কেউ নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) খিলগাঁও এলাকার নবীনবাগের প্রধান সড়কটি দেড় বছর ধরেই এলকাবাসীর কাছে ‘আতঙ্কের নাম’। তিতাস রোডের মোড় থেকে সিপাইবাগের সঙ্গে মিলিত হওয়া এ সড়ক একদিকে যেমন ভাঙাচোরা, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি জমে তলিয়ে রয়েছে।

চলাচলে নিত্যদুর্ভোগ তো আছেই, তার ওপর সড়কের দুই পাশে থাকা শতাধিক দোকানের অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী বলছে, এ সড়ক ঘিরে যাদের বাসাবাড়ি আছে তারা নিজেদের উদ্যোগে সড়কের গর্ত ভরাট করছে। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে আমাদের অনেক রাস্তাই ভেঙেছে। এগুলো তাত্ক্ষণিক মেরামতের জন্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ে তা ঠিকঠাক করে দেওয়া যাবে। ’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীনবাগের এ প্রধান সড়কের বেশির ভাগ অংশের ভগ্নদশা। সড়কের বিটুমিন উঠে কমপক্ষে ১০টি স্থানে বড় আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে ম্যানহোলের স্লাব ভেঙে তৈরি হয়েছে ‘মরণফাঁদ’।

পথচারী বা যানবাহন যাতে ম্যানহোলে না পড়ে সে জন্য স্থানীয় লোকজন বাঁশের চাটা দিয়ে রেখেছে।

তিতাস রোড থেকে নবীনবাগের সড়কটিতে প্রবেশ করতেই প্রথম চায়ের দোকানটি বাবুল মিয়ার। তিনি গতকাল দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বনশ্রী-রামপুরা এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠী এ সড়কে চলাচল করে। কিন্তু এক বছর ধরে সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। আর একটু বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। সড়কে কোমর পানি জমে যায়। আমার চায়ের দোকানও বন্ধ রাখতে হয়। ’

প্রায় ১০০ ফুট জায়গাজুড়ে ‘হোয়াইট স্টোন ডেভেলপমেন্ট লি.’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের ফলে সড়কটি ভেঙে গেছে। সেখানে তারা বাঁশের খুঁটি পুঁতে রাস্তার মাটি আটকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তা ভাঙার কারণেই এখানে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলে এ সমস্যা থাকবে না। আর এ রাস্তা যদি সিটি করপোরেশন থেকে মেরামত করে না দেয় তাহলে এখানে কেউ ফ্ল্যাট কিনতে আসবে না। আমরা এখানে বিনোয়োগ করে অনেকটা বিপাকে আছি। ’ এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় মাঝামাঝি কালাম স্টোরের সামনে এসে আটকে যেতে হয়। সেখানে ম্যানহোলের একটি বড় স্লাব ভেঙে সড়কের অর্ধেক অংশই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মেট্রো গ-৩৩-৬৯১৩ নম্বরের একটি প্রাইভেট কার এ অংশ পার হওয়ার সময় গর্তে পড়ে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাড়িটি গর্ত থেকে ওঠানো হয়।

নবীনবাগের বাসিন্দা সাগর হোসেন বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলে আমরা ১০ থেকে ১৫ দিন পানিবন্দি থাকি। সিটি করপোরেশনের আওতায় হলেও কোনো সেবা পাচ্ছি না। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা আর কত দিন থাকবে তাও বলতে পারছি না। ’ নবীনবাগের ৬৪/৬/ঘ নম্বর ফাতেমা স্টোরের সামনেও সড়কটিতে বিশাল একটি গর্ত। সেখানে রাস্তা ভেঙে তিন-চার ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা হাবিবুল্লাহ মৃধার বাড়ির সামনেও। সেখানে ১৫ ফুট রাস্তার অর্ধেকই চলাচলের অনুপযোগী। আর যেটুকু দিয়ে যাতায়াত করা যায় তা-ও জলমগ্ন হয়ে আছে। এতে করে রিকশা চলাচল করলেও চালককে নেমে রিকশা টেনে নিয়ে সাবধানে পার হতে হয়। পুলিশের একটি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সড়কের এ অংশের অনেকটাই ভেঙে গেছে।

নবীনবাগ জামে মসজিদের গলির প্রবেশমুখে অ্যাড মিডিয়া ইন্টেরিয়র নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দেখা যায়, প্রায় ৫০ ফুট রাস্তাজুড়ে পানি জমে আছে। যানবাহন পানির নিচে থাকা গর্তের মধ্যে পড়ছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায়, ভ্যানগাড়িতে করে বাসাবাড়ি থেকে পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী নিয়ে আসছে স্থানীয় লোকজন। এসব ফেলে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। আশপাশের বাসিন্দারাও ইট-সুরকি এনে গর্ত ভরাটে সহযোগিতা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, ছয় মাস ধরে তাঁরা এ সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে আশপাশের বাসাবাড়ি থেকে পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রী এনে গর্ত ভরাট করছেন। ভ্যান ভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে তাঁরা রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে থাকেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সড়কের কারণে গত এক বছরে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় লোক চলাচল অর্ধেক হয়ে গেছে। আর যারা ছোট যানবাহন নিয়ে চলাচল করেছে তাদের বেশির ভাগই গর্তে পড়ে ময়লা পানিতে হাবুডুবু খেয়েছে। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীদের অনেকে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ডিএসসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আগামী ২০ দিনের মধ্যে টেন্ডারের কাজ চূড়ান্ত করব। আশা করছি, তিন মাসের মধ্যে এ সড়কের কাজ শেষ করতে পারব। ’


মন্তব্য