kalerkantho


ছয় মাস পর দৃশ্যমান হবে উড়াল রেলপথ

দিয়াবাড়ীতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন সড়কমন্ত্রী

পার্থ সারথি দাস   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ছয় মাস পর দৃশ্যমান হবে উড়াল রেলপথ

উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মেট্রো রেলের কার্যক্রম পরিদর্শনে ওবায়দুল কাদের। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতুর পর এবার ধীরে ধীরে দেশের প্রথম মেট্রো রেল দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। রাজধানী ঢাকার উত্তরা থেকে পল্লবী হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল রেলপথটি পিলারের ওপর দাঁড় করানোর কাজ শুরু হবে উত্তরা অংশ থেকে এবং তা হবে ছয় মাসের মধ্যে।

উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত রেলপথের প্রথম অংশ ২০১৯ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন। এরই মধ্যে ট্রেন কেনার জন্য ক্রয়চুক্তি হয়ে গেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।  

গতকাল বুধবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী প্রকল্পের দিয়াবাড়ী অংশের কাজ পরিদর্শন করেছেন। প্রকল্প এলাকা ঘুরে সড়কমন্ত্রী বলেন, ছয় মাসের মধ্যে মেট্রো রেল দৃশ্যমান হবে। এর সার্বিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ শতাংশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দিয়াবাড়ী, পল্লবী, আগারগাঁওয়ে কাজ চলছে বিরামহীন। গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের পর প্রকল্পের কাজ কিছুটা থমকে ছিল। তবে জাইকার অর্থায়ন বন্ধ হয়নি। এখন কাজ চলছে পুরোদমে।

সড়কমন্ত্রী বলেছেন, জাইকার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে তুলনা করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর পর পদ্মা সেতু যেভাবে দৃশ্যমান, মেট্রো রেলও আগামী ছয় মাসের মধ্যে একইভাবে দৃশ্যমান হবে। গতকাল দুপুর প্রায় ১টায় রাজউকের আওতাধীন এবড়োখেবড়ো সড়ক ধরে সড়কমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় যান। গিয়েই প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, ২০১৯ সালে উত্তরা থেকে আগরগাঁও অংশ এবং পরের বছর মতিঝিল পর্যন্ত রেলপথ চালু হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা গণপরিবহন কম্পানির তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তব রূপ নিতে চলেছে।

প্রকল্পের কাজ আটটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের থাইল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি ২, ৩ ও ৪ নম্বর অংশ বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার কাজের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে গত ৩ মে। প্রকল্পের আটটির মধ্যে অংশ-২-এর আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ীর ষোলহাটিতে ডিপো তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে নির্মাণ করা হবে বিরতিতে ট্রেন রাখার স্থান স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, ট্রেন মেরামত ও ওভারহোলিংয়ের মালামাল রাখার গুদাম, কারখানা, ট্রেন পরিচালনার কেন্দ্র, জেনারেটর ভবন, ট্রেন পরিষ্কার রাখার স্থাপনা, বহুতল গাড়ি পার্কিং। এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। এ অংশে এ যাবৎ আর্থিক অগ্রগতি ১০ শতাংশ।

৩ ও ৪ নম্বর অংশে চার হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উড়ালপথ ও ৯টি স্টেশন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে পুরো প্রকল্পের। তার মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেবে জাইকা। পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। মেট্রো রেল পরিচালনা করবে ঢাকা গণপরিবহন কম্পানি। পুরো পথে স্টেশন থাকবে ১৬টি। থাকবে ২৪ সেট ট্রেন। প্রতিটি সেটে ছয়টি করে গাড়ি থাকবে। ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এ রেলপথ। গত ২ আগস্ট সড়কমন্ত্রী এ দুটো অংশের কাজ উদ্বোধন করেন। এ অংশে আর্থিক অগ্রগতি ১৯ শতাংশ।

উত্তরা তৃতীয় পর্বে ডিপো নির্মাণের জন্য ২৩ দশমিক ৮৪ হেক্টর জমি রাজউক থেকে বরাদ্দ মিলেছে। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে ডিএমটিসিএলের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করেছিল গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ শেষ হয়েছে ৭২ শতাংশ।

অংশ ৫ ও ৬-এর আওতায় রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে গত ১৩ জুলাই। ৭ নম্বর কাজ হলো ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম স্থাপন। তার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে।

৮ নম্বর অংশ হলো ট্রেন ও ডিপোর সরঞ্জামাদি কেনা। এ জন্য জাপানের কাওয়াসাকি মিতসুবিশির সঙ্গে ক্রয়চুক্তি হয়েছে। এ অংশে আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ। এ অংশের বাস্তব কাজ আগামী মাসে শুরুর কথা রয়েছে।

পুরো প্রকল্প ও তার পাশের এলাকা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২ লাখ ৭৩ হাজার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। রেলপথের অবকাঠামো নির্মাণ পুরোদমে শুরু হলে প্রথম দিকে পল্লবী থেকে আগারগাঁও অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হবে। সে কারণে নির্মাণকালে সড়কে যানবাহনের চাপ কমাতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে ডিএমটিসি। সরকারি দপ্তরে কাজ এক ঘণ্টা এগিয়ে সকাল ৯টার পরিবর্তে ৮টায় শুরু ও বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় শেষ করার সুপারিশ করা হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ সময়সূচি এক ঘণ্টা পিছিয়ে সকাল ১০টায় শুরু ও সন্ধ্যা ৬টায় শেষ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকালের শিফট সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেলের শিফট দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত করার সুপারিশ রয়েছে।

নির্মাণ এলাকায় রিকশা-ভ্যানসহ সব ধরনের অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল ও সড়কে পার্কিং বন্ধ, মিরপুর ১০ নম্বর চত্বরের সক্ষমতা বাড়ানো, বাস রাখার স্থান নির্দিষ্ট করা, পল্লবী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরের সুপারিশও করা হয়েছে। ডিটিসিএ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেলওয়েসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় দরকার।

সহিংসতা করলে উপযুক্ত জবাব তারা পাবে

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিরোধীদের আন্দোলন করার সক্ষমতা নেই। আর সহিংসতা করলে উপযুক্ত জবাব তারা পাবে।

জামায়াতের হরতাল প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হরতাল সহিংস রূপ নিলে জবাবও হবে সে রকম। তিনি বলেন, সহিংসতার মধ্য দিয়ে কোনো আন্দোলন সফল করা যায় না, সেটা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতিতে প্রমাণ হয়ে গেছে। বিএনপি ও তার সহযোগীরা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উনি হতাশ হয়ে চোখের জল ফেলছেন। দলের চেয়ারপারসন কবে আসবেন তা কেউ জানে না। তাই তিনি কখনো এটা, কখনো সেটা বলে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন। ’

প্রধান বিচারপতিকে কি জোর করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উনি তো মেরুদণ্ডহীন নন। জোর করে বিদেশে পাঠানো হলে উনি নিজেই বলতেন। ’


মন্তব্য