kalerkantho


দাবি অনুযায়ী বাড়ছে না কমিশন

ওএমএস ডিলাররা নাখোশ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

শওকত আলী   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ওএমএস ডিলাররা নাখোশ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ডিলারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বাড়ছে খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) পণ্যের কমিশন। তবে দাবির তুলনায় তা বেশ কম বলে এতেও নাখোশ ডিলাররা।

এমনকি দাবি পুরোপুরি মানা না হলে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

ওএমএস কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় ওএমএসের ডিলারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চালে কেজিপ্রতি কমিশন দেড় থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা এবং আটায় এক টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই টাকা করার সুপারিশ করেছে। সম্প্রতি এ সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু চাল ও আটা—উভয় পণ্যে ডিলাররা কমিশন দাবি করেছে কেজিপ্রতি সাড়ে চার টাকা করে।

ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরা খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন মন্ত্রী তাঁদের আন্দোলন থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে বলেন। মন্ত্রী ডিলারদের জানিয়েছেন, এরই মধ্যে চালে ৫০ পয়সা এবং আটায় এক টাকা পর্যন্ত কমিশন বাড়িয়ে দেওয়ার সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে ডিলাররা এতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

ওএমএস ডিলার সমিতির সভাপতি আলমগীর সৈকত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রথমবার আন্দোলনে যেতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য ডেকেছিলেন। তিনি আমাদের যে হারে কমিশন বাড়ানোর কথা বলেছেন, সেটা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। ’ তবে তিনি বলেন, এখনই তাঁরা আন্দোলনে যাচ্ছেন না। কমিশন বাড়ানোর যে প্রস্তাবের কথা মন্ত্রী বলেছেন, সেটাই বাস্তবায়ন হলে তখন তাঁরা আন্দোলনে যাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি প্রস্তাব এসেছে। আমরা সেটা যাচাই-বাছাই করছি। ’

ডিলারদের দাবি, তারা যে পরিমাণ কমিশন পায় তাতে তাদের পোষাচ্ছে না। কারণ প্রতিটি ডিওতে (এক টন চাল ও এক টন আটা মিলে একটি ডিও) তারা মোট আড়াই হাজার টাকা কমিশন পায়। এর মধ্যে চালে দেড় হাজার ও আটায় এক হাজার টাকা। অথচ তাদের প্রতিদিনের ট্রাক ভাড়াই রয়েছে তিন হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুজন কর্মচারীর এক হাজার টাকা বেতন যোগ করলে লোকসানের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার বলেন, ‘আতপ চাল নিয়ে আমরা আরো বিপদে পড়েছি। বিক্রিই হয় না। কারণ ঢাকার মানুষ আপত চালে অভ্যস্ত না। তার পরও সরকারের কাজে সহযোগিতা করার জন্যই বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছি। সিদ্ধ চাল হলে হয়তো কেউ খুশি হয়ে কিছু টাকা বেশি দেয়। কিন্তু আতপ চাল বিক্রি করতে উল্টো অনেক বোঝাতে হয়। ’

গত ১৭ সেপ্টেম্বর খোলা বাজারে আতপ চাল বিক্রি শুরুর পর থেকেই ডিলারদের মধ্যে অনীহা দেখা গেছে। গত শনিবার ও গতকাল রবিবার তাদের ধর্মঘটে যাওয়ার কথা ছিল। তবে খাদ্য অধিদপ্তর মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে ওই কর্মসূচি থেকে সরে আসে ডিলাররা।

দেশে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় খোলা বাজারে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় আতপ চাল বিক্রি শুরু করে সরকার। এ ছাড়া ১৭ টাকা দরে আটাও বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ৮৬টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য