kalerkantho


অতিবৃষ্টিতে ধানমণ্ডি লেক উপচে গেছে

তলিয়ে গেছে ওয়াকওয়ে রবীন্দ্রসরোবর

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



তলিয়ে গেছে ওয়াকওয়ে রবীন্দ্রসরোবর

কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে রাজধানীর ধানমণ্ডি লেক উপচে ওয়াকওয়ে ও রবীন্দ্রসরোবর পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকায় মাটি নরম হয়ে ইতিমধ্যে বড় একটি বটগাছও উপড়ে পড়েছে।

দর্শনার্থী ও প্রাতর্ভ্রমণকারীরা এই মুহূর্তে নগরীর অক্সিজেনের ট্যাংক খ্যাত লেকটি ব্যবহার করতে পারছে না। লেকে কৃত্রিম উপায়ে নিষ্কাশন পদ্ধতি না থাকায় পানি শুকাতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বেশি পানি বেড়েছে। ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনে টানা বৃষ্টির ফলে লেকে পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ লেকটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে পানি সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। এখানে বাইরের পানি প্রবেশ ও ভেতরের পানি বাইরে পাম্প করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই পানি শুকানো পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ’

জানা যায়, সবুজ গাছগাছালি বেষ্টিত লেকটি এই মুহূর্তে পানিতে কানায় কানায় ভরে আছে। পানিতে অনেক ময়লা-আবর্জনা ভাসছে।

বেশির ভাগ ওয়াকওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। লেকের অংশে থাকা রবীন্দ্রসরোবরও ডুবে আছে। ধীরে ধীরে পানি কমতে থাকলেও ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এর মধ্যে লেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। সেখানে থাকা রেস্টুরেন্টগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি কম। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে লেকে যাওয়া প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আর এখনো লেকটি জলমগ্ন হয়ে থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রবীন্দ্রসরোবর থেকে দক্ষিণ দিকে থাকা গণশৌচাগারের পাশে একটি বড় আকারের বটগাছ উপড়ে পড়ে গেছে। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় আরো কিছু গাছের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।

লেকের দায়িত্বে থাকা ডিএসসিরি সহকারী প্রকৌশলী (জোন-১) সাইফুল ইসলাম জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাধারণত বৃষ্টির পানি বাইরে থেকে ধানমণ্ডি লেকে প্রবেশ করে না। কিন্তু গত কয়েক দিনের মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পানি উপচে গিয়ে (ওভারফ্লো) লেকে পড়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘এ লেকে পানি নিষ্কাশনের কোনো পাইপ বা পাম্পিং পদ্ধতি নেই। ওয়াকওয়ে ও রবীন্দ্রসরোবর থেকে পানি নামতে আরো দু-এক দিন সময় লাগবে। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ’

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ১৯৫৬ সালে ২৪০ দশমিক ৭৪ হেক্টর জমিতে ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠে। এ মোট জমির ১৬ শতাংশ ধানমণ্ডি লেকের জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় লেকটি দিন দিন সৌন্দর্য হারাচ্ছে। লেকের পানিতে রেস্টুরেন্টের বর্জ্য আর স্থানীয় বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পানির স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে।

লেকের পশ্চিম-দক্ষিণে রয়েছে ডাইনামিক ফুড কোর্ট নামের একটি রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটির চারপাশে আবর্জনা পড়ে আছে। লেকে দেদার ফেলা হচ্ছে নানা ধরনের আবর্জনা। রবীন্দ্রসরোবরের আশপাশেও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকে। লেকের উত্তর-পশ্চিমাংশে বাসাবাড়ির পরিত্যক্ত নির্মাণসামগ্রীও ফেলা হচ্ছে। কলাবাগানের অংশে কিছুটা ভরাট করায় লেকের পূর্বের অংশ সরু হয়ে গেছে। যদিও ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ধানমণ্ডি লেক দেখভালের জন্য ১০ জন্য কর্মী রয়েছে। তাঁদের নিয়মিত পরিষ্কারকাজ করতে দেখা যায় না।


মন্তব্য