kalerkantho


মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

উপকর থেকে আখ চাষিরা রেহাই পাচ্ছে, আবহাওয়া আইন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উপকর থেকে আখ চাষিরা রেহাই পাচ্ছে, আবহাওয়া আইন হচ্ছে

ছবিঃ কালের কণ্ঠ

একসময় চিনিকল এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে আখ চাষীদের প্রতিবিঘা উৎপাদন হারে উপকর দিতে হতো। এ নিয়ে রীতিমতো আইন করে গিয়েছিল তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার।

কিন্তু এত বছরেও আইনটির সংস্কার করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এ বিষয়ে আখ চাষিদের করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আইনটি রহিত করার পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ১৯৮২ সাল থেকে ৩৫ বছর ধরে ট্যাক্স পরিশোধের ধারা অব্যাহত রাখার কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আয়কর পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে পরিচয়পত্রটি তুলে দেন।

গতকালের বৈঠকে আবহাওয়া আইন ২০১৭ এবং চিনি (রাস্তাঘাট উন্নয়ন উপকর) আইন ২০১৭-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের আগে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, রাজনীতির মহাকাব্য’ গ্রন্থের ই-বুক ও মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বইটি তাঁকে হস্তান্তর করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নির্বাচিত ২৬ বাক্যের ওপর বিশ্লেষণ করেছেন মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনসহ প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও লেখকরা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১৯৮২-৮৩ করবর্ষ থেকে নিয়মিতভাবে আয়কর দিয়ে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সে জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি স্বীকৃতিফলক তৈরি করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ১৯৬০ সালের চিনি অর্ডিন্যান্স রহিত করা হচ্ছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘পুরনো আইনটির আর প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন চিনিকল এলাকায় রাস্তাঘাট বিভিন্ন সংস্থা করে ফেলেছে। ফলে সুগার মিল এলাকার রাস্তাঘাট আর সুগার মিলের করার প্রয়োজন নেই। কৃষকের কাছ থেকে রাস্তাঘাটের উন্নয়নে উপকর নেওয়া মানে তাই হয়রানি। তাই নতুন আইন করা হচ্ছে। ’ বিদ্যমান আইনে প্রতি মণ আখে কৃষি কলেজ ও সুগার মিল এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে দুই টাকা ৫০ পয়সা করে কেটে নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতি গাড়ি আখের মোট মূল্যের সঙ্গে পয়সার অংশ থাকলে সেই অংশটুকু কেটে নিয়ে জমা করা হয় চাষিকল্যাণ সমিতির ফান্ডে। এর বাইরে প্রতি গাড়ি আখে শিওর ক্যাশের জন্য কেটে নেওয়া হয় ১০ টাকা। নতুন আইন পাস হলে এই টাকা আর কৃষককে দিতে হবে না।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, বাংলাদেশ ইউনেসকো নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে তৃতীয়বারের মতো। এ ছাড়া জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণ জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য দলিল হিসেবে ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে। সচিব আরো বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এত দিন অধ্যাদেশ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এখন আইন করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে এটাই হবে এ দেশে আবহাওয়া সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রথম কোনো আইনি কাঠামো। আবহাওয়া অধিদপ্তর আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে।


মন্তব্য