kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য

উদ্‌যাপন কর্মসূচি বছরব্যাপী

আবুল কাশেম   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উদ্‌যাপন কর্মসূচি বছরব্যাপী

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সম্প্রতি ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় ২৫ নভেম্বর সারা দেশে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার মানুষ সেদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোভাযাত্রা নিয়ে সমবেত হবে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীর বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একযোগে সকাল ১০টায় এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।

গত ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ১২ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে এক সভায় শোভাযাত্রার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। সূত্র মতে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মাহাত্ম্য দেশে-বিদেশে প্রচারে বিস্তৃত কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার।

সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীতে অনুষ্ঠেয় আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে ২০ সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উপকমিটি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর নির্মিত লেজার লাইট শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভার মঞ্চ নির্মাণের দায়িত্ব পালন করবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে। এর মধ্যে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বিকেল ৩টায় রওনা হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে মিলিত হবে।

আনন্দ শোভাযাত্রায় পুলিশ, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বর্ণাঢ্য বাদকদলের অংশগ্রহণ থাকবে।

ঢাকাসহ সারা দেশের আনন্দ শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ জন্য পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে বলেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আনন্দ শোভাযাত্রার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। তাতে ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্র মতে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দেশে-বিদেশে প্রচারের জন্য বিস্তৃত কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার। ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আমিও শুনেছি’ লেখাসংবলিত একটি পোস্ট-কার্ড প্রকাশ করবে ডাক বিভাগ। এর মাধ্যমে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ দিবসে সারা দেশের মানুষকে আনন্দ-উৎসবে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ওই দিন স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় সাবটাইটেল দিয়ে সিডি তৈরি করে জাতিসংঘের আগামী অধিবেশনে বিতরণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে বিভিন্ন দেশে সভা-সেমিনারের আয়োজন করবে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ ও ভাষণের ইংরেজি অনুবাদ, আলোকচিত্রসহ একটি পুস্তক প্রকাশ করা হবে, ভাষণের সিডি সাবটাইটেলসহ প্রকাশ করা হবে। এসব পুস্তিকা ও সিডি বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হবে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করবে বাংলা একাডেমি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীরা সেখানে আলোচক হিসেবে থাকবেন। একই সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে বিভিন্নজনের লেখাসংবলিত ইংরেজিতে মূল্যায়নধর্মী বই প্রকাশের উদ্যোগ নেবে বাংলা একাডেমি।

কর্মসূচির মধ্যে আরো রয়েছে দেশের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারে প্রতিটি জেলা, উপজেলায় ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ’ শিরোনামে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর কনসার্টের আয়োজন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এসব কনসার্ট আয়োজন করবে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু ও ৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ে শিশুতোষ পুস্তক সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ মার্চের ভাষণের ওপর রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ ও সাধারণ জ্ঞান

প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন।

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদরাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য সম্পর্কে এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হবে। এ জন্য বাংলা ও ইংরেজিতে সহজবোধ্যভাবে তিন-চার পৃষ্ঠার একটি লেখা প্রস্তুত করবেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. সহিদুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ অর্জন নিয়ে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ‘বিশেষ পাঠদান’ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ৭ মার্চের ভাষণের কপিসংবলিত একটি ‘তথ্যফলক’ সংরক্ষণ করা হবে। শিল্পী হাশেম খান তথ্যফলকের ডিজাইন করে দেবেন। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলকটি বাঁধাই করে এমন স্থানে স্থাপন করবে যাতে শিক্ষার্থীদের দেখা ও পাঠ করা সম্ভব হয়। একইভাবে প্রতিটি গ্রন্থাগারেও ভাষণের কপি সংরক্ষণ করা হবে। সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক সভা আয়োজন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এটি বাঙালি জাতির এক অনন্য অর্জন। অসামান্য এ অর্জনকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য