kalerkantho


রাজশাহীতে বহুতল ভবন নির্মাণে চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাজশাহীতে বহুতল ভবন নির্মাণে চাঁদা দাবির অভিযোগ

রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় এক চিকিৎসকের একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের জন্য ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাসরিন আক্তার ডটি নামের চিকিৎসক সোমবার রাতে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ওই দিন দুপুরে ১৫-২০ জনের একটি দল চাঁদার দাবিতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ তত্ত্বাবধায়ক মিলন হোসেনকে (২৮) মারধর করেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার ডটি বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

মারধরের শিকার মিলন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে কাদিরগঞ্জ এলাকায় চিকিৎসক নাসরিন আক্তার ডটি নিজের সম্পত্তিতে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় ১৫-২০ জন যুবকের একটি দল ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে ওই নির্মাণাধীন ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মিলনকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এ সময় ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। কিন্তু কাজ বন্ধ করতে রাজি না হওয়ায় ওই যুবকরা মিলনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং শ্রমিকদের অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে প্রাণভয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে মিলন পালিয়ে পাশেই চিকিৎসক ডটির পুরনো বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর চাঁদা দাবিকারী যুবকরা সেখান থেকে চলে যায়।

চিকিৎসক নাসরিন আক্তার ডটি কালের কণ্ঠকে সোমবার অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন যুবক কয়েক দিন ধরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে আসছিল। ভবন নির্মাণ করতে হলে তাদের ওই চাঁদা দিতে হবে বলে কয়েক দিন ধরে সেখানে গিয়ে কেয়ারটেকারকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই মধ্যে আজ (সোমবার) দুপুরে এসে তারা মিলনকে মারপিট করে কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে কারা এই কাজ করেছে, তাদের আমি কাউকে চিনি না। মারপিটের শিকার মিলনও কাউকে চিনতে পারেনি। ’

নাসরিন আক্তার ডটি বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করেছি। ’

তবে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন ভবন নির্মাণকাজ চলছে। ’


মন্তব্য