kalerkantho


বনানীতে অফিসে ঢুকে মুখোশধারীদের গুলি

জনশক্তি রপ্তানিকারক নিহত, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জনশক্তি রপ্তানিকারক নিহত, আহত ৩

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর বনানীতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘এমএস মুন্সী ওভারসিজ’ নামের একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে (রিক্রুটিং এজেন্সি) মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নিহত এবং তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। নিহতের নাম সিদ্দিক হোসেন মুন্সী (৫৫)।

আহতরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোস্তাক হোসেন (৪০), জনশক্তি কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. পারভেজ (৩৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রাতে চার মুখোশধারী (ধুলা প্রতিরোধকজাতীয় ছোট মুখোশ) বনানীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ‘এমএস মুন্সী ওভারসিজ’-এ ঢুকে চারজনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সিদ্দিক হোসেন। আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সিদ্দিককে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে মোখলেসুর ও পারভেজের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এদিকে অভিজাত ও স্পর্শকাতর এলাকায় গুলি করে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনার পর পুরো গুলশান-বনানী এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তাক বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে তাঁরা অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় ছোট আকারের মুখোশ পরা চার ব্যক্তি অফিসে ঢুকেই সিদ্দিককে লক্ষ্য করে গুলি করে।

এরপর অন্য তিনজনকেও গুলি করে। হামলাকারীদের তিনজনের হাতে অস্ত্র ছিল (পিস্তল বা রিভলবার)। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

বানানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, বি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১১৩ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ‘এমএস মুন্সী ওভারসিজে’ দুর্বৃত্তরা ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের ব্যাপারে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

তবে পুলিশ ও প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আর্থিক লেনদেন এবং সিদ্দিক হোসেনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে একটি গ্রুপ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। লেনদেনের বিরোধের জেরে সম্প্রতি উত্তরা পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সিদ্দিক। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গতকাল রাতে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিদ্দিক হোসেনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এস এম মোশতাক আহমেদ বলেন, ‘কী কারণে এ হামলা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখানে ব্যক্তিগত বা অন্য বিষয়ও থাকতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরাও কাজ করছেন। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ’

জানা গেছে, নিহত সিদ্দিক হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী। তিনি উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের বাসায় এক ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। আহত মোস্তাক তাঁর অফিসের ব্যবস্থাপক। মোখলেস ও পারভেজ দুটি শাখায় কাজ করেন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, সিদ্দিক মুন্সী দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। কারা কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।


মন্তব্য