kalerkantho


৬ কোটি টাকা নিয়ে অফিসে তালা

► অগ্রণী এমএলএম কম্পানির পরিচালক রিমান্ডে
► অর্ধশত এমএলএম কম্পানির বিরুদ্ধে মামলা চলছে
► এখনো টাকা দিচ্ছে অসচেতন মানুষ

এস এম আজাদ   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



৬ কোটি টাকা নিয়ে অফিসে তালা

বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার অগ্রণী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সমবায় সমিতির মতো জামানত সংগ্রহের আড়ালে এই প্রতিষ্ঠানটি বহুস্তর বিপণন কম্পানির (এমএলএম) কাজ করছিল।

প্রায় এক হাজার ২০০ গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তারা নিজেদের নামে জমি ও বাড়ি-গাড়ি কিনেছেন। এরপর অফিসে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন তাঁরা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংঘবদ্ধ অপরাধ ইউনিট ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত সোমবার রাজধানীর রমনার মধুবাগ এলাকা থেকে হাবিবুর রহমান (৩৯) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন প্রভাবশালী জড়িত। তাঁরা সমিতি খুলে এমএলএম কৌশলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করে গা ঢাকা দিয়েছেন।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে নিষিদ্ধ হলেও এমএলএম কারবার বন্ধ হয়নি। এখনো অসচেতন মানুষ এমএলএম প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

সিআইডি এমন অর্ধশত মামলার তদন্ত করছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্লা নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো সমিতিতে এফডিআরের নামে এমএলএম কারবার চলছে। সাধারণ মানুষ বেশি লাভের আশায় নিজে টাকা দিচ্ছে। অন্যের টাকা নিয়ে দিচ্ছে। কিছু লোক টাকা মেরে সটকে পড়ছে। সিআইডির তদন্ততাধীন শতাধিক মামলার অর্ধেকই এমএলএম কম্পানির জালিয়াতির। ’ তিনি আরো বলেন, ‘তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকারই এক হাজার ২০০ সাধারণ মানুষ অগ্রণী নামের ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা দিয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানের কর্তারা পাঁচ-ছয় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হন। হাবিবুর রহমান ছাড়া অন্য যাঁরা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

সিআইডি সূত্র জানায়, অগ্রণী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির কার্যক্রম তেজগাঁও শিল্প এলাকায় হলেও মতিঝিলের সাব্বির কোর্টের তৃতীয় তলায় অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে। চলতি বছরের ১৩ জুন মতিঝিলের ওই কার্যালয়টি বন্ধ করে গা ঢাকা দেন প্রতিষ্ঠানের কর্তারা। লাখ লাখ টাকার জামানত হারিয়ে এবং গ্রাহকদের চাপে সদস্যরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে কোহিনুর বেগম নামের একজন জানান, তিনি দুটি পলিসির মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা জমা রাখেন। হঠাৎ একদিন অফিসে গিয়ে দেখেন তালা ঝুলছে। এরপর কাউকে পাচ্ছিলেন না তিনি। এরপর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম কাইয়ুম জিলানী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল হকসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। কাইয়ুমের বাসা শান্তিনগর এলাকায়। আর এহসানুল হক একটি ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তেজগাঁও থানার মামলাটির তদন্ত করে হাবিবুর রহমানকে শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাওয়া অন্য কর্মকর্তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আসামিরা সমিতির নামে টাকা নিয়ে পরে উধাও হয়ে যান। তাঁদের নিজেদের নামে জমি ও সম্পদ আছে। হাবিবুর মামলার ৩ নম্বর আসামি। প্রধান দুই আসামির ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তাঁরা পলাতক। ’

সিআইডির সূত্র জানায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পর যুবক, ইউনিপেটুসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে এমএলএম বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। এখন ৫০টিরও বেশি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি।


মন্তব্য